পরিবেশের উপাদান (Environmental Factors) রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

পরিবেশের উপাদান Environmental Factors রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

পরিবেশ বলতে কি বোঝায় ? পরিবেশ পাঠের প্রয়োজনীয়তাগুলি উল্লেখ কর।

কোন জীবের চারপাশে জীবটির উপর ক্রিয়া প্রতিক্রিয়াকারী এবং প্রভাব বিস্তারকারী সমস্ত সজীব ও জড় পদার্থ সকলকে একত্রে ঐ জীবের পরিবেশ বলা হয়।

পৃথিবীর পরিমন্ডলে আমাদের ঘিরে আছে বিভিন্ন জড় ও সজীব পদার্থ। এই জড় পদার্থের মধ্যে যেমন রয়েছে জল, বায়ু, মাটির বিভিন্ন উপাদান তেমনি আছে সজীব প্রাণী। অতিক্ষুদ্র জীবাণু থেকে বিভিন্ন পশুপাখি। পাহাড়-পর্বত, নদী, সমুদ্র এবং পৃথিবী ও তার বায়ুমন্ডলের উপরিস্তরে অবস্থিত সমস্ত রকমের জড় ও সজীব পদার্থ পরিবেশের উপাদান।

পরিবেশ পাঠের প্রয়োজনীয়তা :

পরিবেশ সংরক্ষিত হলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। পরিবেশ পাঠের দ্বারা আমরা পরিবেশের ক্রিয়াকৌশল জানতে পারি; পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পারি। পরিবেশ শিক্ষার দ্বারা আমরা যে বিভিন্ন রকম জ্ঞানলাভ করতে পারি ও সেই জ্ঞানলাভের প্রয়োজনীয়তাগুলি নীচে আলোচনা করা হল।

(i) প্রকৃতি ও পরিবেশের কোন ভারসাম্য বিঘ্ন হওয়ার ফলে যে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে তার অনুধাবন ও বিচার বিশ্লেষণ অবশ্য প্রয়োজনীয়

(ii) পরিবেশ পাঠের দ্বারা বিভিন্ন পরিবেশগত রোগের কারণ, রোগের প্রতিকার বা রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা সম্পর্কে জানা যায়।

(iii) এই পরিবেশে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ, উদ্ভিদ থেকে শুরু করে বৃহদাকার প্রাণী বা উদ্ভিদ কেউই অবাঞ্ছিত বা মূল্যহীন নয়। প্রকৃতির রাজ্যে সমস্তজীব ও জড়পদার্থ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একে অপরের সঙ্গে এক অদৃশ্য বন্ধনে যুক্ত। বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ, সমুদ্র সংরক্ষণ, জলাভূমি সংরক্ষণ প্রভৃতি আমরা পরিবেশ পাঠের মাধ্যমে জানতে পারি।

(iv) শিল্প বিপ্লবের ফলে উৎপন্ন বিভিন্ন ক্ষতিকর বর্জ্যপদার্থের সঠিকভাবে অপসারণ ও বর্জ্য পদার্থজনিত ক্ষয়ক্ষতি থেকে আমরা কিভাবে রেহাই পেতে পারি তা পরিবেশ পাঠের মাধ্যমে জানা যায়।

(v) কোন অঞ্চলের জল-মাটি-বায়ুদূষণের চিত্র ও তার বিশ্লেষণ পরিবেশ শিক্ষার মাধ্যমেই জানা সম্ভবপর হয়। এর ফলে ভবিষ্যতে এই সমস্ত দূষণ জনিত ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়।

(vi) পরিবেশ সম্বন্ধে শিক্ষা দিয়ে জনসাধারণের পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়। পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি দ্বারা ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নতি সম্ভবপর হয়।

মানুষের নিজের ও তার আগামী প্রজন্মের স্বার্থে পরিবেশকে অবশ্যই জানতে হবে। দূষণমুক্ত পরিবেশ ও সমাজ গড়ে তোলার জন্য পরিবেশের পাঠ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ।

পরিবেশের উপাদানগুলি কি কি ? এগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

পরিবেশ বলতে পারিপার্শ্বিক সমস্ত উপাদানগুলি বা শর্তাবলীকে বোঝায় যা কোন একটি জীবের উপর প্রভাব বিস্তার করে। যথা – আলোক, তাপমাত্রা, জল, মৃত্তিকা ইত্যাদি। এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং একে অপরের সঙ্গে জড়িত। পরিবেশের এই উপাদানগুলিকে প্রধানতঃ চার ভাগে ভাগ করা হয়।

1. আবহাওয়া জনিত উপাদান :

(i) আলোক,

(ii) অপমাত্রা,

(iii) বৃষ্টিপাত,

(iv) বাতাসের জলীয় বাষ্প

(v) বায়ু।

2. স্তু-পৃষ্ঠীয় শর্তাবলী :

(i) পাহাড় ও পর্বতের নতি,

(ii) উচ্চতা।

3. মৃত্তিকা সম্বন্ধীয় উপাদান :

(i) মৃত্তিকার উৎপত্তির বিভিন্ন শর্তাবলী,

(ii) মৃত্তিকার ভৌত, রাসায়নিক ও জৈব গঠন

4. জৈবিক উপাদান :

উদ্ভিদ, প্রাণী ও বিভিন্ন আণুবীক্ষণিক জীবদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক।

(1) আবহাওয়া জনিত উপাদান :

আলোক (Lights) : আলোক এই পৃথিবীতে জীবন ধারণের অন্যতম প্রধান শর্ত। এই পৃথিবীতে শুক্তির একমাত্র উৎস হল সূর্য থেকে আগত আলোকরশ্মি। এই আলোক রশ্মিকে উদ্ভিদ সালোক সংশ্লেষের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিরূপে খাদ্যে সঞ্চিত রাখে। এটিই উদ্ভিদ ও প্রাণীদের জীবনের শক্তির অন্যতম প্রধান উৎস।

উদ্ভিদের আলোক প্রয়োজনীয়তা :

উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ, বাষ্পমোচন, বীজের অঙ্কুরোদগম, ফুলের প্রস্ফুটন প্রভৃতি আলোকের উপর সরাসরি নির্ভরশীল। এছাড়াও উদ্ভিদের আলোকের প্রয়োজনীয়তাগুলি নিম্নরূপ :

(i) বেশীরভাগ উদ্ভিদে ক্লোরোফিল উৎপাদনের জন্য আলোকের প্রয়োজন হয়। (ii) বাষ্পমোচনের হার আপতিত আলোকের পরিমাণের উপর নির্ভরশীল।

(iii) পত্ররন্ধ্রের খোলা রাখা বা বন্ধ করা আলোকের উপস্থিতির উপর নির্ভর করে।

প্রাণীর আলোক প্রয়োজনীয়তা :

আলোকের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির উপর প্রাণীর চলন, গমন, বৃদ্ধি, প্রজনন, বর্ণ প্রভৃতি নির্ভরশীল।

(i) বিপাকঃ প্রাণীদেহের বিভিন্ন উৎসেচকগুলি একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কর্মক্ষম। তাই আলোকের উপস্থিতি প্রাণীদেহের সুষ্ঠু বিপাক কার্যের জন্য প্রয়োজনীয়।

(ii) জনন : বিভিন্ন প্রাণীর জনন আলোকের উপর নির্ভরশীল। পাখী জাতীয় প্রাণীদের গ্রীষ্মকালে আলোকের অধিক তীব্রতায় জনন অঙ্গগুলি পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়।

(iii) বৃদ্ধি ঃ বেশীরভাগ প্রাণীর সঠিক বৃদ্ধির জন্য আলোকের একটি নির্দিষ্ট মাত্রার প্রয়োজন। স্যালমন জাতীয় মাছের বৃদ্ধি স্বল্পালোকে ব্যহত হয়।

তাপমাত্রা (Temperature) :

তাপমাত্রা বলতে ভূ-পৃষ্ঠে বসবাসকারী জীবদের ক্ষেত্রে যেমন বায়ুর তাপমাত্রা বোঝায় তেমনি জলে বসবাসকারী জীবদের ক্ষেত্রে জলের তাপমাত্রা বোঝায়।

(i) বৃদ্ধি : অতি নিম্ন তাপমাত্রা ও অতি উচ্চ তাপমাত্রা উভয়েই উদ্ভিদের বৃদ্ধি ব্যাহত করে। অতি উচ্চ ও নিম্ন তাপমাত্রায় উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলী (শ্বসন, বাষ্পমোচন, সালোকসংশ্লেষ প্রভৃতি) ব্যহত হয়।

(ii) বিপাক : বিপাকজাতীয় কার্যাবলী উৎসেচকের ক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে উৎসেচকের কার্যশীলতা তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল। সুতরাং তাপমাত্রা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জীবদের বিপাকীয় কার্যকে প্রভাবিত করে।

(iii) জনন : একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা একটি নির্দিষ্ট উদ্ভিদের ফুল প্রস্ফুটনে সাহায্য করে। প্রাণীদের ক্ষেত্রে প্রজাতি বিশেষে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা জনন অঙ্গের পূর্ণতাপ্রাপ্তি এবং ডিম্বাণু ও শুক্রাণু নির্গমনে সাহায্য করে।

(iv) প্রাণীদের ক্ষেত্রে অঙ্গসংস্থানগত প্রভাব : পক্ষী ও স্তন্যপায়ী জাতীয় প্রাণীরা শীতল অঞ্চলে বৃহদাকায় এবং উষ্ণ অঞ্চলে ক্ষুদ্রকায় হয়। আবার শীতল শোণিত প্রাণীরা শীতল অঞ্চলে ক্ষুদ্রকায় হয়।

(2) ভূ-পৃষ্ঠীয় শর্তাবলী (Topographic factors) :

ভূ-পৃষ্ঠীয় শর্তাবলী বলতে কোন একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভৌগোলিক গঠন এবং তা নির্ধারণকারী বিভিন্ন শর্তাবলীর্কে বোঝায়।

(i) পর্বতমালার উচ্চতা : উচ্চতার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের তারতম্য সবচেয়ে ভাল বোঝা যায় পর্বতমালায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, সূর্যালোকের তীব্রতা প্রভৃতির পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উক্ত অঞ্চলে বসবাসকারী উদ্ভিদ ও প্রাণীরও পরিবর্তন ঘটে।

(ii) পর্বত ও উপত্যকার দিক ঃ পর্বত ও উপত্যকার উপস্থিতির দিকের আবহাওয়া ও পরিবেশের বিস্তর পরিবর্তন ঘটে। পর্বতের একদিকে প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্পের ঘনীভবন ঘটে। এই অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও গভীর বনাঞ্চল লক্ষ্য করা যায়। আবার উল্টোদিকে বৃষ্টিপাতের অপ্রতুলতা ও শুষ্ক মরু অঞ্চল লক্ষ্য করা যায়।

(3) মৃত্তিকা সম্বন্ধীয় উপাদান (Edaphic factors) :

মুক্তির উপর উদ্ভিদরা জল, খনিজ লবণ, বিভিন্ন জৈব, অজৈব পদার্থ এবং আঁকড়ে ধরে থাকার জন্য নির্ভর করে। মৃত্তিকা অপরদিকে প্রাণীদের ক্ষেত্রে জল, খনিজ লবণ, বাসস্থান প্রভৃতি প্রদান করে।

মৃত্তিকার উপাদান : মৃত্তিকা একটি জটিল পদার্থ। এর বিভিন্ন অংশগুলি নিচে বর্ণিত হল। (i) খনিজ পদার্থ : মাতৃপ্রস্তরখণ্ডের বিচূর্ণীভবনের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন কণা যার মূল .উপাদান বিভিন্ন খনিজ পদার্থ।

(ii) জৈব পদার্থ বা হিউমাস : উদ্ভিদ, প্রাণী ও আণুবীক্ষণিক জীবদের মৃত বা অবশেষ অংশ।

(iii) জল : মৃত্তিকায় অবস্থিত বিভিন্ন প্রকারের জলে দ্রবীভূত থাকে বিভিন্ন কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় পদার্থ। মৃত্তিকায় জল সাধারণতঃ কৈশিক বল দ্বারা আটকে থাকে।

(iv) বায়বীয় পদার্থ : মৃত্তিকার কণাগুলির অন্তবর্তীস্থানে অক্সিজেন, কার্বনডাই অক্সাইড সহ বিভিন্ন বায়বীয় পদার্থ থাকে।

(v) জীবকূল : সব মৃত্তিকায় নিজস্ব কিছু উদ্ভিদ ও প্রাণীকুল দেখা যায়। এর মধ্যে প্রধানতঃ ব্যাকটিরিয়া, ছত্রাক, শৈবাল, আদ্যপ্রাণী, সন্ধীপদ প্রাণী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

মৃত্তিকা কয় প্রকার ও কি কি ? এদের গঠন উল্লেখ কর।

উঃ মৃত্তিকাকে দুভাগে ভাগ করা হয়। মৃত্তিকার উৎপত্তি অনুসারে ও মৃত্তিকার গঠন অনুসারে। (A) মৃত্তিকার উৎপত্তি অনুসারে :

(i) অবশিষ্ট মৃত্তিকা (Residual soil) : এই মৃত্তিকাটি মৃত্তিকা উৎপাদনের সমস্ত পর্যায়গুলি একই অঞ্চলে সম্পন্ন করে উৎপন্ন হয়। মাতৃ প্রস্তরখন্ডের উপরেই এই মৃত্তিকার স্তরের সৃষ্টি হয়।

(ii) পরিবাহিত মৃত্তিকা (Transported soil) : প্রস্তরখন্ডের বিচূর্ণভবনের ফলে উৎপন্ন কণাগুলি যখন অন্য অঞ্চলে গিয়ে মৃত্তিকাভবনের অন্যান্য পর্যায়গুলি সম্পন্ন করে তখন তাকে পরিবাহিত মৃত্তিকা বলে।

(B) মৃত্তিকার গঠন অনুসারে :

মৃত্তিকা কশার আকৃতি (Texture) অনুযায়ী মৃত্তিকাকে প্রধানতঃ 4 টি ভাগে ভাগ করা যায় : (i) বেলে মাটি (Sandy soil) – 80% বালি + 10% পলি + 10% কদম। (ii) দোঁয়াশ মাটি (Loamy sand soil) – 40-45% বালি + 30-40% পলি + 1015% কদম।

(iii) পলিমাটি (Silty soil) – 10-20% বালি + 50-60% পলি + 20-30% কদম। (iv) এঁটেল মাটি (Clayey soil) – 10-20% বালি + 30-40% পলি + 45-50% কদম।

প্রকৃতিতে জলের গুরুত্ব ও অবস্থান বর্ণনা কর।

উঃ জল বাস্তুতন্ত্রের একটি মুখ্য উপাদান। এটি বাস্তুতন্ত্রের যাবতীয় প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। জল একটি মহাদ্রাবক (Universal solvent) যার মধ্যে মৃত্তিকার বেশীরভাগ দ্রাবগুলি দ্রবীভূত হয়। এটির মধ্যে বিভিন্ন খনিজ পদার্থগুলি দ্রবীভূত হয়ে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখে। জল নিষেক, পরাগরেনুর স্থানান্তরণ, বীজের অঙ্কুরণ, বাষ্পমোচন বৃদ্ধি, শ্বসন প্রভৃতি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রকৃতিতে জলের অবস্থান :

প্রকৃতিতে জল মুখ্যতঃ তিন অবস্থায় দেখা যায় : বায়বীয় আর্দ্রতা, বৃষ্টি এবং ভূ-নিম্নস্থ। (i) বায়বীয় আর্দ্রতা : বায়ুতে জলের ক্ষুদ্র কণাগুলি অদৃশ্য অবস্থায় থাকে। উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে এই জলধারণ ক্ষমতা বাড়ে। বায়ুর এই জলধারণকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। (ii) বৃষ্টিপাত ঃ এটি মৃত্তিকায় অবস্থিত জলের প্রধান উৎস। বৃষ্টিপাত— snow, hail

এবং sleet প্রভৃতি পদ্ধতিতেও হতে পারে।

(iii) ভূ-নিম্নস্থ জল ঃ ভূ-নিম্নস্থ জল উদ্ভিদের প্রধান জলের উৎস। বৃষ্টিপাতে যতখানি জল আপতিত হয় তার সমস্তটুকুই উদ্ভিদের পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। বৃষ্টিপাতের কিছু অংশ বাষ্পীভবনের ফলে পুনরায় বায়ুতে ফিরে যায়। প্রচুর পরিমাণ জল পৃথিবীর উপরপৃষ্ঠে বাহিত হয়ে নদী নালার মাধ্যমে সমুদ্রে আপতিত হয়। বিভিন্ন প্রকার মৃত্তিকার জলধারণ ক্ষমতা তার গঠনের উপর নির্ভর করে। তাই কোন এক অঞ্চলে সঞ্চিত জলের পরিমাণ তার মৃত্তিকার গঠনের উপর নির্ভরশীল।

প্রকৃতিতে জীব ও নির্জীব পদার্থের পারস্পরিক সম্পর্ক আলোচনা কর।

উঃ এই পৃথিবীর সমস্ত জীব এবং নির্জীব পদার্থ একই ধরনের বস্তু নিয়ে গঠিত। নির্জীব, পদার্থের উপর বিভিন্ন প্রাকৃতিক বল (যেমন অভিকর্ষ বল, মহাকর্ষ, চুম্বকত্ব প্রভৃতি) যেভাবে কাজ করে তেমনি জীবিত পদার্থ যেমন উদ্ভিদ ও প্রাণীতেও একইভাবে ক্রিয়া করে। কিন্তু জীবের একটি নির্দিষ্ট গঠন ও রাসায়নিক প্রক্রিয়া আছে যা তাকে জীবন প্রদান করে এবং বিভিন্ন জৈব ক্রিয়াগুলিকে সম্পন্ন করতে সাহায্য করে।

বিখ্যাত জীব বিজ্ঞানী লিনাস পাউলিং (Linus Pauling) এর মতে “জীবন কতকগুলি অণুর মধ্যে আন্তঃক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন হয়। এটি কোন একটি নির্দিষ্ট অণুর একচেটিয়া অধিকারক্ষেত্র নয়।” জীব গঠনের শর্তাবলী নীচে আলোচনা করা হল :

(i) জীবের মধ্যে C, H,, O, এবংN, এর প্রাধান্য দেখা যায়। জৈব অণুগুলির আকার বৃহৎ। অন্যদিকে অজৈব পদার্থের অণুগুলির আকার ক্ষুদ্র। এগুলি বায়বীয়, তরল, খনিজ এবং কেলাস আকারে পাওয়া যায়।

(ii) অজৈব পদার্থের তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র অণু যেমন জল, খনিজ লবণ, শর্করা প্রভৃতি জীবের জৈবিক কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

(iii) বৃহৎ অণুগুলি (Macromolecules) যেমন শর্করা, লিপিড প্রোটিন জাতীয় পদার্থ কেবলমাত্র জীবিত পদার্থে পাওয়া যায়। বৃহৎ অণুগুলির আণবিক গুরুত্ব কয়েক হাজার থেকে কয়েক কোটি পর্যন্ত হতে পারে।

(iv) জীবিত কোষের মধ্যে প্রায় 5000 বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি দেখা যায় এবং কোষগুলি এর চেয়েও কয়েকগুণ বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সক্ষম। এগুলি কোষকে জীবিত রাখতে সাহায্য করে।

জীবনের ধারাবাহিকতায় DNA-এর গুরুত্ব আলোচনা কর।

উঃ প্রত্যেক জীব এই পৃথিবীতে কোন একসময়ে মৃত্যুপ্রাপ্ত হয়। এই মৃত্যু কোন শিকারের ফলে, শত্রুর আক্রমণে বা বয়সবৃদ্ধির ফলে হয়ে যায়। তবে কোন একটি নির্দিষ্ট প্রাণী মৃত্যুপ্রাপ্ত হলেও তার প্রজাতি বেঁচে থাকে বা অন্যভাবে বললে জীব মারা যায় কিন্তু জীবন চলতে থাকে। এই জীবন চলতে থাকার জন্য জীবনকে প্রজনন করতে হয় এবং সে নিজের মত আরও জীবের সৃষ্টি করে। প্রকৃতিতে কোটি কোটি বছর আগে DNA নামক একটি বৃহৎ অণুর সৃষ্টি হয়েছিল যা নিজে নিজের প্রতিরূপ (Duplicate) সৃষ্টি করতে পারে। বংশগতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এই DNA থেকে। DNA হচ্ছে একটি কোষের সমস্ত নির্দেশের গুদামঘর (Store house) যার মধ্যে বৃদ্ধি, গমন, রেচন, প্রোটিনের প্রস্তুতি এবং জীবনের যাবতীয় কার্যকলাপের কুষ্ঠিপত্র (Blue-print) লুকিয়ে থাকে।

প্রকৃতিতে জীবের মৃত্যুর গুরুত্ব আলোচনা কর।

উঃ জীবের জীবনচক্রে মৃত্যু একটি অবধারিত পর্যায়। জীব বিশেষে জীবনের দৈর্ঘ্য কমবেশী হয় এবং জীবনের অন্তিম পর্যায়ে জীবের মৃত্যু ঘটে। জীবের এই মৃত্যু এই পৃথিবীতে জীবন ধারণের একটি প্রধান শর্ত কেননা

(i) একটি প্রজাতির প্রাণীদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করার জন্য মৃত্যু অনিবার্য। মৃত্যু না হলে প্রজাতির জীব সংখ্যা এই হারে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হবে যে খাদ্য, বাসস্থান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বস্তুর অভাবে ওই প্রজাতির সমস্ত প্রাণী বিলুপ্ত হবে।

(ii) জীব মৃত্যুপ্রাপ্ত হলে তার দেহজ কোষ ও কলাগুলি বিভিন্ন আণুবীক্ষণিক জীব দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় (Decomposed) এবং মৃত কোষগুলি থেকে ভূ-রাসায়নিক চক্রের প্রয়োজনীয় বস্তুগুলি নির্গত হয়ে প্রকৃতিতে ফিরে আসে। বিভিন্ন মৌল যেমন - কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার, ফসফরাস, প্রভৃতি প্রকৃতিতে ফিরে আসে এবং পুনরায় নতুন জীবগঠনের কাজে লাগে।

বৰ্তমান পৃথিবীতে আবহাওয়া ও পরিবেশের পরিবর্তন ঘটেছে এর স্বপক্ষে যুক্তি প্রদান কর।

উঃ (i) কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন ও অন্যান্য গ্রীণ হাউস গ্যাস প্রতিনিয়ত বায়ুমন্ডলে জমা হচ্ছে। উপরোক্ত গ্যাসের প্রভাবে গত 600 বছরের মধ্যে বিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীর তাপমাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশী। 1998 সালে পৃথিবীর তাপমাত্রা গত 118 বছরের গড় তাপমাত্রার চেয়ে বেশী ছিল।

(ii) বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব 1760 সালে ছিল 280 ppm.| 1990 সালে সেই ঘনত্বের পরিমাণ হয়েছে 360 ppm.। এই অবস্থা চলতে থাকলে ধারণা করা হচ্ছে 2100 সালে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ হবে 660 ppm. সেক্ষেত্রে পৃথিবীর তাপমাত্রা 2 ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি পাবে।

(iii) পৃথিবীর আবহাওয়ার পরিবর্তনে পৃথিবীতে এল নিনো, খরা, অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি,সাইক্লোর্ন প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে।

এই পৃথিবীতে জীববৈচিত্রের সংরক্ষণের বর্তমান অবস্থা আলোচনা কর।

জীববৈচিত্রের ধারাবাহিক বিনাশের ‘বহুপ্রমাণ পাওয়া গেছে। ইউনাইটেড নেশনস্ এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম এর হিসাব অনুযায়ী আনুমানিক 2.2 কোটি জীবপ্রজাতি পৃথিবীতে রয়েছে। এর মধ্যে 15 লক্ষ জীব প্রজাতিকে সনাক্তকরণ করা হয়েছে। প্রায় 70 লক্ষ জীবপ্রজাতি আগামী 30 বছরের মধ্যে অবলুপ্ত হতে পারে। পাখীর বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে তিন চতুর্থাংশ সংখ্যক পাখী ক্রমশঃ অবলুপ্ত হচ্ছে। কোনও কোনও বৈজ্ঞানিক ধারণা মতে পৃথিবীতে বর্তমানে বসবাসকারী স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে এক চতুর্থাংশ ধ্বংস হওয়ার মুখে। এছাড়াও প্রতিবছর অদৃশ্য হচ্ছে বহুরকমের খাদ্যশস্য উদ্ভিদ।

উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন কাজকর্মের ফলে বিপুল পরিমাণ জীববৈচিত্রের ক্ষয় দেখা দিচ্ছে। বনাঞ্চলে ধ্বংস করা, কৃষিকার্য্যে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ, জলাভূমি বা সমুদ্রের জীবপ্রজাতি ধ্বংস করা প্রভৃতি বিভিন্ন কারণে জীববৈচিত্র আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। জীববৈচিত্র সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশ পরিবর্তন রোধ করা সম্ভবপর হবে না।

পরিবেশের উপর মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির প্রভাব কিভাবে পড়েছে যুক্তিসহকারে আলোচনা কর।

মানুষ তার বিভিন্ন কার্যকলাপের দ্বারা পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের বিশেষ পরিবর্তন ঘটিয়েছে। পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক দেশে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটছে এবং এই অর্থনৈতিক উন্নতির ফলশ্রুতি হিসেবে নির্মিত হয়েছে বড় বড় শহর, আকাশচুম্বী অট্টালিকা, কংক্রিটের রাস্তাঘাট, বড় বড় শিল্প প্রভৃতি। মানুষ তার খাদ্যগ্রহণের চাহিদা মেটাতে তৈরী করেছে বিস্তীর্ণ কৃষিভূমি, নদী ও জলাশয়ের বাঁধ প্রভৃতি। বিভিন্ন মানবক্রিয়ার ফলে মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য এলেও সমস্তটাই এসেছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত করে।

বিভিন্ন প্রকারের শিল্প, বাড়ি ও কৃষিক্ষেত্রে তৈরী করার জন্য বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ধ্বংস করা হয়েছে। এই বনাঞ্চল না থাকাতে প্রচুর পরিমাণে বন্যপ্রানী ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে এবং প্রচুর সংখ্যায় উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে। বিভিন্ন শিল্প থেকে নির্গত উপজাত দ্রব্য জলে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং এই জল পানের অযোগ্য করে তুলেছে।

বর্তমানে সারা পৃথিবীতে প্রায় 600 কোটি লোকের বাস এবং শুধুমাত্র ভারতবর্ষে এই সংখ্যা 100 কোটি পার হয়ে গিয়েছে। এই বিশাল জনসংখ্যার দৈনন্দিন চাহিদা, খাদ্য, বস্ত্র, আবাস ও বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের জন্য যানবাহনের সংখ্যার বৃদ্ধির ফলে প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক সম্পদের ধ্বংস করা হচ্ছে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। (1) কৃষিকার্যের ফলে সমস্যা :


কৃষিকার্যের উন্নতিকল্পে, বন্যা প্রতিরোধ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্য বিভিন্ন নদীতে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। বাঁধ নির্মাণের উদ্দেশ্য কিছুটা ফলপ্রসূ হলেও এর কুপরিণাম শুরুর দিকে দেখা যায়নি। বাঁধ নির্মাণের ফলে বিশাল কৃত্রিম জলাশয় সৃষ্টি হয়। এই জলাশয়ে জলের সমস্ত পলি এসে জমা হয়। এর ফলে প্রাকৃতিক প্রবহমান জলে পলি থাকে না এবং এরা জলের প্রবাহপথে ক্ষয়ীভবন ঘটায় এবং বাঁধের বিপরীত দিকে ভূমিক্ষয় করে। নদীর নিম্ন প্রবাহ অঞ্চলে পলির যথাযথ আনয়ন না হওয়াতে জমিতে নতুন পোষক পদার্থের অভাব হয় এবং ভূমি অনুর্বর হয়ে পড়ে।

(2) ভূ-রাসায়নিক চক্রের বিনাশ :

মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়েছে পরিবেশে দূষণ সৃষ্টির মাধ্যমে। বিভিন্ন মৃত ও গলিত পদার্থকে বিঘটিত করে প্রাকৃতিক ভূ-রাসায়নিক চক্রে মিশিয়ে দেওয়ার কাজ বিভিন্ন অনুজীবরা করে থাকে। প্রাকৃতিক দূষণের ফলে এই অনুজীবরাও ধ্বংস হচ্ছে এবং ভূ-রাসায়নিকচক্র বিনষ্ট হয়ে প্রকৃতিতে দূষণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। (3) অর্থনৈতিক উন্নতির ফলে সৃষ্ট বায়ু দূষণের ফল :

(i) গ্রীণ হাউস প্রভাব ঃ বিভিন্ন প্রকারের জীবাশ্মঘটিত জ্বালানী জ্বালানোর ফলে প্রকৃতির বায়ুতে CO, এবং SO, র মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। কার্বন-ডাই-অক্সাইডের আবরণ ভূস্তর থেকে তাপ বিকিরণ হতে দেয়না। ফলে CO, বৃদ্ধিতে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা গ্রীণ হাউস জাতীয় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

(ii) অম্লবৃষ্টি ঃ কয়লা ও খনিজ তেলের দহনের ফলে বায়ুতে SO, এবং NO2, NO প্রভৃতি গ্যাসও নির্গত হয়। SO, এবং NO, গ্যাস বাতাসের জলীয় বাষ্প ও আকাশের বিদ্যুতের সাহায্যে H, SO, এবং HNO, তৈরী করে এবং বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে অম্লবৃষ্টির সৃষ্টি করে। এই অম্লবৃষ্টিতে অম্লের মাত্রা অত্যধিক হওয়াতে ইতিমধ্যেই নরওয়ে, সুইডেন, কানাডা ও উত্তর আমেরিকার অনেক জলাশয়ে মাছ ও বিভিন্ন জলজীব মৃত্যুমুখে পতিত হয়ে সরোবরগুলিকে অনুৎপাদক করেছে।

(iii) ওজোন স্তরের নাশ : মানুষের অর্থনৈতিক সুখস্বাচ্ছন্দের জন্য তৈরী হয়েছে CFC বা ক্লোরোফ্লুরো কার্বন। এটি প্রধানতঃ শৈত্যকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। এই গ্যাস বাতাসের উপরিস্তরের ওজোন স্তরকে ধ্বংস করে। এই ওজোন স্তর পৃথিবীকে সূর্য থেকে আগত অতিবেগুণী রশ্মির কুপ্রভাব থেকে রক্ষা করে। গত 100 বছরে পৃথিবীর উপরের ওজোন আবরণ জেট, উড়োজাহাজ ও CFC দ্বারা প্রায় 3-4% নষ্ট হয়ে গেছে। তার ফলে পৃথিবীতে বেড়েছে বিভিন্ন চর্মঘটিত রোগ এমনকি চর্মঘটিত বিভিন্ন ক্যানসার পর্যন্ত।

(iv) স্মগ সমস্যা : বিভিন্ন শিল্প কারখানা ও যানবাহন থেকে অবিরত নির্গত হয় বিভিন্ন গ্যাস, ধোঁয়া, ধূলো ও কার্বন, সীসা প্রভৃতির কণা। এগুলি বায়ুর সঙ্গে মিশে যায়। যখন শীতকালে কুয়াশা সৃষ্টি হয় তখন এই ধোঁয়া, ধুলোবালি ও কুয়াশা মিশে তৈরী হয় স্মগ (Smoke + Fog = Smog)। এই স্মগ মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং 1952 সালে শুধুমাত্র লন্ডন শহরে প্রায় 4,000 লোক এর ফলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়।

(v) দুর্ঘটনা : কৃষিকার্যে কীটনাশকের অযাচিত ব্যবহার বেড়েছে। এর ফলে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও মানুষ ও বিভিন্ন প্রাণীরা এর বিষজনিত ক্রিয়ার ফলে মৃত্যুপ্রাপ্ত হচ্ছে। 1984 সালে ভূপালের গ্যাস দুর্ঘটনায় প্রায় 3,000 লোক মারা যায়।

(4) অর্থনৈতিক উন্নতির ফলে সৃষ্ট জলদূষণ ও তার ফল :

বিভিন্ন প্রকারের শিল্পে প্রচুর পরিমাণে উপজাত দ্রব্য উৎপন্ন হয় যার বেশীরভাগটাই জলে প্রবাহিত করা হয়। এছাড়া গৃহস্থালীর প্রায় সমস্ত আবর্জনা জলে নিক্ষিপ্ত করা হয়। এর ফলে জলে ভয়ঙ্কর দূষণের সৃষ্টি হয়েছে।

(5) অর্থনৈতিক উন্নতির ফলে মৃত্তিকার দূষণ :

কৃষির উন্নতির জন্য সেচ ব্যবস্থায় প্রসার ঘটাতে হয়েছে। অত্যধিক সেচ কার্যের ফলে কৃষিভূমিতে লবনের মাত্রা বেড়েছে এবং মৃত্তিকার উপর লবণের একটি আস্তরণ পড়েছে। এর ফলে মৃত্তিকার উর্বরাশক্তির হ্রাস ঘটেছে ও কৃষিভূমি বন্ধ্যা বলে পরিগণিত হচ্ছে। এছাড়া কৃষিকার্যে বিভিন্ন পেস্ট দমনের জন্য ব্যবহৃত কীটনাশক মৃত্তিকাতে আপতিত হয় এবং সেখানে বিষক্রিয়া করে মৃত্তিকায় নাইট্রোজেন সংশ্লেষকারী অনুজীবদের ধ্বংস করে, ফলে মৃত্তিকা আরও অনুর্বর হয়ে পড়ে। এছাড়া বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালীর উপজাত কঠিন বর্জ্য পদার্থ মৃত্তিকায় সঞ্চয়ের ফলে মৃত্তিকা দূষিত হয়ে পড়ছে। (6) জৈব বিবিধতার বিনাশ :

এই পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রে প্রত্যেক জীবের নিজস্ব ভূমিকা বর্তমান। মানুষ তার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য যোগানের জন্য বিভিন্ন বনভূমি নষ্ট করছে (যেখানে বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাসস্থান।) এর ফলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং অরন্যভূমির পরিবর্তে কৃষিভূমি রূপান্তরিত করায় একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির উদ্ভিদ চাষ করা হচ্ছে। এতে জৈব বিবিধতা নষ্ট হচ্ছে।

(7) অর্থনৈতিক উন্নতির ফলে প্রাকৃতিক সম্পদের নাশ ঃ

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার চলছে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অপরিশোধযোগ্য (non renewable) খনিজ ও ধাতু, ও জ্বালানী আহরণের ফলে তাদের সঞ্চয়ে ভাটা পড়েছে এবং খুব শীঘ্রই এই উৎসগুলি নিঃশেষিত হবে। এর ফলে মানুষের সভ্যতা ভীষণভাবে বিপর্যস্ত হবে।

Samiran

Content Creator / Author

Previous Post Next Post