বাস্তুতন্ত্র [Ecosystem] রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

বাস্তুতন্ত্র Ecosystem রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

১. বাস্তুতন্ত্র কি ? বাস্তুতন্ত্রের একক কি ? বাস্তুতন্ত্রের প্রকারভেদ কর।

বাস্তুবিজ্ঞানী এ. জি. ট্যান্সলের মতে বাস্তুতন্ত্র হল প্রকৃতির জৈব ও অজৈব শর্তগুলির মধ্যে পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়া এবং তার ফলে সৃষ্ট পরিবেশ। ইকোসিস্টেম শব্দটির মধ্যে ‘ইকো’ শব্দটির অর্থ পরিবেশ এবং ‘সিস্টেম’ শব্দটির অর্থ আন্তঃক্রিয়ার ফল।

বাস্তুতন্ত্রের একক :

বাস্তুতন্ত্রের বৃহত্তর একক হল ‘বায়োস্ফিয়ার’। এটি একটি অতিকায় বাস্তুতন্ত্র এবং একে অধ্যয়ন করা সহজসাধ্য নয়। তাই এই বৃহৎ এককটিকে অধ্যয়নের সুবিধার্থে কয়েকটি ক্ষুদ্র এককে ভাগ করা হয়। স্থলভূমির দিক থেকে এটিকে বনাঞ্চল, মরুভূমি, তৃণভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে ভাগ করা হয় । জলীয় মাধ্যমের দিক থেকে এটিকে স্বাদুজলীয়, সামুদ্রিক, মোহনাঞ্চল প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা হয়।

বাস্তুতন্ত্রের একক একটি ছোট পুকুরের ন্যায় ক্ষুদ্র হতে পারে আবার সমুদ্র বা মরুভূমির ন্যায় বৃহৎত্ত হতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এগুলি প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে যুক্ত এবং এদের মধ্যে কোনও প্রাকৃতিক বাধা নেই।

বাস্তুতন্ত্রের প্রকারভেদ :

বাস্তুতন্ত্রের বৃহত্তম একক বায়োস্ফিয়ার বা জীবভূমন্ডলকে কৃত্রিমভাবে প্রধানতঃ দুভাগে ভাগ করা হয় ঃ

(i) প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র : এটি প্রকৃতি নির্ভর বাস্তুতন্ত্র, এটি কোনও মানব ক্রিয়ার অধীনে নয়। বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে এটিকে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা যায়।

স্থলীয় বাস্তুতন্ত্র - যথা - বনভূমি, তৃণভূমি, মরুভূমি ইত্যাদি।
জলের বাস্তুতন্ত্র - (a) স্বাদুজলীয় - যথা - পুস্করিণী, হ্রদ ইত্যাদি।
(b) খরজলীয় - যথা -সমুদ্র, মোহনা ইত্যাদি। 

(Ii) মানব নির্মিত বাস্তুতন্ত্র : এটিকে মানুষ তার বুদ্ধি ও কায়িকশ্রম প্রয়োগ করে কৃত্রিমভাবে নির্মাণ করে। এতে তারা একটি নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক জৈববিবিধতার বিনাশ ঘটিয়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কোন একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির বিকাশ ঘটায়। যথা - শস্যক্ষেত্র।

২. বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন উপাদান সম্পর্কে আলোচনা কর।

গঠনগত দিক থেকে বাস্তুতন্ত্রের উপাদানগুলিকে প্রধানতঃ চারটি ভাগে ভাগ করা যায় : (a) অজৈব বস্তুসমূহ (b) উৎপাদক (c) খাদক এবং (d) বিয়োজক।

(a) অজৈব বস্তুসমূহ : অজৈব বস্তুসমূহ বলতে মুখ্যতঃ জল, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস প্রভৃতি মৌল এবং এদের বিভিন্ন যৌগ সমূহকে বোঝায়।

(b) উৎপাদক : সবুজ উদ্ভিদ সমূহ যারা বিভিন্ন অজৈব বস্তু থেকে খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে এই বর্গের অন্তর্গত। উৎপাদকদের মধ্যে অণুজীব আকারের ফাইটোপ্লাঙ্কটন, শৈবাল, বিভিন্ন প্রকারের জ ও স্থলজ উদ্ভিদ, সকলেই এই বিভাগের অন্তর্গত।

(c) খাদক : যে সকল জীবরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না এবং নিজেদের পুষ্টির জন্য উদ্ভিদ বা অন্য প্রাণীর উপর নির্ভর করে তাদেরকে খাদক বলে। বিভিন্ন প্রকারের প্রাণীরা এই বর্গের অন্তর্গত। খাদ্যাভ্যাসের উপর নির্ভর করে এদেরকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয় -

(i) প্রাথমিক খাদক (শাকাহারী) : যে সকল প্রাণীরা সরাসরি উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত বস্তু খেয়ে জীবনধারণ করে। যেমন : গরু, হরিণ ইত্যাদি।

(ii) গৌণ খাদক : যে সকল প্রাণীরা প্রাথমিক খাদক অর্থাৎ শাকাহারী প্রাণীদের খেয়ে জীবনধারণ করে, তাদের গৌণ খাদক বলে। যেমন ঃ শেয়াল, কুকুর ইত্যাদি।

(iii) প্রগৌণ খাদক : যে সকল প্রাণীরা গৌণ খাদকদের খেয়ে জীবন ধারণ করে তাদের প্রগৌণ খাদক বলে। যেমন : সিংহ, শিয়াল জাতীয় প্রাণীরা প্রাণীর গৌণ খাদকদের খেয়ে জীবন ধারণ করে।

(d) বিয়োজক : যে সকল জীবরা মৃত ও গলিত জীবদেহ বিয়োজিত করে সরল যৌগে পরিণত করে পুষ্টি সংগ্রহ করে, তাদেরকে বিয়োজক বলে। উদা : ব্যাকটিরিয়া, ছত্রাক প্রভৃতি।

বিয়োজকরা একদিকে যেমন মৃত ও গলিত পদার্থের পচন ঘটিয়ে নিজেদের পুষ্টিসাধন করে অন্যদিকে তারা মৃত পদার্থগুলিকে সরল যৌগে পরিণত করে পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়। উদ্ভিদেরা এই সরল যৌগকে আবার ব্যবহার করে খাদ্য প্রস্তুত করে। ফলে প্রকৃতিতে বস্তুর চক্রাকার আবর্তন সম্ভব হয়।

৩. খাদ্য শৃঙ্খল কাকে বলে ? খাদ্য শৃঙ্খল কয় প্রকার ও কি কি ?

একটি বাস্তুতন্ত্রে বিভিন্ন সদস্যদের মধ্যে বস্তুর আদান প্রদান ও শক্তির প্রবাহ একজীব থেকে অন্যজীবে পরিবাহিত হয়। এক কথায় বলতে গেলে, যে প্রক্রিয়ায় খাদ্যশক্তি উৎপাদক (উদ্ভিদ) থেকে ভক্ষক এবং পর্যায়ক্রমে ভক্ষক এবং ভক্ষিত সম্পর্কে বিভিন্ন প্রাণীগোষ্ঠীর মধ্যে প্রবাহিত হয় তাকে খাদ্য শৃঙ্খল বলে। বাস্তুতন্ত্রে উদ্ভিদ ও প্রাণীরা খাদ্য-খাদক সম্পর্কে অবস্থান করে এবং এই খাদ্য-খাদক সম্পর্কই খাদ্য শৃঙ্খলের সৃষ্টি করে। কোন একটি খাদ্য শৃঙ্খল খাদ্য-খাদকের পর্যায়ক্রমিক স্তর অনুসারে ক্ষুদ্র বা দীর্ঘ হতে পারে।

খাদ্যশৃঙ্খলের প্রকারভেদ :

বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যশৃঙ্খল প্রধানতঃ তিনরূপে দেখা যায় :

(a) শিকারী খাদ্যশৃঙ্খল (Predator food chain) : এই খাদ্যশৃঙ্খল প্রাথমিক খাদক (শাকাহারী প্রাণী) দিয়ে শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে খাদ্য ও খাদক ভিত্তিতে ক্ষুদ্র থেকে বৃহত্তর মাংসাশী প্রাণীতে সঞ্চারিত হয়।

যেমন গঙ্গাফড়িং → ব্যাঙ → সাপ → ময়ূর।

(b) পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খল (Parasitic food chain) : এই খাদ্যশৃঙ্খলও শাকাহারী প্রাণী থেকে শুরু হয় কিন্তু খাদ্য ও খাদক ভিত্তিতে প্রত্যেক খাদ্যস্তরে জীবের আকার ক্ষুদ্রতর হতে থাকে। বৃহৎপ্রাণীকে হোস্ট এবং ক্ষুদ্রতর প্রাণীকে পরজীবী বলে।

যেমন — মানুষ → কৃমি → আদ্যপ্রাণী।

(c) মৃতজীবী খাদ্যশৃঙ্খল (Saprophytic food chain) : এই খাদ্যশৃঙ্খলে শক্তির প্রবাহ জীবদেহের গলিত ও মৃত অংশ থেকে ক্রমান্বয়ে জীবাণুর দিকে পরিবাহিত হয়।

খাদ্যশৃঙ্খলের উদাহরণ : পুকুরের একটি খাদ্যশৃঙ্খল :

ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনরা পুকুরের উৎপাদক। এই ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনদের ভক্ষণ করে জুপ্ল্যাঙ্কটনরা পুষ্টিসাধন করে (যেমন কোপিপড জাতীয় প্রাণী)। এদের আবার কিছু অমেরুদন্ডী প্রাণীরা যেমন পতঙ্গের লার্ভারা খেয়ে জীবন ধারণ করে (গৌণ খাদক)। আবার তাদেরকে কিছু ছোট মাছ খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে। ছোট মাছদের খেয়ে বড় মাছরা পুষ্টিসাধন করে।

যেমন : ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন → জুপ্ল্যাঙ্কটন লার্ভা → বিভিন্ন পতঙ্গের → ছোট মাছ → বড় মাছ.

৪. খাদ্য জালক কাকে বলে ? এটি কিভাবে সৃষ্টি হয় ? খাদ্যস্তর কাকে বলে ? বাস্তুন্ত্রের বিভিন্ন পিরামিড সম্পর্কে আলোচনা কর।

একটি নির্দিষ্ট বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন খাদ্যশৃঙ্খলগুলি খাদ্য ও খাদক সম্পর্কের ভিত্তিতে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে জালিকার ন্যায় গঠন সৃষ্টি করে তাকে খাদ্যজালক বলে।

কোন একটি বাস্তুতন্ত্রে শুধুমাত্র একটি খাদ্যশৃঙ্খল থাকে না বরং অনেকগুলি খাদ্যশৃঙ্খল একসঙ্গে বর্তমান থাকে। খাদ্য ও খাদকের সম্পর্ক কোন একটি নির্দিষ্ট প্রজাতিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। এরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে যুক্ত। ফলে খাদ্য শৃঙ্খলগুলি একটি জালিকার ন্যায় বিন্যাস গঠন করে।

বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যন্ত্র (Trophic level) :

বাস্তুতন্ত্রের একটি খাদ্যশৃঙ্খলে পুষ্টির প্রত্যেক ধাপকে খাদ্যস্তর বা ট্রফিক লেভেল বলা হয়। বাস্তুতন্ত্রে উদ্ভিদরা পুষ্টির প্রথম ধাপ সৃষ্টি করে বলে এদেরকে প্রথম খাদ্যস্তর বলে। শাকাহারী প্রাণীরা উদ্ভিদদের খায় বলে এদেরকে দ্বিতীয় খাদ্যস্তর এবং মাংসাসী প্রাণীদের তৃতীয় এবং ক্রমান্বয়ে অন্যান্য প্রাণীদের তার অধিক সংখ্যার খাদ্যস্তর বলে। বাস্তু সংস্থানিক পিরামিড (Ecological pyramids) : বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন খাদ্যস্তরগুলি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে যে শাঙ্কব বা পিরামিড চিত্ররেখের সৃষ্টি করে তাকে বাস্তুসংস্থানিক পিরামিড বলে। বাস্তুসংস্থানিক পিরামিড তিন প্রকারের হতে পারে :

(a) সংখ্যার পিরামিড (Pyramid of number) : এটি বিভিন্ন খাদ্যস্তরের জীবদের সংখ্যার পরিমাণ নির্দেশ করে। এই পিরামিডে ভূমির দিকে জীবের সংখ্যা অধিক এবং শীর্ষের দিকে ক্রমান্বয়ে কম হয়।

উদা : একটি তৃণভূমির খাদ্যশৃঙ্খলে সংখ্যার পিরামিড তৃণজাতীয় উদ্ভিদ দিয়ে শুরু হয়। পরবর্তীকালে এই তৃণ খেয়ে শাকাহারী প্রাণীরা জীবন ধারণ করে এবং শাকাহারী প্রাণীদের খেয়ে মাংসাশী প্রাণীরা বেঁচে থাকে। প্রত্যেক খাদ্যস্তরে জীবের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে।

(b) জীবভরের পিরামিড (Pyramid of biomass) : একটি খাদ্যশৃঙ্খলের প্রত্যেক খাদ্যস্তরে সকল সদস্যের সামগ্রিক ওজনকে জীবভর বলে। জীবভরের পিরামিডে প্রত্যেক খাদ্যস্তরে জীবভরের পরিমাণ শীর্ষের দিকে ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে।

যেমন – উৎপাদকের জীবভর থেকে প্রাথমিক খাদকের জীবভর কম। প্রাথমিক খাদকের চেয়ে গৌণ খাদকের জীবভর কম। আবার গৌণ খাদকের জীবভরের চেয়ে প্রগৌণ খাদকের জীবভর কম।

(c) শক্তির পিরামিড (Pyramid of Energy) : একটি খাদ্যশৃঙ্খলের প্রতিটি খাদ্যস্তরে সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে, কারণ উৎপাদক (উদ্ভিদ) যতখানি সৌরশক্তি সঞ্চয় করে তা খাদকে সমস্তটা সঞ্চারিত হতে পারে না এবং বিভিন্ন কারণে তা নষ্টপ্রাপ্ত হয়। ফলে শক্তির প্রবাহ ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। বাস্তুতন্ত্রে বিভিন্ন খাদ্যস্তরে শক্তির প্রবাহের এই পিরামিডকে শক্তির পিরামিড বলে।

৫. বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রবাহ কিভাবে হয় লেখ।

বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রবাহ ক্রমান্বয়ে এক খাদ্যস্তর থেকে অন্য খাদ্যস্তরে দেখা যায়। উদ্ভিদরা সূর্যের সৌরশক্তিকে স্থিতিশক্তিরূপে খাদ্যের মধ্যে সঞ্চয় করে। প্রাথমিক খাদক (শাকাহারী প্রাণীরা) যখন উৎপাদক উদ্ভিদদের খায় তখন তারা খাদ্যের সমগ্র শক্তি আত্মীভূত করতে পারে না, বরং বেশীরভাগ শক্তিই তাপশক্তিরূপে বা অপাচ্য অবশিষ্টাংশরূপে বিনষ্ট হয়। এভাবে প্রত্যেক খাদ্যস্তরে শক্তির প্রবাহ কমতে থাকে। বাস্তুতন্ত্রে এই শক্তির প্রবাহ সর্বদাই একমুখী কেননা সূর্য থেকে আগত শক্তি কখনই সূর্যে ফেরত যেতে পারে না।

বিজ্ঞানী লিন্ডম্যানের (Lindemann, 1942) মতে এই শক্তির প্রবাহ প্রত্যেক খাদ্যস্তরে 10 শতাংশ হারে প্রবাহিত হয়, একে লিন্ডম্যানের 10 শতাংশ সূত্র বলে। এই সূত্র অনুযায়ী কোন একটি নির্দিষ্ট খাদ্যস্তরে সঞ্চিত শক্তির পরিমাণের চেয়ে পরবর্তী খাদ্যস্তরে মাত্র 10 শতাংশ শক্তি সঞ্চিত হতে পারে।

৬. একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে আলোচনা কর।

উঃ ক্ষুদ্র এবং আদর্শ বাস্তুতন্ত্র হিসেবে পুকুরের বাস্তুতন্ত্র অধ্যয়ন করা যেতে পারে। একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে নিম্নলিখিত উপাদানগুলি দেখা যায় :

1. উৎপাদকঃ সবুজ উদ্ভিদ ও সালোকসংশ্লেষকারী ব্যাকটিরিয়ারা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে জল ও কাদা থেকে আহরিত জল ও বিভিন্ন অজৈব উপাদানের সাহায্যে খাদ্য প্রস্তুত করে। উৎপাদকদের গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে প্রধানতঃ দু-ভাগে ভাগ করা যায়। যথা – ম্যাক্রোফাইট এবং ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন।

(a) ম্যাক্রোফাইট ঃ এগুলি সাধারণত বৃহৎ এবং শিকড় সমন্বিত উদ্ভিদ যেগুলি জলের বিভিন্ন তলে দেখা যায় ৷

(b) ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন : এরা আকারে খুব ক্ষুদ্র এবং জলে ভাসমান অবস্থায় থাকে। বেশীর ভাগ শৈবাল ও কিছু প্রজাতির অণুজীবরা এই গোত্রের অন্তর্গত। উদাঃ স্পাইরোগাইরা, ভলভক্স, ডায়াটম প্রভৃতি।

2. খাদক (Consumer) : এরা নিজেদের পুষ্টির জন্য সবুজ উদ্ভিদ দ্বারা উৎপন্ন খাদ্যের উপর নির্ভর করে। বেশীরভাগ খাদকরা শাকাহারী। কিছু কীট পতঙ্গ ও মাছরা মাংসাশী। এদেরকে নিম্নলিখিতভাবে ভাগ করা যায় :

(a) প্রাথমিক খাদক (Primary consumer) : এরা সরাসরি উদ্ভিদখাদ্য গ্রহণ করে। পতঙ্গ থেকে শুরু করে বেশ কিছু বড় মাছ এই বর্গের অন্তর্গত। এছাড়াও জলে ভাসমান কিছু জুপ্ল্যাঙ্কটন— যেমন – ইউগ্লিনা, সাইক্লপস প্রভৃতিরা এই বিভাগের অন্তর্গত। X

(b) গৌণ খাদক (Secondary consumer) : এই প্রাণীরা প্রাথমিক খাদকদের খেয়ে জীবনধারণ করে। এর মধ্যে পতঙ্গ ও মৎস্য জাতীয় প্রাণীই প্রধান।

(c) প্রগৌণ খাদক (Tertiary consumer) : কিছু বৃহৎ মাছ ও অন্যান্য প্রাণী যারা তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র মাছ ও প্রাণীদের খেয়ে জীবন ধারণ করে।

3. বিয়োজক (Decomposers) : এরা প্রধানত জলের নিচের তলে কর্দমাক্ত অঞ্চলে অবস্থান করে যেখানে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃত ও গলিত দেহাংশগুলি এসে জমা হয়। এরা মৃত দেহাংশকে বিয়োজিত করে নিজেদের পুষ্টি সাধন করে এবং মৌল পদার্থকে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেয়। উদা ঃ ব্যাকটিরিয়া, ছত্রাক প্রভৃতি।

4. নিজীব পদার্থ (Abiotic materials) : বিভিন্ন ধরনের জৈব ও অজৈব পদার্থ যেমনজল, অক্সিজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, প্রভৃতি এবং এদের বিভিন্ন প্রকারের যৌগ প্রধান। এছাড়াও অ্যামাইনো অ্যাসিড, হিউমিক অ্যাসিড প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সূর্য থেকে আগত রশ্মি, তাপমাত্রার পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন, ও বিভিন্ন প্রকারের আবহওয়া ঘটিত কারণগুলি একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে।

Samiran

Content Creator / Author

Previous Post Next Post