পথের দাবী গল্পের ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (প্রশ্নমান - ৩)

Pather Dabi Questions Answers, পথের দাবী সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলী (প্রশ্নমান - ৩), পথের দাবী Pdf. পথের দাবী সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর.

পথের দাবী গল্পের ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো । সবশেষে পিডিএফ (PDF) ফাইল দেওয়া আছে ।

পথের দাবী গল্পের ব্যাখ্যা ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্নাবলী (প্রশ্নমান - ৩)

১. পুলিশ স্টেশনে প্রবেশ করে অপূর্ব কী দেখল ?

পুলিশ স্টেশনে প্রবেশ করে অপূর্ব দেখল, হলঘরের মধ্যে জনছয়েক বাঙালি নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে বসে আছে। যেসব বর্মা অয়েল কোম্পানির তেলের খনির কারখানায় কাজ করা মিস্ত্রিরা সেখানের জলহাওয়া সহ্য না হওয়ায় রেঙ্গুনে চলে এসেছিল তাদের টিনের তোরঙ্গ ও পুঁটলি খুলে তদন্ত করা হচ্ছে | পলিটক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে একজনকে আটকে রাখা হয়েছে | আর উপস্থিত যাত্রীদের নাম, ঠিকানা ও তাদের বিবরণ নিয়ে রেখে দেওয়া হচ্ছে।

২. “লোকটি কাশিতে কাশিতে আসিল”— লোকটিকে দেখে অপূর্বর কী মনে হয়েছিল?

সব্যসাচী মল্লিক কাশতে কাশতে নিমাইবাবুর সামনে হাজির হয়েছিল । লোকটির বয়স ত্রিশ-বত্রিশ-এর বেশি নয় | কাশির পরিশ্রমে সে এমনভাবে হাঁপাচ্ছিল যে দেখে মনে হয়েছিল তার আয়ু বোধহয় আর বেশিদিন নেই এবং কোনো দুরারোগ্য ব্যাধিতে তার সমস্ত দেহটা দ্রুত মৃত্যু র দিকে এগোচ্ছে | কিন্তু তার দৃষ্টি ছিল গভীর জলাশয়ের মতো। সেই দৃষ্টিতে কোনো চালাকি বা খেলা চলে না | এই দৃষ্টির অতলে যে প্রাণশক্তি লুকোনো ছিল যেখানে যেন মৃত্যুও প্রবেশ করতে সাহস করে না।

৩. “সাবধানে দূরে দাঁড়ানোই প্রয়োজন।” কোথা থেকে, কেন সাবধানে দূরে দাঁড়ানো প্রয়োজন ?

‘পথের দাবী' রচনাংশে কৌতূহলী অপূর্ব বিস্ময়ের দৃষ্টিতে সব্যসাচী সন্দেহে আটক করা গিরীশ মহাপাত্রের চেহারা লক্ষ করছিল। লোকটি ছিল ভীষণ রোগা, একটুখানি কাশির পরিশ্রমেই সে হাঁপাচ্ছিল। অপূর্বর মনে হচ্ছিল একটা ক্ষয়রোগ দ্রুত তাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে চলেছে। কিন্তু লোকটির চোখের দৃষ্টি ছিল অদ্ভুত। তার চোখদুটি ছিল গভীর জলাশয়ের মতো রহস্যময়। বিচক্ষণ অপূর্ব বুঝেছিল, গভীর জলাশয়ে খেলা যেমন বিপজ্জনক, তেমনি গিরীশ মহাপাত্রের রহস্যময় দৃষ্টি থেকে দূরে দাঁড়ানোই শ্রেয়।

8. “সেদিন কেবল তামাশা দেখতেই গিয়েছিলাম।” কোন্ দিনের কথা বলা হয়েছে? বক্তা কী তামাশা দেখেছিল? ১+২

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী' রচনাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র অপূর্ব যেদিন তার ঘরে চুরির সংবাদ পুলিশকে জানাতে গিয়েছিল, সেই দিনের কথাই এখানে বলা হয়েছে।

● সব্যসাচী সন্দেহে গিরীশ মহাপাত্রকে আটক করা হয়েছিল। তার টিনের তোরঙ্গ এবং কাছে থাকা জিনিসপত্র পরীক্ষা করে পুলিশের বড়ো কর্তা নিমাইবাবু কিছুই খুঁজে পাননি | বরং তার চেহারা এবং পোশাক নিয়ে থানার মধ্যে একটা কৌতুককর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল | নিমাইবাবুদের তল্লাশির কৌশল এবং গিরীশ মহাপাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনাকেই অপূর্ব তামাশা বলেছে।

৫. “কেবল এই জন্যই যেন সে আজও বাঁচিয়া আছে।”এখানে কার কথা বলা হয়েছে? কীজন্য সে আজও বেঁচে আছে? ১+২

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী' রচনাংশের অন্যতম চরিত্র সব্যসাচী সন্দেহে ধৃত গিরীশ মহাপাত্রের কথাই এখানে বলা হয়েছে | ● গিরীশ মহাপাত্রের আপাদমস্তক লক্ষ করে অপূর্ব বিস্মিত হয়েছিল | অত্যন্ত রুগ্ন চেহারা হওয়া সত্ত্বেও তার দুটি চোখের অদ্ভুত দৃষ্টি অপূর্বকে মুগ্ধ করেছিল। গভীর জলাশয়ের মতো সেই দুটি চোখের দৃষ্টিতে এক দুর্বোধ্য রহস্যময়তা বিরাজ করছিল | দুরারোগ্য ব্যাধি গিরীশ মহাপাত্রকে দ্রুত মৃত্যুর দিকে নিয়ে গেলেও তার অতল দৃষ্টির গভীরে ক্ষীগ প্রাণশক্তিটুকু লুকানো আছে। মৃত্যু সেখানে পৌঁছাতে পারে না। সেইজন্যই সে আজও বেঁচে আছে |

৬. গিরীশ মহাপাত্রের পোশাক-পরিচ্ছদের ও বেশভূষার যে বর্ণনা পাই তা লেখো।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' রচনাংশে গিরীশ মহাপাত্রের পোশাক-পরিচ্ছদের যে বর্ণনা পাই, তা বেশ কৌতুকপ্রদ। তার গায়ে ছিল জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি, যার বুকপকেট থেকে বাঘ-আঁকা একটা রুমালের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছিল। গায়ে কোনো উত্তরীয় ছিল না। পরনে ছিল বিলাতি মিলের কালো মখমল পাড়ের সূক্ষ্ম শাড়ি, পায়ে সবুজ রঙের ফুল মোজা —হাঁটুর ওপরে লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা| তার বার্নিশ করা পাম্প শু-র তলাটা আগাগোড়া লোহার নাল বাঁধানো ছিল আর হাতে ছিল হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া একগাছি বেতের ছড়ি; কয়েকদিনের জাহাজের ধকলে যেগুলি সব নোংরা হয়ে উঠেছিল।

৭. “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলো আনাই বজায় আছে’—কে, কার সম্পর্কে একথা বলেছেন? তার সম্পর্কে বক্তার এরূপ উক্তির কারণ কী। ১+২=৩

বাঙালি পুলিশ অফিসার নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্র সম্পর্কে একথা বলেছেন।

● গিরীশ মহাপাত্রের গায়ে ছিল জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি, তার বুক থেকে আঁকা একটি রুমালের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছিল, পরনে বিলাতি মিলের কালো ঝলমল পাড়ের সূক্ষ্ম শাড়ি, পায়ে সবুজ রঙের ফুল মোজা, পায়ে বার্নিশ করা পাম্প শু, হাতে হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি। রোগা, ক্ষীণদেহী মানুষটার এই পোষাকের বাহার দেখেই নিমাইবাবু আলোচ্য মন্তব্যটি করেছেন।

৮. “কী রূপ সদাশয় ব্যক্তি ইনি”— কী কারণে নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে সদাশয় ব্যক্তি বলেছিলেন?

গিরীশ মহাপাত্রের জিনিসপত্র যখন তদন্ত হচ্ছিল তখন তার কাছে গাঁজার কলকেও ছিল। কিন্তু যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে সে গাঁজা খায় কিনা, তার উত্তরে গিরীশ বলেছিল সে নিজে খায় না। গাঁজার কলকেটি সে পথে কুড়িয়ে পেয়েছে" এবং তারপর থেকে সেটিকে সে নিজের কাছেই রেখেছে। যদি কখনও কারোর কাজে লাগে তাহলে সে তাকে সেটি দিয়ে দেবে। তার এই অদ্ভুত পরোপকারের ইচ্ছের জন্য নিমাইবাবু তাকে সদাশয় ব্যক্তি বলেন।

৯. “যাঁকে খুঁজছেন তাঁর কালচারের কথাটা একবার ভেবে দেখুন।” কে, কাকে খুঁজছিলেন? তাঁর কালচারের কথা ভেবে দেখতে বলা হয়েছে কেন? ১+২

বাঙালি পুলিশ অফিসার নিমাইবাবু রাজবিদ্রোহী সব্যসাচী মল্লিককে খুঁজছিলেন।

● গিরীশ মহাপাত্র নামে যে ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল তার পোশাক-পরিচ্ছদ যেমন হাস্যকর ছিল, তেমনি চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল সংসারের মেয়াদ তার আর বেশি দিন নেই। একজন স্বনামধন্য রাজবিদ্রোহী কখনও ক্ষীণদেহী এবং রোগগ্রস্ত হতে পারেন না। তাঁর পোশাকের মধ্যেও থাকবে স্বাভাবিক ভব্যতা | গিরীশ মহাপাত্র যে কখনোই সব্যসাচী মল্লিক হতে পারে না, সেই কথাটা বোঝাতেই এখানে তার কালচারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

১০. “কিন্তু এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করবার দরকার নেই বড়োবাবু।” কাকে ‘জানোয়ার’ বলা হয়েছে? তাকে জানোয়ার বলার কারণ কী?

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী' নামক রচনায় সব্যসাচী সন্দেহে ধৃত গিরীশ মহাপাত্রকে ‘জানোয়ার’ বলা হয়েছে। ● গিরীশ মহাপাত্রের বেশভূষা ও তার চেহারাটা ছিল হাস্যকর। তার মাথার সামনের দিকে ছিল বড়ো বড়ো চুল, কিন্তু ঘাড় ও কানের দিকে চুল নেই বললেই চলে| সামান্য চুলেও সে এত লেবুর তেল মেখেছিল যে তার গন্ধে থানাসুদ্ধ লোকের মাথা ধরার উপক্রম হয়েছিল। এই অবাঞ্ছিত লোকটি কখনোই সব্যসাচী মল্লিক হতে পারে না। তাকে জগদীশবাবু ‘জানোয়ার’ বলেছিলেন।

১১. ‘পথের দাবী’ রচনায় গিরীশ মহাপাত্রের চেহারার যে বর্ণনা আছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।

‘পথের দাবী’ রচনায় গিরীশ মহাপাত্রের চেহারার যে বর্ণনা লিপিবদ্ধ হয়েছে তা হল, তার ফরসা রং রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে গেছে। একটু কাশির পরিশ্রমেই সে হাঁপিয়ে উঠেছে। তার শীর্ণ দেহ দেখে মনে হচ্ছে যেন সে দুরারোগ্য ব্যাধিগ্রস্ত। তার মাথার সামনের দিকে বড়ো বড়ো চুল, কিন্তু ঘাড় ও কানের দিকের চুল অত্যন্ত ছোটো করে ছাঁটা| মাথায় চেরা সিঁথি, অপর্যাপ্ত লেবুর তেলে চুলগুলি সিক্ত।

১২. “তুমি এখন যেতে পারো মহাপাত্র।”—বক্তা কে? মহাপাত্রকে যেতে বলা হয়েছে কেন? ১+২

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পথের দাবী' রচনাংশের বাঙালি পুলিশ অফিসার নিমাইবাবু হলেন আলোচ্যমান উক্তিটির বক্তা। • রাজবিদ্রোহী সব্যসাচী সন্দেহে গিরীশ মহাপাত্রকে থানায় আটক করা হয়েছিল। তার কাছে থাকা বাক্স-তোরঙ্গ এবং অন্যান্য জিনিসপত্র পরীক্ষা করে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি | তা ছাড়া স্বাধীনতাসংগ্রামী সব্যসাচীর কালচারের সঙ্গে গিরীশ মহাপাত্রের চেহারা ও বেশভূষার কোনো মিল ছিল না। সেই কারণে নিমাইবাবু তাকে চলে যেতে বলেছিলেন।

১৩. পুলিশের দলকে কী কারণে অপূর্বর নির্বোধ ও আহম্মক মনে হয়েছিল ?

পুলিশের দল পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে খুঁজেছিল আর সেই কারণেই গিরীশ মহাপাত্র বলে একজনকে সব্যসাচী সন্দেহে আটকে রাখা হয়েছিল। সেই গিরীশ মহাপাত্রের পোশাক-পরিচ্ছদ যেমন অদ্ভুত ছিল, তেমনই তার আচার-ব্যবহারও রহস্যপূর্ণ ছিল। তাকে নিয়ে রীতিমতো তামাশা চলছিল পুলিশ স্টেশনে। সেই ছিল আসল সব্যসাচী কিন্তু তার ছদ্মবেশে এবং আচরণে সে খুব সহজেই পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে সেখান থেকে

পালাতে সক্ষম হয়েছিল। গিরীশ মহাপাত্র সেজে সব্যসাচী পুলিশকে বোকা বানানোয় পুলিশের দলকে অপূর্বর নির্বোধ ও আহম্মক মনে হলো।

১৪. তলওয়ারকার কেন অপূর্বকে নিয়ে চিন্তিত ছিলেন?

অপূর্ব পুলিশ স্টেশন থেকে নিজের বাড়ি ফেরার পর তার মাথায় ঘুরছিল পুলিশ স্টেশনে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা। পুলিশরা গিরীশ মহাপাত্রকে পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে তদন্তও করছিলো। আর সেই সময় অপূর্ব সেখানে উপস্থিত ছিল| গিরীশ মহাপাত্রকে ঘিরে পুরো তামাশাটাই সে দেখেছিল। সে বাড়ি ফিরে সেই অপরিচিত রাজবিদ্রোহীর কথাই ভাবছিল | সংসার থেকে খানিকক্ষণের জন্য যেন সে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছিল | অপূর্বকে এইরকম অন্যমনস্ক দেখে তলোয়ারকার ভেবেছিল তার বাড়ির কেউ বোধহয় অসুস্থ, তাই সে চিন্তিত হয়ে পড়েছিল।

১৫. অপূর্বর ঘরে চুরি হওয়ার ঘটনাটি বর্ণনা করো।

অপূর্ব যে সময় ঘরে ছিল না সেসময় তার ঘরে ঘরে চুরি হয়েছিল। টাকাকড়ি কিছুই বাঁচানো যায়নি। কিন্তু একজায়গায় থাকা ক্রিশ্চান মেয়েটির জন্য টাকাকড়ি ছাড়া বাকি যে সমস্ত জিনিসপত্র ছিল সেইসব বাঁচানো গেছিল | না হলে সমস্ত কিছুই চুরি যেতে পারত। সেই ক্রিশ্চান মেয়েটি নিজে চোর তাড়িয়ে নিজে হাতে ছড়ানো জিনিসপত্র গুছিয়ে দেয় এবং কী কী জিনিস চুরি হয়েছে আর কী কী হয়নি, তার একটা ফর্দ তৈরি করে দেয়।

১৬. “বাস্তবিক, এমন তৎপর, এতবড়ো কার্যকুশলা মেয়ে আর যে কেহ আছে মনে হয় না।”—মেয়েটি সম্পর্কে এরূপ মন্তব্যের কারণ কী?

অপূর্বর অনুপস্থিতিতে তার ঘরে চুরি হয়েছিল | টাকাকড়ি সব গেলেও জিনিসপত্র বেঁচে গেছিল। কারণ তার ঘরের ওপর তলার ক্রিশ্চান মেয়েটি চোর তাড়িয়ে নিজের তালা দিয়ে ঘর বন্ধ করে রেখেছিল| অপূর্ব ফিরে এলে সে ঘরের তালা খুলে দিয়েছিল এবং ঘরের ছড়ানো জিনিসপত্র গুছিয়ে ছিল | কী আছে আর কী গেছে, তার নিখুঁত হিসাবও সে অপূর্বকে দিয়েছিল | বিদেশিনী মেয়েটির এই সহানুভূতি এবং কার্যকুশলতা অপূর্বকে মুগ্ধ করেছিল বলেই সে আলোচ্য মন্তব্যটি করেছে।

১৭. “যাঁকে তিনি দেশের টাকায়, দেশের লোক দিয়ে শিকারের মতো তাড়া করে বেড়াচ্ছেন তিনি ঢের বেশি আমার আপনার”— একথা কে, কেন বলেছিলেন?

উদ্ধৃতাংশটির বক্তা অপূর্ব। পুলিশের কর্তা ছিলেন অপূর্বর আত্মীয় | অপূর্ব তাঁকে কাকা বলে ডাকে আর এটাও জানে যে তিনি তার শুভাকাঙ্ক্ষী | কিন্তু যাকে ধরার জন্য পুলিশের কর্তা এত চেষ্টা করছেন তিনি আসলে বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক। এই সব্যসাচীর দেশের প্রতি ভালোবাসা, দেশের জন্য তাঁর স্বার্থত্যাগ অপূর্বকে মুগ্ধ করেছিল। দেশের জন্য তিনি নিজের প্রাণ দিতেও প্রস্তুত। অপূর্ব নিজের দেশকে ভালোবাসে তাই এইরকম মহাপ্রাণ ব্যক্তি নিজের আত্মীয়ের থেকেও তার অনেক বেশি কাছের।

১৮. ‘অপূর্ব তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া অর্থ বুঝিল’—অপূর্ব কার মুখের দিকে চেয়ে কী অর্থ বুঝল ?

নিমাইবাবু বাঙালি পুলিশ অফিসার। অথচ তিনি তাঁরই দেশের স্বাধীনতাযোদ্ধা সব্যসাচীকে ধরবেন বলে সুদূর রেঙ্গুনে এসেছেন। কিন্তু তাঁর অনুসন্ধানের দক্ষতা নিয়ে সে ব্যঙ্গ করেছে। কারণ সব্যসাচীকে তিনি ধরতে পারেন নি। ধরতে না পারাটাই অপূর্বর অভিপ্রেত বাসনা | কিন্তু বাঙালি হয়েও নিমাইবাবুরা বিট্রিশের দাসত্ব করেছেন—এটাতেই তার আপত্তি | অপূর্বর এই কথা শুনে রামদাস একটু শঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। কারণ ইংরেজদের পুলিশ সম্পর্কে এরূপ মন্তব্য করা উচিত বলে তার মনে হয়নি | তাই সে একটু গম্ভীর হয়ে বসেছিল | অপূর্ব রামসাদের মুখ দেখে সেটাই বুঝেছিল|

১৯. “তাছাড়া আমার বড়ো লজ্জা এই যে, এদের যিনি কর্তা তিনি আমার আত্মীয়, আমার বাবার বন্ধু।”—কে, বক্তার বাবার বন্ধু ? তাঁকে নিয়ে বক্তার লজ্জার কারণ কী? ১+২

বাঙালি পুলিশ অফিসার নিমাইবাবু হলেন বক্তা অপূর্বের বাবার বন্ধু |

● নিমাইবাবু বাঙালি | ইংরেজেদের অধীনে তিনি চাকরি করেন। বাঙালি তথা ভারতবাসী হয়েও তিনি স্বদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী সব্যসাচীকে গ্রেপ্তার করতে তৎপর হয়েছেন। নিমাইবাবুর এই কার্যকলাপ অপূর্ব মেনে নিয়ে পারেনি। নিজের দেশের মুক্ত সংগ্রামীকে গ্রেফতার করার তৎপরতা দেখে অপূর্ব আন্তরিকভাবে বেদনাহত হয়েছে। এই কারণেই সে নিমাইবাবুকে নিয়ে লজ্জা প্রকাশ করেছে।

২০. “কিন্তু এই হাসিতে তলওয়ারকর যোগ দিল না।” - কোন্ হাসি? তাতে তলওয়ারকরের যোগ না দেওয়ার কারণ কী? ১+২

রাজবিদ্রোহী সব্যসাচীর পিছনে নিমাইবাবু সদলবলে এদেশ ও ওদেশ করে বেড়াচ্ছিলেন। এঁদের ব্যর্থ তৎপরতার জন্য অপূর্ব হেসেছিল।

তলওয়ারকর বিচক্ষণ ব্যক্তি | অপূর্বর সুপ্ত দেশপ্রেম মাঝে মাঝেই প্রকাশ পেয়েছিল । কিন্তু চারিদিকে ব্রিটিশ পুলিশ ওঁত পেতে ছিল। এখানে ভারতপ্রেম দেখানো মানেই রাজদ্রোহিতার অপরাধে অপরাধী হওয়া। আর তেমনটি হলে হাজতবাস এবং জীবিকাহীন হয়ে পড়া নিশ্চিত | এই কারণেই নিজেকে এবং অপূর্বকে নিরাপদে রাখতেই তলওয়ারকর হাসিতে যোগ দেয়নি।

২১. “তার লাঞ্ছনা এই কালো চামড়ার নীচে কম জ্বলে না, তলওয়ারকর।” কোন্ লাঞ্ছনার কথা এখানে বলা হয়েছে ?

‘পথের দাবী’ থেকে গৃহীত উদ্ধৃত লাঞ্ছনার ঘটনাটি অপূর্ব বলেছিল| অপূর্বকে বিনা দোষে কিছু ফিরিঙ্গি ছেলে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বার করে দিয়েছিল শুধুমাত্র দেশি লোক বলে | তার নিজের দেশের স্টেশন থেকেই তাকে অপমান করে কুকুরের মতো তাড়িয়ে দিয়েছিল। ইংরেজের কাছে নিজের দেশেই এইভাবে লাঞ্ছিত হতে হয়েছিল অপূর্বকে

২২. “মনে হলে দুঃখে লজ্জায় ঘৃণায় নিজেই যেন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে যাই”— একথা বলার কারণ কী?

উদ্ধৃতাংশটি ‘পথের দাবী’ থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে অপূর্ব এ-কথাটি বলেছে। একদিন কিছু ফিরিঙ্গি ছেলে মিলে অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বার করে দেয় আর অপূর্ব তার প্রতিবাদ করতে গেলে সাহেব স্টেশনমাস্টার তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। এই চরম আপমান হিন্দুস্থানের লোকেদের গায়ে লাগেনি। লাথির চোটে যে অপূর্বর হাড়-পাঁজরা ভেঙে যায়নি সেটা শুনেই তারা খুশি হয়েছি ল | কিন্তু অপূর্বর অপমান, দেশের অপমান তাদের গায়েই লাগেনি বলে অপূর্ব একথা বলেছিল |

২৩. “এই সুখবরে তারা বেশ খুশি হয়ে গেল।”—সুখবরটি কী ? তাদের প্রতি বক্তার মনোভাব ব্যক্ত করো।

অপূর্বকে বিনাদোষে কিছু ফিরিঙ্গি ছেলে লাখি মারা সত্ত্বেও যে তার পাঁজর ভেঙে যায়নি এটাই ছিল সুখবর।

→ অপূর্ব যখন ফিরিঙ্গি ছেলেদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল, তখন সেখানে হিন্দুস্থানের লোকও উপস্থিত ছিল। অথচ তারা কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। লাখির চোটে তার হাড়পাঁজরা ভেঙে যায়নি। এটাই ছিল উপস্থিত ভারতীয়দের কাছে খুশির ব্যাপার| স্বদেশ চেতনাহীন নির্বোধ এই ভারতীয়দের প্রতি অপূর্বর ঘৃণা ও ক্রোধ বর্ষিত হয়েছে উক্তিটির মধ্যে দিয়ে।

২৪. “কই, এ ঘটনা তো আমাকে বলেন নি?” কে, কাকে এ কথা বলেছে? কোন্ ঘটনার কথা বলা হয়েছে? ১+২

অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পথের দাবী’ রচনায় রামদাস তলওয়ারকর এ কথা বলেছে অপূর্বকে

→ অপূর্বকে বিনাদোষে কিছু ফিরিঙ্গি ছেলে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে গেলে সাহেব স্টেশনমাস্টার শুধু ভারতীয় বলে অপূর্বকে স্টেশন থেকে কুকুরের মতো তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এখানে এই ঘটনার কথাই বলা হয়েছে।

২৫. “নানা কারণে রেঙ্গুনে তাহার আর একমুহূর্ত মন টিকিতেছিল না।” এখানে কার কথা বলা হয়েছে? তার মন না টেকার কারণ কী? ১+২

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ রচনাংশ থেকে উদ্ধৃত অংশে অপূর্বর কথাই বলা হয়েছে।'

→ অপূর্ব বোথা কোম্পানির চাকরি নিয়ে রেঙ্গুনে এসেছিল | সেখানে নানা নির্যাতন অপূর্বকে সহ্য করতে হয়েছিল। একবার স্টেশনে বিনাদোষে ফিরিঙ্গি ছেলেরা তাকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দিয়েছিল। প্রতিবাদ জানাতে গেলে সাহেব স্টেশনমাস্টার তাকে কুকুরের মতো স্টেশন থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এইসব ঘটনার জন্যই রেঙ্গুনে অপূর্বর মন টিকছিল না।

২৬. “অতএব যাওয়াই স্থির হইল”—কী কারণে, কোথায় | মাওয়াই স্থির হল?

অফিসের বড়োসাহেব অপূর্বকে বলেছিলেন ভামোর অফিসে কোনো শৃঙ্খলা নেই। এছাড়া ম্যানডালে, শোএবো, মিক্‌থিলা অফিসেও গণ্ডগোল হয়েছে। তাই অপূর্ব যেন সব অফিসগুলো একবার গিয়ে দেখে আসে, কারণ বড়োসাহেবের অবর্তমানে তাকেই সব দায়িত্ব নিতে হবে। তাই বড়োসাহেবের নির্দেশে খুব তাড়াতাড়ি সেখান থেকে বেরিয়ে অপূর্বর ভামো নগর যাওয়ার কথা ছিল | নানা কারণে রেঙ্গুনে অপূর্বর মন টিকতে চাইছিল না। তাই সে নিজেও চাইছিল রেঙ্গুনের বাইরে যেতে। বড়োসাহেবের নির্দেশে তাই অপূর্ব ভামো নগরের উদ্দেশে যাত্রা করল।

২৭. “অপূর্ব হঠাৎ চকিত হইয়া বলিয়া উঠিল”— স্টেশনে কী দেখে অপূর্ব চমকে উঠেছিল?

অপূর্ব তার অফিসের বড়োসাহেবের নির্দেশে রেঙ্গুন থেকে ভামোর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল | স্টেশনে যখন ট্রেন ছাড়তে কিছুক্ষণ দেরি ছিল সেই সময় সে পুলিশ স্টেশনে পরিচয় হওয়া গিরীশ মহাপাত্রকে দেখে চমকে উঠেছিল। যেভাবে পুলিশ স্টেশনে গিরীশ মহাপাত্রকে দেখেছিল তার সেই একইরকম সাজপোশাক ছিল | সঙ্গে সেই একই বাহারে জামা, সবুজ মোজা, পাম্প শু আর ছড়ি। একটা রুমাল বুকপকেট ছাড়িয়ে গলায় জড়ানো— এটাই ছিল পার্থক্য।

২৮. ‘‘আপাতত ভামো যাচ্ছি। তুমি কোথায়?” কে, কাকে একথা জিজ্ঞাসা করেছে? উত্তরে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কী জানিয়েছিল? ১+২=৩

অপূর্ব গিরীশ মহাপাত্রকে একথা জিজ্ঞাসা করেছে।
→ অপূর্ব যখন গিরীশকে জিজ্ঞাসা করল, সে কোথায় যাচ্ছে, তখন গিরীশ বলেছিল, তার দুজন বন্ধু আসবে এবং আগের দিনের পুলিশ স্টেশনের ঘটনার উল্লেখ করে সে বলে, তাকে শুধুই হয়রান করা হয়েছে। সে গাঁজা খায় না কারণ সে একজন ধর্মভীরু মানুষ। সে জোচ্চুরি করেনা। ধর্মের ভয় তার আছে। তাই ধর্মবিরুদ্ধ কোনো কাজ করলে পাপের ভয়ও আছে | কপালে যা লেখা আছে সেটা হবেই, তা কেউ খণ্ডাতে পারবে না।

২৯. ‘তুমি তো ইউরোপিয়ান নও’— একথা কে, কী কারণে বলেছিল?

অপূর্ব ট্রেনে করে ভামো নগরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল | প্রথম শ্রেণির টিকিট কেটে সে ভেবেছিল নিশ্চিন্তমনে যাত্রা করতে পারবে, কোনো কিছুতে ব্যাঘাত ঘটবে না | কিন্তু তা হয়নি | নিজের সমস্ত কাজ শেষ করে সে ঘুমোতে গিয়েছিল, কিন্তু পুলিশের লোক এসে বার-তিনেক তার ঘুম ভাঙিয়েছিল, নাম-ঠিকানা জিজ্ঞাসা করে গিয়েছিল। এইভাবে বারবার পুলিশের লোক এসে তাকে বিরক্ত করায়, সে যখন প্রতিবাদ করে তখন বর্মার সাব-ইনস্পেক্টর কটুকণ্ঠে তাকে বলে, সে ইউরোপিয়ান নয় |

৩০. “কোন এক অদৃষ্ট অপরিজ্ঞাত রাজবিদ্রোহীর চিন্তাতেই ধ্যানস্থ হইয়া রহিল।”—উদ্দিষ্ট ব্যক্তির এরূপ ধ্যানস্থ হবার কারণ কী?

চিন্তা কেন্দ্রীভূত হলে মানুষ ধ্যানস্থ হয়| অপূর্ব বাংলা দেশের ছেলে | একসময় সেও স্বদেশি করত। তাই স্বাধীনতাসংগ্রামীদের প্রতি তার মনের গভীরে নিহিত ছিল অপরিমেয় শ্রদ্ধা ও ভক্তি | স্বদেশের মুক্তি সংগ্রামী সব্যসাচীর কাল্পনিক মূর্তি মনের ক্যানভাসে এঁকে নিয়ে সে তাঁর চিন্তাতেই মগ্ন হয়ে পড়ে। শুধু দেশের জন্য সংসারপরিজন, ব্যক্তিসুখ ত্যাগ করে এই মহান বিপ্লবী দেশান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন | সেই বিপ্লবীর চিন্তায় মগ্ন হয়েই অপূর্ব ধ্যানস্থ হয়ে পড়ে।


পথের দাবী গল্পের ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (প্রশ্নমান - ৩).pdf File Size - 1.7 MB
View

We are very glad that you want to share.
Thanks for sharing this.