নদীর বিদ্রোহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর সাজেশন

নদীর বিদ্রোহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর সাজেশন, নদীর বিদ্রোহ প্রশ্ন উত্তর, নদীর বিদ্রোহ গুরুত্বপূর্ণ সাজেশন, নদীর বিদ্রোহ প্রশ্ন সাজেশন.

নদীর বিদ্রোহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (প্রশ্নমান-৩)

  1. নদেরচাঁদের নদীর প্রতি এত মায়া কেন তার নিজের কাছেই অস্বাভাবিক বলে মনে হয়?
  2. ● নদেরচাদের নদীর প্রতি ভালোবাসা, মায়া, মমতা একটু বেশি রকম ছিল। এমনকি বেশিদিন নদীকে না দেখতে পেলে, নদীকে দেখার জন্য ছেলেমানুষের মতো সে উৎসুক হয়ে উঠত। কিন্তু একজন সাধারণ স্টেশনমাস্টার হয়ে চেনা ছক বা চেনা গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে নদীকে ভালোবাসা কিছুটা হলেও তার পক্ষে যেন বেমানান | তাই নদেরচাদের নদীর প্রতি এত মায়া তার নিজের কাছেই অস্বাভাবিক বলে মনে হয়।

  3. “নদীর জন্য এমনভাবে পাগল হওয়া কি তার সাজে?” কে, কেন এরূপ প্রশ্ন করেছে?
  4. ● মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের নায়ক নদেরচাদ নদীর জন্য পাগল হত। পেশায় সে স্টেশনমাস্টার | ছোটো হোক, বড়ো হোক, স্টেশনমাস্টারের কাজ দায়িত্বপূর্ণ। দিনরাত মেল, প্যাসেঞ্জার আর মালগাড়িগুলির ছোটাছুটি নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব যাদের, নদেরচাঁদও তাদের মধ্যে একজন। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ভুলে | সবসময় নদীর জন্য পাগল হওয়া তার সাজে না। তাই নদেরচাদ নিজেকেই এই প্রশ্ন করেছে।

  5. “নদীকে এভাবে ভালোবাসবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিতে পারে।” কোন্ প্রসঙ্গে এই কথা বলা হয়েছে? কী কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিতে পারে?
  6. ● মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদ পেশায় ছিল একজন স্টেশনমাস্টার। কিন্তু একজন সাধারণ স্টেশনমাস্টার হয়ে নদীর প্রতি এরকম টান, নদীর জন্য এমনভাবে পাগল হওয়া খানিকটা অস্বাভাবিক মনে হলে নদেরচাদের নদীকে এভাবে ভালোবাসার একটা কৈফিয়ত দেওয়ার কথা লেখক বলেন। → নদেরচাদের নদীকে ভালোবাসার কৈফিয়তটি ছিল এই যে, তার শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে নদী। যেহেতু নদীর ধারেই তার জীবনের বেশিরভাগটাই কেটেছে নদীর ধারে, তাই চিরদিন সে নদীকে ভালোবেসেছে।

  7. “সে প্রায় কাঁদিয়া ফেলিয়াছিল।”—কী কারণে সে প্রায় কেঁদে ফেলেছিল?
  8. ● নদেরচাদের কাছে নদী হল জীবন্ত মানুষের প্রতিমূর্তি। জলপূর্ণ নদী তার কাছে প্রাণময় মানুষের মতো। একবার সে তার জন্মভূমির নদীটিকে শুকিয়ে যেতে দেখেছিল। সেবার অনাবৃষ্টির বছর ছিল। তাই নদীর ক্ষীণ স্রোতোধারা প্রায় বিশুষ্ক হয়ে পড়েছিল। নদীর শুকিয়ে যাওয়া নদেরচাদের কাছে মানুষের মৃত্যুর সমতুল্য | তাই সে জন্মভূমির আবাল্য পরিচিত নদীটির জন্য প্রায় কেঁদে ফেলেছিল।

  9. “দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগিতে ভুগিতে পরমাত্মীয়া মরিয়া | যাওয়ার উপক্রম করিলে মানুষ যেমন কাঁদে।”—কেন একথা বলা হয়েছে?
  10. ● ‘নদীর বিদ্রোহ' ছোটোগল্পে নদেরচাঁদ চরিত্রটির নদীর ধারেই জন্ম, নদীর ধারেই সে মানুষ হয়েছে। তাই নদীর প্রতি তার এক অদ্ভুত টান ছিল।

    নদেরচাদের দেশের ক্ষীণস্রোতা ও নির্জীব নদীটি অসুস্থ, দুর্বল আত্মীয়ার মতোই তার মমতা পেয়েছিল। একবার অনাবৃষ্টিতে এই ক্ষীণস্রোতা নদীর জল শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে নদেরচাঁদের ভীষণ কষ্ট হয়েছিল। সে এমনভাবে কেঁদেছিল যেন কোনো দুরারোগ্য ব্যাধিতে তার কাছের আত্মীয় মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কারণ এই নদীকে সে পরমাত্মীয়ের মতোই ভালোবাসত।

  11. ‘নদেরচাঁদ সব বোঝে, নিজেকে কেবল বুঝাইতে পারে না।'—নদেরচাঁদ কী বোঝে? সে নিজেকে বোঝাতে পারে না কেন?
  12. ● নদীর প্রতি নদেরচাদের এত বেশি মায়া একটু অস্বাভাবিক | এই কথাটি সে বোঝে।

    ● নদেরচাঁদ জানে তার নদীপ্রীতিকে কেউ সমর্থন করবে না। এটা তার একান্ত নিজস্ব অনুভূতি। এই অনুভূতি সর্বজনীন নয় | তাছাড়া সে যে কাজে নিযুক্ত তাতে নদী সম্পর্কে এত চিন্তা করাটাও বিপজ্জনক। কেননা, সে যে একজন স্টেশনমাস্টার তথাপি নদেরচাদ তার মনকে বোঝাতে পারে না | এক অজানা কারণেই তার চঞ্চল মন সর্বদা নদীর কাছেই ছুটে যায়।

  13. নদেরচাঁদের দেশের নদী আর স্টেশনমাস্টারি করতে এসে পরিচিত নদী, এই দুই নদীকে ভালোবাসার প্রকৃতি বা স্বরূপ কীরকম ছিল?
  14. ● নদেরচাদের দেশের ক্ষীণস্রোতা নদী যেন অসুস্থ দুর্বল আত্মীয়ের মতোই তার মমতা পেয়েছিল। নদীর জল শুকিয়ে এলে নদেরচাঁদ পরমাত্মীয়র বিয়োগ ব্যথায় কেঁদেছিল।

    অন্যদিকে স্টেশনমাস্টারি করতে এসে পরিচিত গভীর প্রশস্ত নদী ছিল তার পরমবন্ধু। একদিনও সে নদীকে না দেখে থাকতে পারত না । নদীর স্রোতে নিজের স্ত্রীকে লেখা চিঠি ফেলে এক অদ্ভুত খেলায় নদেরচাঁদ মেতে উঠত। নদীও যেন তার খেলায় যোগ দিয়েছিল । এইরকমই ছিল তার ভালোবাসা |

  15. “চার বছরের চেনা এই নদীর মূর্তিকে তাই যেন আরও বেশি ভয়ংকর, আরও বেশি অপরিচিত মনে হইল।”—কেন নদেরচাদের কাছে নদীর মূর্তি অপরিচিত বলে মনে হল আলোচনা করো।
  16. ● উদ্ধৃতাংশটিতে নদেরচাদের স্টেশনমাস্টারি করতে এসে পরিচয় হওয়া বাঁধে বন্দি নদীটির কথা বলা হয়েছে। এই নদী গভীর, প্রশস্ত ও জলপূর্ণ। কিন্তু প্রবল বর্ষায় পাঁচ দিন সে নদীকে দেখতে যেতে পারেনি। পাঁচ দিন পরে গিয়ে নদেরচাঁদ দেখল, নদী যেন তার বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিদ্রোহ করছে। নদীর গাঢ় পঙ্কিল জল ফুলেফেঁপে ছুটে চলেছে | নদীর এই ভয়ংকর রূপ নদেরচাঁদ আগে কখনও দেখেনি | তাকে তার অপরিচিত বলে মনে হল।

  17. নদেরচাঁদ নদীর সঙ্গে যে খেলায় মেতে উঠেছিল, সেই খেলাটি কীরকম ছিল?
  18. ● এক বর্ষার দিনে নদীর কাছে গিয়ে নদেরচাঁদ দেখল নদীর জল ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বাধা পেয়ে এক ফেনিল আবর্ত রচনা করেছে। সে পকেট থেকে অনেকদিন আগে স্ত্রীকে লেখা একটা চিঠি বার করে নদীর স্রোতে ছুড়ে ফেলল। চোখের পলকে সেই চিঠি অদৃশ্য হয়ে গেল। চিঠির এক-একটি পাতা ছিঁড়ে দুমড়ে-মুচড়ে সে নদীর মধ্যে ফেলতে লাগল আর নদীও যেন সেগুলি নিজের মধ্যে লুকিয়ে ফেলতে লাগল। এইভাবে নদেরচাঁদ এক অদ্ভুত খেলায় মেতে উঠেছিল।

  19. “আজ যেন সেই নদী ক্ষেপিয়া গিয়াছে।” নদীর খেপে যাওয়ার মধ্যে নদেরচাঁদ কোন্ সত্য উপলব্ধি করেছে?
  20. ● বর্ষায় নদী টইটুম্বুর হয়ে উঠেছে। প্রবল তার জলস্রোত। পরিপূর্ণতার আনন্দে সে যেন মাতোয়ারা। কোনো বাধা সে মানতে চায় না। প্রমত্ত জলের ঘূর্ণিতে পঙ্কিল আবর্ত সৃষ্টি হয়েছে। নদেরচাঁদ মনে করেছে, নদী এবার বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। মানুষ তেমনই নদীও যেন আজ আগ্রাসী মানুষের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে বিদ্রোহী হলে যেমন দুর্বার দুরন্ত হয়, হয়ে ওঠে প্রতিবাদী, ঠিক চাইছে।

  21. “নদেরচাঁদের ভারী আমোদ বোধ হইতে লাগিল।” কী কারণে নদেরচাদের এমন অবস্থা হয়েছিল লেখো।
  22. ● নদেরচাঁদ নদীকে বড়ো বেশি ভালোবাসত। বর্ষায় নদী পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। সে বিমুগ্ধ চোখে পরিপূর্ণ নদীকে দেখছিল। উন্মত্ত জলস্রোত পাগলের মতো ছুটে চলেছিল | জলস্তর এত উঁচুতে উঠে এসেছিল যে, নদেরচাদ হাত বাড়িয়ে তা ছুঁতে পারত | নদী যেন এখন পূর্ণ যৌবনা | অপ্রতিরোধ্য তার গতি | জলের কোলাহল যেন প্রাণের কোলাহল | নদীর এই পরিপূর্ণ রূপ দেখে নদেরচাদের ভারী আমোদ বোধ হয়েছিল।

  23. “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের”—কী কারণে নদেরচাঁদের ভয় করতে লাগল?
  24. ● নদেরচাদ নদীর সঙ্গে খেলায় মেতেছিল। মুষলধারে বৃষ্টি নামলেও সে ভিজে ভিজেই নদীর পরিপূর্ণ রূপ দেখছিল| তারপর দিনের ম্লান আলোটুকু ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। চারিদিকে নেমে এল নিবিড় অন্ধকার | বৃষ্টি একটু থেমে আবার প্রবল বেগে শুরু হল। নদীর কলধ্বনি আর বর্ষণের ঝমঝম শব্দ সংগীতের ঐকতান সৃষ্টি করল | নদেরচাদের মন থেকে ছেলেমানুষি আমোদ মিলিয়ে গেল | সহসা যেন তার সর্বাঙ্গ অবশ, অবসন্ন হয়ে এল | এই পরিবেশে নদীর রহস্যময়তা দেখে নদেরচাদের ভয় করতে লাগল |

  25. “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।”—কে কীভাবে নদীর বিদ্রোহের কারণ বুঝতে পারল?
  26. ● পাঁচ দিন টানা বৃষ্টির পর নদীর কাছে গিয়ে নদেরচাঁদ দেখল নদীর পঙ্কিল জলস্রোত ফুলেফেঁপে উদ্দাম গতিতে ছুটে চলেছে | নদী যেন কোন্ এক রোষে, ক্ষোভে উন্মত্ত | নদীর জলস্রোত প্রায় ব্রিজের কাছাকাছি উঠে এসে ব্রিজ ও বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে যেতে চাইলে নদেরচাদ নদীর বিদ্রোহের কারণ বুঝতে পারল | তার মনে হল, নদী যেন মুক্তি পেতে চাইছে, ফিরে পেতে চাইছে তার স্বাভাবিক গতি, আর তাই তার এই বিদ্রোহ।

  27. “কী প্রয়োজন ছিল ব্রিজের?” কোন্ ব্রিজের কথা বলা হয়েছে? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির তা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছে কেন?
  28. ● নদেরচাঁদ যে স্টেশনে স্টেশনমাস্টারির কাজে নিযুক্ত ছিল তার অনতিদূরেই ছিল একটি নদী। এই নদীটির ওপর যে কংক্রিটের ব্রিজ ছিল, এখানে সেই ব্রিজটির কথাই বলা হয়েছে।

    ● আগে নদেরচাদ নদীর ব্রিজটিকে নিয়ে গর্ব অনুভব করত। কিন্তু বর্ষায় নদী জলে পরিপূর্ণ হলে নদেরচাঁদের মনে হল ব্রিজটি যেন নদীর পায়ের শেকল। ব্রিজের থামগুলো যেন নদী প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা। নদীর স্বাধীনতাকে অবরুদ্ধ করে এমন কোনো জিনিস নদেরচাঁদের অভিপ্রেত নয়। তাই নদেরচাঁদের মনে হল PERK ব্রিজটির কোনো প্রয়োজন ছিল না।

  29. ‘পারিলেও মানুষ কি তাকে রেহাই দিবে?'—কার, কী পারার কথা বলা হয়েছে? মানুষ কীভাবে তাকে রেহাই দেবে না?
  30. নদী ইচ্ছা করলে তার তীব্র জলস্রোতে মানুষের গড়া বাঁধ চুরমার করে দিতে পারে।

    ● কিন্তু তবুও মানুষ তাকে রেহাই দেবে না। তারা আবার নতুন করে বাঁধ তৈরি করবে, প্রবাহমান জীবন্ত নদীকে বন্দি করবে ইচ্ছামতো| নীরব নদী মুখ বুজে সেসব সহ্য করবে। এ ছাড়া তার কীবা করার আছে | কারণ মানুষের আগ্রাসন কখনও শেষ হয় না। নদী পেরে ওঠে না তার সঙ্গে।

  31. “বন্দি নদীকে ভালোবাসিয়াছে,”—এখানে কার ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে? কেন নদীকে বন্দি বলা হয়েছে?
  32. ● মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশে নদেরচাদের ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে।

    নদেরচাদের স্টেশনমাস্টারি করতে এসে পরিচিত হওয়া নদীটি ছিল গভীর, প্রশস্ত ও জলপূর্ণ। তার প্রবল গতিবেগ রুদ্ধ করা হয়েছিল বাঁধ দিয়ে, আর নদীর ওপরে ছিল ব্রিজ। এই বাঁধ আর ব্রিজ যেন নদীকে বন্দি করে রেখেছিল। নদী ফিরে পেতে চেয়েছিল স্বাভাবিক গতি | কিন্তু বাঁধ দিয়ে নদীর প্রবল জলস্রোতকে আটকে সত্যিই তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল।

নদীর বিদ্রোহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর সাজেশন (প্রশ্নমান-৫)

  1. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদের নদীর প্রতি যে ভালোবাসা ও সখ্যভাব চিত্রিত হয়েছে তা আলোচনা করো।
  2. ● মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ' গল্পে পেশায় স্টেশনমাস্টার নদেরচাদের জন্ম থেকেই যেন নদী তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে। তাই বর্ষায় পাঁচ দিন নদীকে দেখতে না পেলে তার মন ছটফট করত, ছেলেমানুষের মতো ঔৎসুক্য বোধ করত নদীর দেখা পাওয়ার জন্য।

    → নদীর ধারেই তার শৈশব, কৈশোর, যৌবন কেটেছে | স্টেশনমাস্টারি করতে এসে সে পরিচিত প্রশস্ত জলপূর্ণ নদীকে যেমন ভালোবেসেছিল তেমনই তার দেশের ক্ষীণস্রোতা নির্জীব নদীটিকেও সে নিজের পরম আত্মীয়া রূপে কল্পনা করেছিল। অনাবৃষ্টিতে শুকিয়ে যাওয়া নদীর জন্য সে এমনভাবে কেঁদেছিল যেন দুরারোগ্য ব্যাধিতে তার পরম আত্মীয়ার মৃত্যু আসন্ন |

    → বর্ষার জলে পরিপুষ্ট নদীর আনন্দের ছোঁয়া নদেরচাঁদের মনেও লেগেছিল। আবার নদীর পঙ্কিল জলস্রোতের আবর্তে সে তার স্ত্রীকে লেখা দীর্ঘ চিঠি ফেলে এক অদ্ভুত খেলায় মেতে ওঠে, মনে হয় নদী যেন সেই চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা লুকিয়ে ফেলছে তার স্রোতের গভীরে | বাঁধ আর ব্রিজের মধ্যে থেকে নদীর মুক্তিলাভের কামনাই করেছে নদেরচাঁদ | নদীর বন্দিদশা নদেরচাঁদকে যেন কষ্ট দিয়েছিল | এইভাবে নদী কখনও নদেরচাদের পরম আত্মীয়, কখনও বা বন্ধু হয়ে উঠেছে।

  3. নদেরচাঁদ নদীকে ভালোবাসার প্রতিদান কীভাবে পেয়েছিল গল্পের প্রেক্ষিতে তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো।
  4. ● মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নদীর বিদ্রোহ' ছোটোগল্পে নদেরচাঁদ চরিত্রটির জীবনে ছেলেবেলা থেকেই জড়িয়ে আছে নদী। স্টেশনমাস্টার হিসেবে কর্মসূত্রে সে যেখানে এসেছে সেখানেও ব্রিজ, বাঁধ দিয়ে ঘেরা এক নদীর জন্য সে একইরকম টান অনুভব করেছে। ব্রিজের মাঝামাঝি ইট, সুরকি, সিমেন্টে গাঁথা ধারকস্তম্ভের শেষ প্রান্তে বসে প্রতিদিন সে নদীকে দেখেছে। বর্ষার কারণে নদীকে পাঁচ দিন দেখতে না পেলে সে ছটফট করেছে। বাঁধে ঘেরা নদীর জলোচ্ছ্বাস দেখে তার মনে হয়েছে নদী যেন বিদ্রোহ করছে। নদীর যন্ত্রণা সে যেন মন থেকে অনুভব করেছে। তাই সে নদীর মুক্তি কামনা করেছে। যে রং করা ব্রিজের জন্য সে গর্ব অনুভব করেছে আজ নদীর বন্দিদশার কারণ ব্রিজকেই তার অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছে। এসব ভাবতে ভাবতে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছে সে। যখন রেললাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে স্টেশনের দিকে এগিয়ে গেছে তখনই নদেরচাদের জীবনে নদীকে ভালোবাসার ফলস্বরূপ নেমে এসেছে করুণ পরিণতি। একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেন নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে চলে গেছে। নদীকে ভালোবাসার প্রতিদান সে এইভাবেই পেয়েছে।

  5. ‘মানুষ কি তাকে রেহাই দিবে?'—নদেরচাঁদের এ কথা মনে হওয়ার কারণ বর্ণনা করো।
  6. ● মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পটিতে একজন সাধারণ স্টেশনমাস্টার নদেরচাদ নদীকে ভালোবেসেছিল পরমাত্মীয়, বন্ধুর মতো। নদীর প্রতি সে অসম্ভবরকম এক টান অনুভব করত। তার জীবনের যেন অর্ধেকটা জুড়েই ছিল নদী। যেখানেই সে থেকেছে, সেখানকার নদীকেই সে ভালোবেসেছে। স্টেশনমাস্টারি করতে এসে সে পরিচিত হয় প্রশস্ত জলপূর্ণ অথচ বন্দি এক নদীর সঙ্গে। ব্রিজ, বাঁধ দিয়ে তাকে বন্দি করে রেখেছে মানুষ | নদেরচাদের মনে হয়েছিল নদী যেন বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে | ব্রিজ আর বাঁধকে ভেঙে চুরমার করে দিয়ে নদী যেন ফিরে পেতে চেয়েছে তার স্বাভাবিক গতি। নদী যেন যান্ত্রিকতা তথা মানবসভ্যতার বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ করছে | সে ভেঙে চুরমার করে দিতে চেয়েছে ব্রিজ আর বাঁধকে। এইরকম একটা পরিস্থিতিতে নদেরচাঁদের মনে হয়েছে আজ যদি নদী ব্রিজ, বাঁধ ভেঙে নিজে বন্দিদশা কাটিয়েও ওঠে, মানুষ তাকে রেহাই দেবে না। নিজেদের সুবিধার্থে আবারও নদীকে তারা বন্দি করবে। আবার মানুষ গড়ে তুলবে ব্রিজ, গড়ে তুলবে বাঁধ| তাকে আবার বন্দি করবে। প্রশস্ত নদীকে পরিণত করবে ক্ষীণস্রোতা নদীতে।

  7. ‘জলপ্রবাহকে আজ তাহার জীবন্ত মনে হল।'—কার জলপ্রবাহকে জীবন্ত মনে হল? জীবন্ত মনে হওয়ার কারণ কী ছিল তা বর্ণনা করো।
  8. ● মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নদীর বিদ্রোহ’ ছোটোগল্পে নদেরচাঁদের নদীকে জীবন্ত বলে মনে হয়েছিল।

    → ইতিপূর্বে তার দেশের নদীটির সঙ্গে নদেরচাদের সখ্য গড়ে উঠলেও সেই নদীটি ছিল ক্ষীণ, রুগ্ন। রোগক্লিষ্ট পরমাত্মীয়ার প্রতি মানুষের যেমন মায়া-মমতা-সহানুভূতি গড়ে ওঠে, দেশের নদীটির প্রতিও নদেরচাদের তেমন সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। স্টেশনমাস্টারি করতে এসে নদেরচাদ এক নতুন নদীর সঙ্গে পরিচিত হয়েছিল | সে নদী ছিল প্রশস্ত, বর্ষায় তার জলপ্রবাহ হয়ে উঠত উদ্দাম, উন্মত্ত | আর এই নদীর টানে নদেরচাদ প্রতিদিন ছুটে যেন| ব্রিজের ধারে বসে সে নদীকে দেখত। এইরকমই এক বর্ষায় নদীর উদ্দাম জলস্রোত ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বাধা পেয়ে ফেনিল আবর্ত রচনা করেছিল। নদীর এই আবর্তে নদেরচাদ তার স্ত্রীকে লেখা পুরোনো চিঠি ছুড়ে ফেলার সঙ্গে সঙ্গে তার মনে হয় সেটিকে পেয়েই নদী যেন তার নিজের স্রোতের মধ্যে লুকিয়ে ফেলল।

    → নদীও যেন নদেরচাদের সঙ্গে খেলায় যোগ দিয়েছে। উন্মত্ত হয়ে উঠেছে নদীর জলপ্রবাহ | নদীর এই খেলায় যোগ দেওয়া এবং জলপ্রবাহের এমন উন্মত্ততা—এই সবকিছু দেখেই নদেরচাদের নদীকে জীবন্ত বলে মনে হয়েছিল।

  9. নদেরচাদের কেন ব্রিজটিকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছিল?
  10. ● নদেরচাঁদ শৈশব থেকে নদীকে ভালোবাসত | নদী তার জীবনের সঙ্গে যেন জড়িয়ে গিয়েছিল। কর্মসূত্রে যে নদীটির সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল সেই নদীটি ছিল প্রশস্ত, উদ্দাম ছিল তার জলস্রোত। এই নদীর সঙ্গে এক অদ্ভুত সখ্য ছিল নদেরচাদের। প্রতিদিন নদেরচাদ এক অদ্ভুত টানে ছুটে যেত এই নদীর কাছে | বর্ষায় নদীকে পাঁচ দিন দেখতে না পেয়ে তার মন ছটফট করেছে | ছেলেমানুষের মতো আবার নদীকে দেখার জন্য ঔৎসুক্য সে বোধ করেছে | পাঁচ দিন প্রবল বর্ষণের পর সে যখন নদীকে আবার দেখার সুযোগ পেল তখন দেখল নদী যেন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। রোষে, ক্ষোভে নদী যেন উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। নদীকে দেখে মনে হচ্ছে যেন সে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হতে চাইছে | ব্রিজকে যেন সে ভেঙে চুরমার করে ফেলে দেবে | নদেরচাদ অনুভব করেছে নদীর বন্দিদশার যন্ত্রণা | তাই নতুন রং করা যে ব্রিজের জন্য একসময় নদেরচাদ গর্ব অনুভব করেছিল সেই ব্রিজকেই তখন তার অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হল। কারণ এই ব্রিজের জন্যই নদীর স্বাভাবিক গতি রুদ্ধ হয়েছে। তাই নদেরচাদের মনে হয়েছে এই ব্রিজের কোনো প্রয়োজন নেই ।

  11. ‘নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে।’কার, কোন্ পাগলামির কথা এখানে বলা হয়েছে? কীভাবে সে পাগলামিতে আনন্দ উপভোগ করে লেখো।
  12. ● কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ' গল্পে তিরিশ বছর বয়সেও নদীর জন্য নদেরচাদের অতিরিক্ত মায়াকে একটু অস্বাভাবিক বলেই মনে হত। নদেরচাদের নদীর প্রতি এই ভালোবাসাকেই পাগলামি বলা হয়েছে ।

    → নদীর তীরেই নদেরচাদের জন্ম | নদীই তার আবাল্য বন্ধু | নদীর কলতানের মধ্যে সে যেন বোবা ভাষার স্বরলিপি আবিষ্কার করতে চাইত | স্টেশনমাস্টারের কাজে এসে আর এক নদীর সঙ্গে পরিচয় ঘটে। এই নদীটিও তার আপন হয়ে ওঠে। কাজের ব্যস্ততার মাঝেও সে নদীর চিন্তায় মশগুল থাকত । এই নদীটি বর্ষার জলে পরিপূর্ণ হয়ে উঠলে সে পরম বিস্ময়ে তার জলস্রোতের চাঞ্চল্য দেখত । তার মনে হত নদীর এই চাঞ্চল্য যেন তার আনন্দেরই প্রকাশ। দিবারাত্রি প্যাসেঞ্জার ও মালগাড়ির তীব্রবেগে ছোটাছুটি নিয়ন্ত্রণ করা যার কাজ, সে কিনা একজন নদীপাগল! নিজেও সে এ কথা বোঝে, কিন্তু মনকে কিছুতেই বোঝাতে পারে না। আসলে নদেরচাঁদ নিজেও একটি নদী | সত্তার গভীরে প্রবাহিত প্রাণের স্রোত যেন নদীরই স্রোত। নদীর সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে পেরে সে নিজেকে ধন্য মনে করত। নদী-প্রীতির এই পাগলামিতে নদেরচাদ উপভোগ করত এক অপরিমেয় আনন্দ, যা একান্তই তার নিজস্ব |

  13. “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়োছে।”—নদী কখন বিদ্রোহ করেছিল? এই বিদ্রোহের কোন কারণ নদেরচাদের বোধগম্য হয়েছিল লেখো।
  14. ● ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে পাঁচদিনের অবিরাম বৃষ্টির পরে নদীকে দেখার উৎসাহে নদেরচাঁদ নদীর দিকে যায় | নদীর অপরূপ বর্ষণপুষ্ট রূপ তাকে আকর্ষণ করতে থাকে। ব্রিজের কাছাকাছি এসে যে নদীকে সে দেখে তাতে কিন্তু সে পরিপূর্ণতা নয়, উন্মত্ততা দেখতে পায় | চেনা, নদীর মূর্তিকে তার ভয়ংকর লাগে | ব্রিজের মাঝামাঝি ধাকরস্তম্ভের শেষভাগে বসে অন্যদিনের মতোই নদেরচাদ নদীকে দেখে, তার সঙ্গে খেলা করতে থাকে। এইসময়ই মুষলধারে বৃষ্টি নামে। তিন ঘণ্টার বিশ্রামে মেঘের যেন নতুন শক্তি সঞ্চার হয়েছে। নদেরচাদের মনে ক্রমশ ছেলেবেলার আমোদ মিলিয়ে গিয়ে তার শরীর ক্রমশ অবশ, অবসন্ন হয়ে ওঠে। ক্রমে দিনের আলো মিলিয়ে অন্ধকার গাঢ় হয়ে এলে বৃষ্টি কিছুক্ষণ থেকে আবার প্রবলভাবে শুরু হয় | নদীর সেই ক্ষোভে উন্মত্ত চেহারা নদেরচাঁদকে ভয় পাইয়ে দেয়। এই সময়ে নদীর এই রূপকেই তার ‘বিদ্রোহ’ বলে মনে হয়।

    → নদেরচাদ নদীর এই বিদ্রোহের কারণ বোঝার চেষ্টা করে। তার মনে হয় নদীকে বাঁধার চেষ্টা মানুষ করেছে তার তৈরি করা ব্রিজের সাহায্যে, নদী সেটাকে ভেঙে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়। দু-পাশে মানুষের হাতে গড়া বাঁধকে চুরমার করে সে স্বাভাবিক গতিতে বয়ে যাওয়ার পথ করে নিতে চায় | এজন্যই নদীর এই বিদ্রোহ |

  15. ‘নদীর বিদ্রোহ' গল্পে নদেরচাদের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে লেখক পাঠকের উদ্দেশে যে বার্তা দিতে চেয়েছেন তা নিজের ভাষায় লেখো।
  16. ● মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ' গল্পে নদেরচাঁদের দুটো নদী—একটা তার জন্মভূমির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে, অন্যটা বয়ে গেছে তার কর্মভূমির গাঘেঁষে। জন্মভূমির নদীটি তার নদীপ্রীতির প্রথম সোপান | আর কর্মভূমির নদীটি তার মানসিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার উদ্‌গাতা| রবীন্দ্রনাথের বলাই যেমন গাছের কথা ভাবতে ভাবতে নিজেই একটা গাছের সত্তায় পরিণত হয়েছিল মনেপ্রাণে, এই গল্পে নদেরচাদ নদীর কথা ভাবতে ভাবতে যেন নদীই হয়ে গেছে। নদীর শুষ্কতা, জলোচ্ছ্বাস যেন নদেরচাদেরই জীবনের জোয়ার-ভাটা | তার কাছে নদীকে বাঁধ দেওয়ার অর্থ জীবনের প্রবাহ রোধ করা | সমুদ্রের ওপর সেতু দেখতে সুন্দর; কিন্তু তাতে তো সমুদ্রেরই অবমাননা | কেননা, অজেয় অপার সমুদ্র যে এতে বন্দি হয়ে পড়ে। নদেরচাদের কাছে নদীর ব্রিজ বা সেতু আগ্রাসী মানুষের ঔদ্ধত্যের প্রতীক। বর্ষায় নদীর জলোচ্ছ্বাস যেন নদীর বিদ্রোহ | নদেরচাদ সেটাই অনুভব করে। গল্পের উপসংহারে নদেরচাঁদ ব্রিজের ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গেছে | নদী আর জীবন যে সমার্থক, লেখক সেই বার্তাই দিয়ে গেলেন নদেরচাদের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে।

  17. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদীর সঙ্গে নদেরচাদের যে সম্পর্ক প্রকাশিত হয়েছে, তার রূপটি বর্ণনা করো।
  18. ● ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদীর সঙ্গে নদেরচাদের সম্পর্কের রূপটি গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রবলতমভাবে প্রকাশিত হয়। নদেরচাদ তার স্ত্রীকে একটি বিরহবেদনাপূর্ণ চিঠি লিখেছিল, এ কথা যেমন সত্যি, তেমনভাবেই আরও বড়ো সত্যি হল, শুধুমাত্র নদীর সঙ্গে খেলার তুচ্ছ ছেলেমানুষি মোহে পড়ে সে সেই চিঠিটি ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়। ফলে স্ত্রীর প্রতি তার ভালোবাসার প্রসঙ্গটিও আদতে নদীর প্রতি তার উন্মাদনারই একটি ক্ষুদ্রতর বহিঃপ্রকাশ | প্রিয় নদীটিকে একবার চোখের দেখা না দেখলে সে স্বস্তি বোধ করে না। নদীর কুলুকুলু শব্দ আর বৃষ্টির ঝমঝম আওয়াজ সংগীতের ঐকতান হয়ে নদেরচাঁদকে অবসন্ন করে, বিভোর করে। নদীর ওপরে ব্রিজ তৈরি করে নদীর স্বাভাবিক গতিস্রোতকে রুদ্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে নদেরচাদের হৃদয় ফেটে পড়তে চায় | কিন্তু ভাগ্যের এমনই পরিহাস যে, তাকেও মরতে হয় যন্ত্রসভ্যতার আর এক প্রতিভূর মাধ্যমে। চলন্ত রেলগাড়ি যন্ত্রদানবের মতোই মুহূর্তে তাকে পিষ্ট করে দিয়ে চলে যায়—যেন বা নদীর প্রতি তার এই সমব্যথারই উত্তর হিসেবে।

  19. ছোটোগল্প হিসেবে ‘নদীর বিদ্রোহ’ কতদূর সার্থক বিচার করো।
  20. ● ছোটোগল্পে লুকিয়ে থাকে বৃহত্তর জীবনের ব্যঞ্জনা | ‘ছোটো প্ৰাণ, ছোটো ব্যথা/ছোটো ছোটো দুঃখকথা’ হলেও ছোটোগল্প ক্ষণিক বিদ্যুৎঝলকের মতো সমগ্র জীবনের উদ্ভাসকে তুলে ধরে। এর গতি ঋজু ও একমুখী| সমাপ্তিতে মনে হবে—‘শেষ হয়ে হইল না শেষ৷’ এই সংক্ষিপ্ত বৈশিষ্ট্যের আলোকে ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটি বিচার করা যেতে পারে।

    → নদেরচাদের নদীপ্রীতিই গল্পের কেন্দ্রীয় ভাবসত্য | আর গল্পের ব্যঞ্জনায় উঠে এসেছে নদীর বিদ্রোহ | নদীকে মানুষ বাঁধ দিয়ে বন্দি করে। নদীর ওপর তৈরি করে কংক্রিটের ব্রিজ | যন্ত্রসভ্যতার প্রবল পেষণে পিষ্ট করে রুদ্ধ করে নদীর স্বাভাবিক গতিধারা | নদেরচাঁদ মনে করেছে, এটাই নদীর শিকল | বর্ষায় নদী প্রাণ ফিরে পায় | প্রবল স্রোতই তার বিদ্রোহ। তার জলের ঘূর্ণিপাকই তার বন্দিদশার যন্ত্রণার বিরুদ্ধে জেহাদ। নদেরচাদের মনে হয়েছে, পরিপূর্ণ নদী প্রাণশক্তির প্রতীক। মনে করলে সে সব কিছু চূর্ণবিচূর্ণ করে দিতে পারে, ভেঙে ফেলতে পারে কংক্রিটের ব্রিজ | নদীর দুরন্ত প্রবাহের মধ্যে নদেরচাঁদ বন্দিদশা থেকে মুক্তির চেষ্টা দেখতে পেয়েছে| একটিই মাত্র চরিত্রের ভাব ও ভাবনাকে অবলম্বন করে গল্পকাহিনি নির্মিত হয়েছে | উপসংহারে এই চরিত্রটির করুণ পরিণতি পাঠককে অতৃপ্তির বেদনায় অভিভূত করে। কিছুটা ব্যতিক্রমী হলেও ‘নদীর বিদ্ৰোহ’ স্বতন্ত্র এক ছোটোগল্পের দাবিদার।


We are very glad that you want to share.
Thanks for sharing this.