পথের দাবী - অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী | প্রশ্নমান - ১

Pather Dabi Short Questions Answers, পথের দাবী (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) গল্পের অতি-সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (প্রশ্নমান ১ ) .

পথের দাবী (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) গল্পের অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো । সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর গুলো PDF ফাইলের মাধ্যমে দেওয়া আছে [সবশেষে ]।

পথের দাবী গল্পের অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (প্রশ্নমান - ১)

১). তেলের খনির কারখানার মিস্ত্রিরা কেন রেঙ্গুন চলে এসেছিল ?

বৰ্মা অয়েল কোম্পানিতে, তেলের খনির কারখানায় মিস্ত্রিরা কাজ করত। সেখনকার জলহাওয়া তাদের সহ্য হচ্ছিল না। তাই চাকরির উদ্দেশে তারা রেঙ্গুনে চলে এসেছিল।

২). কে পুলিশ স্টেশনে বসে থাকা বাঙালিদের তদন্ত করেছিলেন ?

পুলিশ স্টেশনের সামনের হলঘরে, কিছু বাঙালি তাদের জিনিসপত্র নিয়ে বসেছিলেন। জগদীশবাবু তাদের সকলের টিনের তোরঙ্গ ও ছোটো-বড়ো পুঁটুলি খুলে তদন্ত করছিলেন।

৩). কাকে, কী সন্দেহে আটকে রাখা হয়েছিল ?

পুলিশ স্টেশনের সামনের হলঘরে যারা বসেছিল, তাদের মধ্যে থেকেই একজনকে পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে আটকে রাখা হয়েছিল।

৪). পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিক কীভাবে পুলিশ স্টেশনে প্রবেশ করল ?

পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিক কাশতে কাশতে পুলিশ স্টেশনে প্রবেশ করল। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তার সমস্ত শরীর দ্রুতবেগে ক্ষয়ের দিকেই এগোচ্ছে।

৫). সব্যসাচীর চোখের দৃষ্টি দেখে কী মনে হয়েছিল ?

সব্যসাচীর গভীর জলাশয়ের মতো দৃষ্টির সামনে কোনোরকম খেলা বা চালাকি চলবে না | এই দৃষ্টির গভীরে যে ক্ষীণ প্রাণশক্তি লুকোনো আছে, মৃত্যুও সেখানে প্রবেশ করতে ভয় পায় |

৬). গিরীশ মহাপাত্রের বেশভূষার বাহার ও পারিপাট্য দেখে নিমাইবাবু কী বলেছিলেন ?

গিরিশ মহাপাত্রকে দেখে নিমাইবাবু বলেছিলেন, বেশভূষা দেখে মনে হচ্ছে তার স্বাস্থ্য গেলেও, শখ ষোলো আনাই বজায় আছে।

৭). পলিটিক্যাল সাসপেক্ট ব্যক্তিটি তার কী নাম বলেছিল ?

নিমাইবাবু নাম জিজ্ঞাসা করায়, পলিটিক্যাল সাসপেক্ট তার নাম বলেছিল গিরীশ মহাপাত্র |

৮). গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাঁক ও পকেট থেকে কী বার হয়েছিল ?

গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাঁক থেকে একটি টাকা আর গন্ডা ছয়েক পয়সা এবং পকেট থেকে একটা লোহার কম্পাস, একটা কাঠের ফুটরুল, কয়েকটা বিড়ি, একটা দেশলাই এবং গাঁজার একটি কলকে বের হয়েছিল।

৯). গিরীশ মহাপাত্রকে গাঁজা খাওয়ার প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে, সে কী বলে ?

গিরীশ মহাপাত্রকে গাঁজা খাওয়া প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, সে নিজে খায় না। কারোর কাজে লাগতে পারে ভেবে সে কুড়িয়ে পাওয়া কলকেটা নিজের কাছে রেখেছে।

১০). অপূর্ব পুলিশ স্টেশন থেকে বেরিয়ে কী দেখল ?

পুলিশ স্টেশন থেকে বেরিয়ে অপূর্ব দেখল গিরীশ মহাপাত্র একটা ভাঙা টিনের তোরঙ্গ আর বিছানার বান্ডিল সঙ্গে নিয়ে রাস্তা ধরে চলে যাচ্ছে।

১১). নিজের বাসায় ফিরে অপূর্ব কী করেছিল ?

নিজের বাসায় ফেরার পর তার প্রতিদিনের নিয়ম মেনে যে কাজকর্ম তা বাধা পেল ঠিকই, কিন্তু অপূর্ব অদেখা অদৃষ্ট অপরিচিত রাজবিদ্রোহীর চিন্তাতে মগ্ন রইল।

১২). তলওয়ারকার অপূর্বকে কী জিজ্ঞাসা করেছিল ?

অপূর্বকে বাড়ি ফিরে অত্যন্ত অন্যমনস্ক দেখে তলওয়ারকার জিজ্ঞাসা করেছিল সে তার বাড়ি থেকে কোনো চিঠি পেয়েছে কিনা এবং তার বাড়ির সবাই ভালো আছে কিনা।

১৩). রামদাস ও অপূর্ব কেন একসাথে জলযোগ করত ?

অপূর্বর সঙ্গে তার মা বা কোনো আত্মীয়া নারী না থাকায় রামদাসের স্ত্রীর অনুরোধ মেনে অপূর্ব রাদমাদের সঙ্গেই জলযোগ করত।

১৪). অপূর্ব কোন্ সময় তার বাড়িতে চুরির ঘটনাটা সবাইকে বলল ?

অফিসের এক ব্রাহ্মণ পেয়াদা অপূর্বর জন্য একটি নিস্তব্ধ ঘরে ভোজ্যবস্তু সাজিয়ে রাখলে অপূর্ব খেতে বসে বাড়িতে চুরির ঘটনা সবাইকে বলল ।

১৫). অপূর্বর ঘরে চুরি হওয়ার পর ক্রিশ্চান মেয়েটি কী করেছিল ?

অপূর্বর ঘরে চুরি হওয়ার পর ক্রিশ্চান মেয়েটি অবশিষ্ট জিনিসপত্র গুছিয়ে দিয়েছিল এবং কী চুরি গেছে আর কী যায়নি তার ফর্দ বানিয়েছিল।

১৬). চুরির ব্যাপারে অপূর্ব ও ক্রিশ্চান মেয়েটি কী অনুমান করেছিল ?

অপূর্বর ঘরে চুরি যাওয়ার ব্যাপারে অপূর্ব এবং ক্রিশ্চান মেয়েটি অনুমান করেছিল তেওয়ারি এ কাজটি করেছে অথবা না করলেও এব্যাপারে সাহায্য করেছে।

১৭). তেওয়ারী কোথায় গিয়েছিল এবং সে সময় কী ঘটনা ঘটেছিল ?

তেওয়ারী বর্মা নাচ দেখতে ফয়ারে গিয়েছিল আর সেই সময় অপূর্বর ঘরে চুরি হয়েছিল।

১৮). পুলিশে চুরির ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে গিয়ে অপূর্ব কী দেখল ?

অপূর্ব চুরির ব্যাপারে থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে দেখল সেখানকার পুলিশরা পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিক ভেবে আর একজনকে ধরেছেন। যার অদ্ভুত সাজ-পোশাক নিয়েই পুলিশ স্টেশনে তামাশা চলছে |

১৯). অপূর্ব কোন্ ঘটনার প্রতিবাদ করেছিল ?

কেনোরকম দোষ না থাকা সত্ত্বেও কিছু ফিরিঙ্গি ছেলে অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বার করে দিল। সে সেদিন এই অন্যায় ঘটনারাই প্রতিবাদ করেছিল।

২০). অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় অপূর্বকে কারা কীভাবে হেনস্থা করেছিল ?

অপূর্ব অন্যায় ঘটনার প্রতিবাদ করলে এক সাহেব স্টেশনমাস্টার সে ভারতীয় বলে তার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করে তাকে স্টেশন থেকে কুকুরের মতো দূর করে দেয়।

২১). কোন ঘটনা পরাধীন ভারতবর্ষে প্রায় নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছিল ?

পরাধীন ভারতবর্ষে দেশের লোকেদের বিদেশি সাহেবদের হাতে অপমান, লাঞ্ছনা অত্যাচারিত হওয়ার ঘটনা নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছিল।

২২). কী কারণে রামদাসের মুখ রাগে আরক্ত হয়ে উঠল ?

অপূর্বর মুখে ফিরিঙ্গিদের তাকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বার করে দেওয়া এবং সাহেব স্টেশনমাস্টারের কাছে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা শুনে রামদাসের মুখ রাগে আরক্ত হয়ে উঠল।

২৩). কী শুনে রামদাসের চোখ ছলছল করে উঠল ?

সাহেবদের কাছে অপূর্বর লাঞ্ছিত হওয়া সত্ত্বেও হিন্দুস্থানের লোকেরা কেউ কোনো প্রতিবাদ করেনি বরং লাথির চোটে অপূর্বর হাড়-পাঁজরা ভাঙেনি শুনে খুশি হয়েছিল। একথায় রামদাসের চোখ ছলছল করে উঠল।

২৪). বড়োসাহেব কী বলার জন্য টেলিগ্রাম নিয়ে অপূর্বর কাছে এসেছিলো ?

বড়োসাহেব অপূর্বকে বলেছিলেন ভামোর অফিসে বিশৃঙ্খল অবস্থা। ম্যাডোল, শোএবো, মিক্‌থিলা এবং প্রোম সব অফিসেই গোলযোগ হচ্ছে। তাই অপূর্ব যেন সব অফিসগুলো একবারে নিজে গিয়ে দেখে আসে।

২৫). ভামো নগরের উদ্দেশে কে, কাদের সঙ্গে রওনা হল ?

অপূর্ব ভামো নগরের উদ্দেশে বিকেলবেলার ট্রেনে, আরদালি এবং অফিসের একজন হিন্দুস্থানি ব্রাহ্মণ পেয়াদার সঙ্গে রওনা হল।

২৬). অপূর্ব ভামো নগরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার সময় কাকে দেখে কী জিজ্ঞাসা করল ?

ভামো নগরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার সময় গিরীশ মহাপাত্রকে দেখে তাকে অপূর্ব জিজ্ঞাসা করল, সে তাকে চিনতে পারছে কিনা এবং সে কোথায় যাচ্ছে।

২৭). পুলিশ স্টেশনে দেখা গিরীশ মহাপাত্রের সঙ্গে দ্বিতীয়বার যখন অপূর্বর দেখা হল, তখন গিরীশের পোশাকের কী পার্থক্য ঘটেছিল ?

অপূর্ব যখন দ্বিতীয়বার গিরীশ মহাপাত্রকে দেখল তখন তার বাহারি জামা থেকে শুরু করে পাম্প শু সবই একরকম ছিল। শুধুমাত্র চোখ আঁকা রুমালটা বুকপকেটের বদলে গলায় জড়ানো ছিল।

২৮). অপূর্ব দ্বিতীয়বার সাক্ষাতে গিরীশ মহাপাত্রকে কী বলেছিল ?

দ্বিতীয়বার সাক্ষাতে অপূর্ব গিরীশ মহাপাত্রকে বলেছিল যে, সে পুলিশের লোক নয় | সেদিন শুধুমাত্র তামাশা দেখবার জন্য সে পুলিশ স্টেশনে গিয়েছিল।

২৯). ট্রেনের মধ্যে কী কারণে অপূর্বর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটেছিল ?

রাতে অপূর্ব শোয়ার পরে প্রায় বার তিনেক পুলিশের লোকেরা তার নাম, ঠিকানা লিখে নেওয়ার জন্য তাকে জাগিয়ে বিরক্ত করায় অপূর্ব ঘুমের ব্যাঘাত ঘটেছিল।

৩০). কী ব্যাপারে অপূর্ব বিরক্ত হয়ে প্রতিবাদ করেছিল এবং তাকে কী বলা হয়েছিল ?

বারবার অপূর্বর ঘুম ভাঙিয়ে নাম-ঠিকানা জিজ্ঞাসা করায় যখন বিরক্ত হয়ে প্রতিবাদ করেছিল তখন তাকে কটুকণ্ঠে বলা হয়েছিল সে যেহেতু ইউরোপিয়ান নয়, তাই এগুলো তাকে সহ্য করতেই হবে।

৩১). নিমাইবাবুর সঙ্গে অপূর্বর কী ধরনের সম্পর্ক ছিল ?

নিমাইবাবু অপূর্বর আত্মীয়, অপূর্বর বাবার তিনি বন্ধু ছিলেন। অপূর্বর বাবাই তাঁকে চাকরি করে দিয়েছিলেন।

৩২). “লোকটি কাশিতে কাশিতে আসিল।”― লোকটি কে ?

লোকটি হল পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিক |

৩৩). “তুমি গাঁজা খাও?” কে, কাকে, কেন এই প্রশ্ন করেছিলেন ?

গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে একটি গাঁজার কলকে পাওয়া গিয়েছিল | তাই নিমাইবাবু তাকে উক্ত প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করেছিলেন।

৩৪). “সে যে বর্মায় এসেছে এ খবর সত্য।”—কার বর্মায় আসার কথা বলা হয়েছে ?

ভারতের মুক্তি সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিকের বর্মায় আসার কথা বলা হয়েছে।

৩৫). “বড়োবাবু হাসিতে লাগিলেন।”—বড়োবাবুর হাসির কারণ কী ?

গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভূত পোষাক এবং আচরণ দেখে জগদীশবাবু তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে বড়োবাবু হাসতে লাগলেন।

৩৬). “এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করার দরকার নেই, বড়োবাবু।”—বক্তার এমন উক্তির কারণ কী ?

সব্যসাচী সন্দেহে অদ্ভুত পোষাক পরিহিত গিরীশ মহাপাত্রকে থানায় আটকে রাখা হয়েছিল। তার চুলে লাগানো নেবুর তেলের গন্ধে থানাসুদ্ধ লোকের মাথা ধরার উপক্রম হয়েছিল। এমন লোক যে সব্যসাচী হতে পারেন না—একথা ভেবেই তাকে জগদীশবাবু ছেড়ে দিতে বলেছিলেন।

৩৭). “তারপর সকালে গেলাম পুলিশকে খবর দিতে।” কে, কেন পুলিশকে খবর দিতে গিয়েছিল ?

অপূর্বর ঘরে চুরি হয়েছিল। তাই সে পুলিশকে খবর দিতে গিয়েছিল।

৩৮). “অনুমান কতকটা তাই।”—বক্তার কী অনুমান ?

অপূর্ব সন্দেহ করেছিল তেওয়ারীই তার ঘরে চুরি করেছে। বক্তা রামদাসও এই অনুমান করেছিল।

৩৯). “এসব কথা বলায় দুঃখ আছে।”—কোন্ কথা বলায় দুঃখ আছে বলে বক্তার ধারণা ?

অপূর্ব রেঙ্গুনে এসে ভারতীয় বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বক্তা রামদাস মনে করেছিল অপূর্ব সব্যসাচীর কথা বললে ইংরেজদের রোষে পড়তে পারে।

৪০). “আমরও তো তাই বিশ্বাস |”—বক্তার কী বিশ্বাস ?

গিরীশ মহাপাত্র অপূর্বকে বলেছিল ললাটের লেখা কখনও খণ্ডন করা যায় না। অপূর্বও এইকথা বিশ্বাস করে বলে জানায়।


পথের দাবী (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক.pdf File Size - 1024KB
View

We are very glad that you want to share.
Thanks for sharing this.