কোনি (সহায়ক পাঠ) প্রশ্ন উত্তর সাজেশন [৩৬ - ৫৫ টি]

কোনি সহায়ক পাঠ প্রশ্ন ও উত্তর এবং সাজেশন ৩৬ - ৫৫ টি, কোনি সহায়ক পাঠ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর, কোনি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন.

কোনি (সহায়ক পাঠ) প্রশ্ন ও উত্তর এবং সাজেশন [৩৬ - ৫৫ টি] (প্রশ্নমান-৫)

  1. “ঘুমের মধ্যেই কোনির মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।”—কী কারণে ঘুমের মধ্যে কোনির মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল লেখো।
  2. ● আলোচ্য অংশটি মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাস থেকে গৃহীত।

    → ক্ষিতীশ তাড়াতাড়ি খাওয়া সেরে ঘরে এসে দেখলেন কোনি অকাতরে ঘুমোচ্ছে। বালিশ নেই। তার বদলে দুটো হাত জড়ো করে মাথার নীচে রাখা। ক্ষিতীশ বসলেন ওর পাশে। তারপর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন | হঠাৎ ক্ষিতীশ শুনলেন, কোনি ঘুমের মধ্যে বিড়বিড় করে কী যেন বলছে। তিনি একটু ঝুঁকে পড়লেন শোনার জন্য, একটা পাতলা হাসির রেখা দেখলেন কোনির মুখে। ঘুমের মধ্যেই সে বলছে, “আমায় কুমির দেখাবে বলেছিলে।” এ কথা শুনে ক্ষিতীশ ফিসফিস করে বললেন, “দেখাব, তোকে চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাব।” এরপর আরও অনেক জায়গা দেখানোর কথা বললেন ক্ষিতীশ। তারপর বললেন, “তুই যাবি দিল্লি, মুম্বাই, মাদ্রাজ,... আরো দূরে টোকিও, লন্ডন, বার্লিন, মস্কো, নিউইয়র্ক।” ঘুমের আবেশ তখনও কাটেনি কোনির। ঘুমের মধ্যে সে যেন তার দাদার সঙ্গে কথা বলছে। ক্ষিতীশের কথাগুলোকে সে দাদার কথাই মনে করেছে। তাই ঘুরতে যাবার কথা শুনে ঘুমের মধ্যেই কোনির মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল।

  3. চিড়িয়াখানায় কোনিকে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে কী ঘটনা ঘটেছিল? এই ঘটনা থেকে ক্ষিতীশ সিংহ কী উপলব্ধি করেছিলেন?
  4. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের নবম পরিচ্ছেদে আমরা কোনি এবং ক্ষিতীশ সিংহের চিড়িয়াখানায় বেড়াতে যাওয়ার ঘটনাটি পেয়েছি। এক রবিবার সকাল দশটায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিন ঘণ্টা মতো চিড়িয়াখানায় ঘোরার পর কোনি তৃস্নার্ত হয়ে পড়ে। একটি নামি-দামি স্কুলের কিছু মেয়ে শিক্ষিকাদের সঙ্গে চিড়িায়াখানায় এসেছিল। কোনি জলের ড্রামের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষিকার কাছে জল চাইলে তিনি তাকে অপমান করে ফিরিয়ে দেন | অপ্রতিভ হয়ে ফিরে এসে কোনি ঘৃণার সঙ্গে জানায় ‘বড়োলোকরা গরিবদের ঘেন্না করে।”

    → কোনি জল চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হলেও ওই স্কুলেরই ছাত্রী হিয়া মিত্র কোনি এবং ক্ষিতীশ সিংহের জন্য জল এনে দিয়েছিল। কিন্তু কোনি জলের গ্লাসটা ফেলে দিয়ে ক্ষিতীশ এবং হিয়া দুজনকেই অবাক করে দেয়। হিয়ার কাছে কোনির হয়ে ক্ষিতীশ সিংহ ক্ষমা চেয়ে নিয়ে কোনিকে বকবেন ভেবেও বকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন হিয়া মিত্রই কোনির ভবিষ্যৎ প্রতিদ্বন্দ্বী। কোনির এই আক্রোশ, হারিয়ে দেওয়ার উন্মাদনা ও উত্তেজনা যথাসময়ে কাজে লাগবে। তাই কোনির ভিতরের স্ফুলিঙ্গটাকে জ্বালিয়ে রাখার জন্য ক্ষিতীশ সিংহ কোনিকে তাতিয়ে দেন। অভিজ্ঞ এবং বিচক্ষণ ক্ষিতীশ সিংহের বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে এর প্রভাব কোনির অদম্য এবং জেতার সত্তাকে উজ্জীবিত করেছিল।

  5. “কোনিকে দারুণ বকবে ভেবেছিল ক্ষিতীশ। কিন্তু সে কিছুই বলেনি।”—ক্ষিতীশ কেন কোনিকে বকবে ভেবেছিলেন? তারপর কেন তিনি তাকে আর বকলেন না?
  6. ● আলোচ্য অংশটি মতি নন্দীর ‘কোনি' উপন্যাস থেকে গৃহীত। চিড়িয়াখানায় কোনি হিয়ার শিক্ষকের কাছ থেকে জল চেয়ে পায়নি। এই ঘটনায় সে অপমানিত বোধ করে। এরপর হিয়া তার সামনে জলভরা একটা গ্লাস এগিয়ে দেয়। কোনি তখন ধাঁ করে সেই গ্লাসে আঘাত করে ফেলে দেয়। হিয়ার প্রতি কোনির এমন অভব্য আচরণের জন্য ক্ষিতীশ কোনিকে বকবেন ভেবেছিলেন। ● হিয়া কোনির প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী। ক্ষিতীশও জানেন, হিয়াকে হারাতে পারলেই তাঁর ইচ্ছা অনেকটাই পূর্ণ হবে। অন্যদিকে, কোনিকে হিয়া এবং তার বন্ধুরা তাচ্ছিল্য করে, গরিব বলে তুচ্ছ জ্ঞান করে। তাই কোনিও ওদের দেখে হীনম্মন্যতায় ভোগে | ক্ষিতীশ বিচক্ষণ এবং দূরদর্শী। তাঁর মনস্তাত্ত্বিক জ্ঞানও প্রবল। তিনি চান, কোনি হিয়ার ওপর ক্রোধটা বুকের মধ্যে পুষে রাখুক | তাঁর উচিত হবে না কোনির হিংস্র আক্রোশটা ভোঁতা করে দেওয়া। ওই আক্রোশই কোনিকে উত্তেজিত করবে এবং আসল সময়ে তার বিস্ফোরণ ঘটবে। এই কারণেই ক্ষিতীশ কোনিকে আর বকলেন না |

  7. ‘তোর আসল লজ্জা জলে, আসল গর্বও জলে।”—কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তি? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
  8. ● কোনি চল্লিশ টাকার বিনিময়ে লীলাবতীর দর্জির দোকানে ঝাঁট দেয় ও ফাইফরমাস খাটে। একদিন অমিয়া ওই দোকানে ব্লাউজ করাতে এসেছিল। কোনিকে সেখানে দেখে অমিয়া বলেছিল, “তুই এখানে ঝিয়ের কাজ করিস?” এই কথায় কোনি খুব লজ্জা পেয়েছিল | ক্ষিতীশ তাকে সান্ত্বনা দিতে আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

    → কোনি সম্ভাবনাময় সাঁতারু। তার সম্পর্ক জলের সঙ্গে। যার যেখানে অবস্থান, তার লজ্জা এবং সম্মান সেখানেই | একজন ক্রিকেটার বা ফুটবলারের সম্মান, লজ্জা, গর্ব খেলার মাঠেই। দোকানে ঝিয়ের কাজ করে বলে কোনিকে তাচ্ছিল্য করেছিল অমিয়া। কিন্তু সেটা তার প্রকৃত কর্মক্ষেত্র নয়। সেখানে তার সাফল্য, ব্যর্থতা বা গর্বের কোনো স্থান নেই। কেননা, কোনি প্রতিভাবান সাঁতারু । যেহেতু সাঁতারের সঙ্গে জলের সম্পর্ক নির্দিষ্ট, তাই কোনির সাফল্য-ব্যর্থতা জলেই সীমাবদ্ধ। সাঁতারে ব্যর্থ হলে তার লজ্জিত হওয়া উচিত, আবার সাফল্য লাভ করলে গর্ব। এই কারণেই ক্ষিতীশ কোনিকে বলতে চেয়েছেন। হিয়ার কথায় লজ্জিত না হয়ে সে সাঁতারটা ভালো করে শিখুক | জলের বাইরে কোনির লজ্জা বা গর্বের কোনো কিছু নেই |

  9. “মনে আছে কি বলে অপমান করেছিল।”
    “এবার জুপিটারের কম্পিটিশনে কোনির এন্ট্রি অবশ্যই যেন দেওয়া হয়।”
    “একেবারে কম্পিটিশনেই দেখিয়ে দেব, ব্যাটাদের কে কার পায়ের জল খায়' ""
    —এই তিনটি উক্তি কোন্ দুই সাঁতারুকে কেন্দ্র করে এসেছে? ঘটনাক্রমটি গুছিয়ে লিখে উক্তিগুলির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
  10. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের দশম পরিচ্ছেদে আমরা এই তিনটি উক্তি পেয়েছি। এই মন্তব্য তিনটি জুপিটারের দক্ষ সাঁতারু অমিয়া এবং অ্যাপোলোর নবীন সাঁতারু কোনিকে কেন্দ্র করে এসেছে।

    → অপমান ও চক্রান্ত করে জুপিটার ক্লাবের সাঁতারের প্রশিক্ষকের পদ থেকে ক্ষিতীশ সিংহকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ক্ষিতীশ সিংহ সম্পূর্ণ আনকোরা, বস্তির মেয়ে কোনিকে সাঁতার শেখানো শুরু করেন নিজের স্বপ্ন এবং লক্ষ্যপূরণের জন্য। মাত্র দু-সপ্তাহ যখন সাঁতার শিখতে শুরু করেছে কোনি, সেই সময় অভিজ্ঞ সাঁতারু| অমিয়া দত্ত করে বলেছিল যে প্রতিযোগিতায় কোনি তার পা ধোয়া জল খাবে।

    → ধীরেন ঘোষের মুখে অমিয়ার এবছরই বিয়ে করে কানাডা চলে যাওয়ার সম্ভাবনা শুনে ক্ষিতীশ সিংহের মনে হয় যে, কোনি যদি অমিয়াকে না হারায়, তাহলে বিরাট একটা অপূর্ণতা তার জীবনে রয়ে যাবে। বেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন অমিয়ার থেকে কোনি কতটা পিছিয়ে তা দেখতেই তিনি জুপিটারের কম্পিটিশনে কোনিকে নামাতে চেয়েছিলেন।

    → অমিয়ার রেকর্ড ভাঙার জন্য কোনিও উদগ্রীব হয়ে ওঠে। অমিয়ার ‘রেকর্ডের টাইম’ জানতে চাইলে কোনিকে ক্ষিতীশ সিংহ বলেছিলেন “একেবারে কম্পিটিশনেই দেখিয়ে দেব ব্যাটাদের, কে কার পায়ের জল খায়।”

  11. “কাম অন অমিয়া, কাম অন বেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন।” “ফাইট কোনি ফাইট” –এই দুই স্লোগান ব্যবহারের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
  12. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের একাদশ পরিচ্ছেদে এক টানটান উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে এই স্লোগান দুটি ব্যবহৃত হয়েছে।

    → জুপিটার সুইমিং ক্লাবের প্রতিযোগিতার শেষ দিনে অনুষ্ঠিত মেয়েদের ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইল প্রতিযোগিতায় কোনি-সহ নয় জন প্রতিযোগী ছিল। প্রতিযোগিতার শুরুতেই এয়ার রাইফেলের ক্যাপ না ফাটলেও অমিয়া ও কোনি বাদে সকলেই জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দ্বিতীয়বার নয়টি মেয়ে একসঙ্গে জল ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিরিশ মিটার পর্যন্ত সকলের সামনে সমান রেখায় অমিয়া এবং কোনি। এরপরই অমিয়া একটু করে এগোতে থাকে এবং প্রথম ৫০ মিটার স্পর্শ করে। ৬০ মিটার পর্যন্ত অমিয়া এগিয়ে থাকলেও ৬৫ মিটার থেকেই কোনি তাকে অতিক্রম করতে শুরু করে বেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন সুদক্ষ সাঁতারু অমিয়ার জন্য জুপিটার ক্লাবের পক্ষ থেকে চিৎকার ওঠে “কাম অন অমিয়া, কাম অন বেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন”। কিন্তু এই চিৎকার ম্লান হয়ে যায় “ফাইট, কোনি ফাইট” এই সংগ্রামী স্লোগানে। মসৃণ, স্বচ্ছন্দ কিন্তু হিংস্র ভঙ্গিতে কোনি সমস্ত অপমানের জবাব দিয়ে অমিয়ার আগেই ‘ফিনিশিং বোর্ড’ স্পর্শ করে | প্রথম স্লোগানে প্রকাশিত দর্প এবং অহংবোধকে চূর্ণ করে সঞ্চিত যন্ত্রণা, অবহেলা, অপমান এবং সংগ্রামী অনুপ্রেরণামূলক জয় বড়ো হয়ে উঠেছে। ‘ফাইট’ শব্দটির মধ্যে দিয়েই পরিশ্রম, নিষ্ঠা, বুদ্ধি এবং সমগ্র উপন্যাসটির লড়াইয়ের দ্যোতক হয়ে উঠেছে।

  13. “ভাবলেশহীন ক্ষিতীশ এখন তিড়িং তিড়িং লাফাচ্ছে।” ক্ষিতীশ এতক্ষণ ভাবলেশহীন ছিলেন কেন? তিড়িং তিড়িং লাফানোর মধ্যে তাঁর কোন্ মানসিকতার প্রকাশ লক্ষ করা যায়?
  14. ● জুপিটার ক্লাবের বার্ষিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় কোনি অংশগ্রহণ করবে। তার জন্য প্রস্তুতি সমাপ্ত | যথাসময়ে সাঁতার শুরু হয়। কোনির আজ পরীক্ষা, পরীক্ষা ক্ষিতীশেরও। টানটান উত্তেজনা। ক্ষিতীশের সংশয়। কোনি কি সত্যিই পারবে? অনিশ্চয়তা গ্রাস করে তাঁকে। একসময় উদাসীন হয়ে পড়েন তিনি। যা হয় একটা কিছু হবে— এই ভেবে নিয়ে ক্ষিতীশ ভাবলেশহীন হয়ে পড়েন।

    → প্রবল উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে সাঁতার প্রতিযোগিতা চলে। কোনির প্রধান পক্ষ জুপিটারের অমিয়া। ৬০ মিটার। অমিয়া এগিয়ে চলে। ৬৫ মিটার। কোনি এগিয়ে চলে। ৭০ মিটার। এবার কোনি সমান রেখায় অমিয়ার সঙ্গে। হঠাৎ কমলদিঘি ঘিরে বিরাট একটা চিৎকার শোনা যায়। কোনি পিছনে ফেলে অমিয়াকে। মসৃণ, স্বচ্ছন্দ কিন্তু হিংস্র ভঙ্গিতে কোনি নিজেকে টেনে বার করে নিয়ে যায় | অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে জয়ী হয় কোনি। অভিপ্রেত সাফল্যে ক্ষিতীশ আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন। এতক্ষণ তিনি পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়েছিলেন| কোনির জয় তাঁকে ভীষণভাবে উত্তেজিত করে তোলে। আবেগ আর আনন্দে তিনি তিড়িং তিড়িং নাচতে শুরু করেন।

  15. “অলিম্পিকের গুল মেরে কি আর সুইমার তৈরি করা যায় রে পাঁঠা? বুদ্ধি চাই, খাটুনি চাই, নিষ্ঠা চাই..... গবেট গবেট সব।”—বক্তা কে? কোন্ প্রসঙ্গে তিনি এরূপ বলেছেন? উক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
  16. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের একাদশ পরিচ্ছেদে ব্যবহৃত উদ্ধৃতাংশটির বক্তা হলেন উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র ক্ষিতীশ সিংহ |

    → জুপিটার ক্লাবের সাঁতার প্রতিযোগিতার ন-জন প্রতিযোগীর মধ্যে ছিল জুপিটারের অমিয়া এবং অ্যাপোলোর কোনি| এই দুই সাঁতারুকে ঘিরে দর্শকদের উৎসাহ, উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। প্রথমদিকে অমিয়া এগিয়ে থাকলেও কোনি তাকে ধাওয়া করে পিছনে ফেলে ‘ফিনিশিং বোর্ড’ স্পর্শ করে। এই দৃশ্য দেখে এতক্ষণ প্রস্তরবৎ, ভাবলেশহীন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষিতীশ আনন্দে লাফাতে শুরু করেন। তখনই তিনি হরিচরণের উদ্দেশে চিৎকার করে কথাগুলি বলেন।

    → ক্লাবের সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির চক্রান্তে ক্ষিতীশ জুপিটার ছাড়তে বাধ্য হন| হরিচরণের মতো স্বার্থান্ধ, সুবিধাবাদী মানুষগুলি ক্ষিতীশ সিংহকে যে অপমান করেছিলেন তার জবাব দেওয়ার জন্য তিনি চূড়ান্ত পরিশ্রম, অনুশীলন, নিষ্ঠা ও বুদ্ধি দ্বারা কোনিকে প্রশিক্ষিত করেছিলেন। অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করলেই দক্ষ সাঁতার প্রশিক্ষক হওয়া যায় না। সাঁতার প্রশিক্ষক হতে গেলে লড়াই করে যন্ত্রণাকে জয় করতে হয়, সময়কে হারানো শিখতে হয়। কোনো গুলবাজি নয় বুদ্ধি, অনুশীলন, নিষ্ঠা দ্বারা তিনি কোনিকে তৈরি করেছেন এবং তাকে তাচ্ছিল্য করার উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন।

  17. “আজও ছিল আমার সঙ্গে।” কার থাকার কথা বলা হয়েছে? সে কীভাবে বক্তার সঙ্গে ছিল ব্যাখ্যা করো।
  18. ● কোনি যখন সাঁতার কাটে তখন জলের নীচে তাকিয়ে মনে হয়, তার সঙ্গে সঙ্গে আর একটা মুখও এগিয়ে চলেছে | জুপিটার ক্লাব আয়োজিত প্রতিযোগিতাতেও কোনি এই মুখটা দেখতে পেয়েছে। মুখটা কোনির দাদা কমলের। অর্থাৎ কোনি যখন সাঁতার কাটে তখন জলের নীচে তার দাদা কমলও তার সঙ্গে থাকে।

    → কমলের অকালমৃত্যু হয়েছে। কিন্তু কোনি অনুভবে এবং কল্পনায় তার দাদাকে দেখতে পায়। কোনি জানে, দাদারও স্বপ্ন ছিল বড়ো সাঁতারু হবার। সেও স্বপ্ন দেখত অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করার। কিন্তু অসহনীয় দারিদ্র্য তার স্বপ্নভঙ্গ করেছে। তাই নিজের অতৃপ্তি প্রশমিত করতে কমল কোনিকে উৎসাহ দিত। বড়ো সাঁতারু হয়ে কোনি যেন কমলের দুঃখ আর আক্ষেপ ঘুচিয়ে দেয়| দাদার ভালোবাসা কোনি কখনও ভুলতে পারে না। সব সময় সে তার ছায়া দেখতে পায়। সে যখন সাঁতার কাটে তখন কমল যেন জলের তলায় তার সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যায়, আর বলে, ‘কোনি আরো জোরে, আরো দ্রুত’ | আসলে কমলের ইচ্ছাকে কোনি পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। তাই সে মনে করে, তাকে উৎসাহ দিতেই কমল জলের নীচে তার সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে চলে।

  19. “স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কি হল, সেটা তো তুমি নিজেই দেখেছো।”—এই উক্তির উত্তরে কোন্ ঘটনা জানতে পারা যায় নিজের ভাষায় লেখো।
  20. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের দ্বাদশ পরিচ্ছেদে আলোচ্য উদ্ধৃতাংশটি আমরা পেয়েছি। বিএএসএ নির্বাচন সভায় জুপিটার দলে ভারী থাকায় কোনিকে বাংলা দলে না নেওয়ার প্রস্তাব গৃহীত হয়ে যাচ্ছিল এমন সময় বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের সাঁতার প্রশিক্ষক প্রণবেন্দু বিশ্বাস বিরোধিতা করেন। হিয়া মিত্রের প্রশিক্ষক হিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীর হয়ে কথা বলবে এটা ভাবতে না পেরেই ক্ষুব্ধ ধীরেন ঘোষ আলোচ্য উক্তিটি করেন।

    → ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকের প্রতিযোগিতা হয়েছিল মূলত কোনি ও হিয়ার মধ্যে। এই প্রতিযোগিতার অন্যতম রেফারি, স্ট্রোক জাজ, ইন্সপেক্টর অফ টার্নস, টাইম কিপার সবাই ছিলেন জুপিটার ক্লাব গোষ্ঠীর লোকজন। কোনি এবং হিয়া ৫০ মিটার একসঙ্গে শেষ করে ঘোরামাত্রই কোনিকে ‘ডিসকোয়ালিফাই করা হয় মিথ্যা অজুহাতে | এই প্রতিযোগিতায় কোনি দ্বিতীয় স্থান পায়। ২০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে কোনি প্রথম ‘ফিনিশিং বোর্ড' স্পর্শ করার পরও ঘেষণায় শোনা যায় অমিয়া প্রথম হয়েছে। ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলিতেও ‘ফলটি টার্ন’ নেওয়ার অজুহাত দেখিয়ে বাতিল করে দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিনে ১০০ মিটারে ইলা কোনির লেনে প্রবেশ করে এবং মুখোমুখি সংঘর্ষ ও জড়াজড়িতে কোনির সময় নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কোনি তৃতীয় স্থান পায় | বাংলার মান-সম্মান ও স্বার্থের কথা ভেবেই তুচ্ছ দলাদলি ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে কোনিকে বাংলা দলে রাখার জন্য সওয়াল করেছিলেন প্রণবেন্দু বিশ্বাস |

  21. “কোনি মাদ্রাজ যাওয়ার মনোনয়ন অবশেষে পেল”— মাদ্রাজ যাওয়ার কারণ কী ছিল? এই মনোনয়ন পাওয়ায় প্রণবেন্দু বিশ্বাসের কী ভূমিকা ছিল?
  22. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের দ্বাদশ পরিচ্ছেদে ব্যবহৃত হয়েছে উদ্ধৃতাংশটি। মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলার মেয়ে সাঁতারুদের দলে মনোনয়ন পেয়েছিল কোনি।

    → কোনির মাদ্রাজ যাওয়া এবং বাংলা দলে স্থান পাওয়ার পিছনে বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের সাঁতার প্রশিক্ষক প্রণবেন্দু বিশ্বাসের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কোনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিয়া মিত্রের প্রশিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও বাংলার সম্মান এবং স্বার্থরক্ষায় তৎপর হয়ে বলে ওঠেন, “বেঙ্গলের স্বার্থেই কনকচাঁপা পালকে টিমে রাখতে হবে।” তুচ্ছ দলাদলি, সংকীর্ণ মানসিকতা ছেড়ে বাংলার মান সম্মানের কথা যে ভাবা উচিত তা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি | শুধুমাত্র ক্ষিতীশ সিংহকে জব্দ করা জুপিটারের অভিপ্রায় ধরতে পেরে প্রণবেন্দু বিশ্বাস দৃঢ়তার সঙ্গেই বলেছিলেন মহারাষ্ট্রের “রমা যোশির সঙ্গে ফ্রি স্টাইলে পাল্লা দেবার মতো কেউ নেই, একমাত্র কনকচাঁপা পাল ছাড়া।” আরও বলেন, “স্প্রিন্ট ইভেন্টে ওর সমকক্ষ এখন বাংলায় কেউ নেই।” যুক্তি, নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি, বিচক্ষণতা, প্রশিক্ষক হিসেবে ক্লাবের সংকীর্ণ দলাদলির ঊর্ধ্বে উঠে কোনির মনোনয়নে প্রণবেন্দু বিশ্বাসই মোক্ষম কাজটি করেছিলেন।

  23. “ঠিক সেই সময়ই কোনি ছুটে এসে ওকে চড় মারল।”— কোনি কাকে চড় মেরেছিল? চড় মারার কারণ কী?
  24. ● কোনি হিয়াকে চড় মেরেছিল।

    → বেলার ক্রিম কে মেখেছে এই নিয়ে তর্ক উঠলে সবাই কোনিকেই সন্দেহ করে| অমিয়া আঙুল দিয়ে কোনির গাল ঘষে ক্রিমের গন্ধ পায়। তখনই বেলা বলে, তার ক্রিম কোনিই চুরি করেছে। একজন আবার মন্তব্য করে, কোনি ফরসা হতে চায়। কোনি আর থাকতে না পেরে বলে, হিয়া ক্রিম বার করে তার মুখে মাখিয়ে দিয়েছে। হিয়ার নাম বলাতে বেলা ঠাস করে কোনিকে চড় মেরে বলে হিয়ার মতো বড়োলোক কোনির মতো দশটা মেয়েকে ঝি রাখতে পারে। কোনি চড় খেয়েও একই কথা বলে যায়। বেলা তখন তাকে ব্যঙ্গ করে। কোনি ভেঙে পড়ে কান্নায়| কোনিকে নিয়ে নানা টিপ্পনী চলতে থাকে। এরপর হিয়া এলে কোনি আর রাগ সামলাতে পারে না। একটা প্রতিজ্ঞা তার মনেও জমাট বেঁধে ওঠে। তাই হিয়াকে কাছে পেয়েই কোনি ছুটে এসে তার গালে একটা চড় বসিয়ে দেয় | প্রত্যেক মানুষের ধৈর্য্যের একটা সীমা থাকে। কোনো কারণে সেই সীমা অতিক্রম করলে নিতান্ত দুর্বল মানুষও বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। কোনিও তার প্রতি অপমানের উপযুক্ত প্রতিশোধ নিতে হিয়াকে চড় মেরেছিল।

  25. “তবে একবার কখনো যদি জলে পাই...।”—কে, কাকে এ কথা বলেছে? এই উক্তির মধ্যে বক্তার কোন্ মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে?
  26. ● সাহিত্যিক মতি নন্দীর লেখা ‘কোনি' উপন্যাসে কোনি এ কথা বলেছে হিয়াকে উদ্দেশ্য করে।

    → মাদ্রাজে জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় বাংলার হয়ে অমিয়া, হিয়া, বেলাদের সঙ্গে কোনিও যায়। কোনি অ্যাপোলোর সাঁতারু। ক্ষিতীশ সিংহ তার ট্রেনার। কোনিরা খুব গরিব| তার পোশাক পরিচ্ছদে তেমন চাকচিক্য নেই। অন্য সাঁতারুরা কোনিকে হীনচোখে দেখতে থাকে। গরিব বলে তাকে পাত্তা দেয় না। কোনিও এতে একটু কুঁকড়ে থাকে, হীনম্মন্যতায় ভোগে। এরই মধ্যে তাকে ক্রিম চুরি করার অপবাদ দেওয়া হয়| হিয়াকে চড় মেরে সে তার প্রতিশোধও নেয়। এই চড় সে ইচ্ছা করে মারে না। হিয়াকে সে হিংসাও করে না। কারণ কোনি জানে তারা গরিব, কোনোভাবেই ওদের সঙ্গে সে পারবে না। তার আসল প্রতিযোগিতা হবে জলে। সেখানে ধনী-দরিদ্রের কোনো পার্থক্য নেই। সেখানে যোগ্যতমের জয় হবে। তাই হিয়াকে জলে পেলে সে দেখিয়ে দেবে কে বড়ো, আর কে ছোটো| আলোচ্যমান উক্তিটির মধ্যে কোনির লড়াকু মনোভাবটিই প্রকট হয়েছে। সে যাবতীয় অপমানের প্রতিশোধ নিতে চায় সাঁতারের ট্র্যাকে, ডাঙায় নয়।

  27. মাদ্রাজে দুটি ঘটনার আকস্মিকতা কোনিকে বিভ্রান্ত এবং ব্যথিত করেছিল। এই ঘটনা দুটি সম্পর্কে সংক্ষেপে নিজের ভাষায় লেখো।
  28. ● মাদ্রাজ জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়ন প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে গিয়ে দুটি ঘটনা কোনিকে হতবাক, প্রবল ব্যথিত এবং বিভ্রান্ত করে।

    → বস্তির মেয়ে কোনি চোখে অনেক স্বপ্ন নিয়ে জীবনে প্রথম নিজের এলাকার বাইরে সুদূর মাদ্রাজ গিয়েছিল বাংলা দলের সাঁতারু হিসেবে| বাংলা দলের প্রশিক্ষক হরিচরণ মিত্তির কোনিকে জানান, যে চারটে ইভেন্টে তার নাম পাঠানো হয়েছিল, তার কোনোটতেই তার নাম ওঠেনি | এই কথাগুলো কোনির কাছে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতোই ছিল| সব স্বপ্ন যখন ভেঙে চুরমার হতে বসেছে ঠিক তখনই মরার ওপর খাঁড়ার ঘার মতো নেমে আসে ক্রিম চুরির অপবাদ | হোটেলের বাইরে যাওয়ার সময় বেলা এই সন্দেহ প্রকাশ করে যায় যে তার ক্রিমের কৌটোটা থেকে ক্রিম কেউ মেখে নিয়েছে| সকলের অনুপস্থিতিতে হিয়া বেলার ক্রিম কিছুটা মেখে নেয় ও কোনির মুখে লাগিয়ে দেয়। ক্রিম কম দেখে বেলা কোনিকেই অভিযুক্ত করে, কোনির ক্যাম্বিসের ব্যাগ খুলে তল্লাশি চালাতে থাকে এবং হঠাৎই কোনির গালে ক্রিমের গন্ধ পেয়ে চোর ধরার আবিষ্কারে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। বিস্মিত কোনি প্রকৃত ঘটনা বললেও সেকথা বিশ্বাস না করে তার গালে চড় মারে বেলা | সত্য বিচার না করেই সবাই কোনিকে নিয়ে হাসাহাসি করে। এই দুটি ঘটনা কোনিকে বিভ্রান্ত এবং ব্যথিত করে তুলেছিল।

  29. “হঠাৎ তার চোখে ভেসে উঠল ‘৭০' সংখ্যাটা”--কোন্ ঘটনায় এমন হয়েছিল? কোনির কাছে এই সংখ্যাটার তাৎপর্য কী ছিল?
  30. ● কোনি একা চিপকের সুইমিং পুলে নিজের ইচ্ছেমতো অনুশীলন করে উঠে আসার সময় একটি মেয়ের মুখোমুখি হয়। পরিচয়ে জানতে পারে তার নাম রমা যোশি। সেই সময়েই কোনির চোখে '0' খ্যাটা ভেসে ওঠে।

    → কোনির চোখে ‘৭০’ সংখ্যাটা এক গভীর তাৎপর্য নিয়েই ভেসে উঠেছিল। এই সংখ্যাটা হল ‘৭০’ সেকেন্ড | মহারাষ্ট্রের সাঁতারু রমা যোশি ৭০ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করে রেকর্ড তৈরি করেছিল। এই রমা যোশিই ছিল কোনির প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই ক্ষিতীশ সিংহ কোনির অনুশীলনের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক, হিসেবি এবং কঠোর হয়ে ওঠেন। তিনি কোনির প্রতিদিনের অনুশীলনের পাশাপাশি তার খাওয়া, বিশ্রাম, রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সবকিছুতে নজর রাখতে শুরু করেন। এই সময় তিনি বড়ো অক্ষরে লাল কালিতে '৭০' সংখ্যাটা লিখে ক্লাবের বারান্দায় দেয়ালে রেখে কোনিকে উৎসাহিত করতে চেয়েছিলেন। প্রতিদিন চোখের সামনে ওই সময়টি কোনিকে দেখিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, “এক মিনিট ১০ সেকেন্ডে কোনিকে এই বছরই সাঁতরাতে হবে।” অসম্ভবকে সম্ভব করতে হবে। সময়ই যে কোনির একমাত্র শত্রু তা প্রতিমুহূর্তে ওই সংখ্যাটি সামনে রেখে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন।

  31. “দেখা যাক সত্যিই ফুরিয়ে গেছি কিনা, অমিয়া ভাবল, কাল আমাকে দেখাতেই হবে।”—এই উক্তির মধ্যে দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব হারিয়ে যাওয়ার হাহাকার কীভাবে ফুটে উঠেছে?
  32. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি' উপন্যাসের চতুর্দশ পরিচ্ছেদে ব্যবহৃত এই এই উক্তিটিতে বাংলার চ্যাম্পিয়ন, দক্ষ সাঁতারু অমিয়ার বেদনার্ত অনুভূতি ব্যক্ত হয়েছে।

    অমিয়া ছিল বাংলা দলের মেয়েদের সেরা সাঁতারু | বেঙ্গল চ্যাম্পিয়নের রেকর্ড তার দখলেই ছিল। তার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতেই অমিয়া মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় বাংলার অধিনায়িকা হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিল | মাদ্রাজ জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতার ২০০ মিটার ফ্রি স্টাইল এবং ১০০ মিটার বাটারফ্লাইতে অমিয়া পিছিয়ে পড়ে। প্রথমটিতে তৃতীয় স্থান অধিকার করে এবং ৪০০ মিটার প্রতিযোগিতায়ও অমিয়া রমা যোশির কাছে হেরে যায়।” অমিয়া যখন এভাবে বাংলাকে হতাশ করতে শুরু করে ঠিক সেই সময় হিয়া মিত্র সেই জায়গাটায় উঠে আসে। ২০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে হিয়া প্রথম বাংলাকে সোনা এনে দেয়। ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকেও হিয়া সোনা জেতে। এর ফলে বাংলার ভাগ্য নির্ভরশীল হয়ে পড়ে হিয়ার ওপর| অমিয়া উপলব্ধি করে যে “তার মাথা থেকে মুকুট তুলে নিয়েছে হিয়া।” এবার সব প্রশংসা, সব মনোযোগ হিয়ার প্রাপ্য | হিয়াই এবার সকলের মধ্যমণি হবে, “তার দিন ফুরিয়ে গেছে।” শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার তাগিদ থেকেই অমিয়া ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইল এবং ৪×১০০ রিলেতে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে। সিংহাসন দীর্ঘদিন ভোগ করার পর ক্ষমতা, আধিপত্য হারিয়ে যাওয়ার যে যন্ত্রণা তা অমিয়ার কণ্ঠে এখানে ধরা পড়েছে।

  33. মাদ্রাজ জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ অনুষ্ঠান কীভাবে জমে উঠেছিল লেখো।
  34. ● মাদ্রাজ জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতার শেষ দিনে শেষ প্রতিযোগিতা ছিল ৪×১০০ মিটার রিলে| মহারাষ্ট্র তখন তিন পয়েন্টে এগিয়ে ছিল, ফলে শেষ প্রতিযোগিতায় ১০ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে না পারলে বাংলার চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব ছিল না। অমিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ার ফলে প্রণবেন্দু বিশ্বাসের প্রস্তাবে রিজার্ভে থাকা

    → অঙ্কু এবং কোনির মধ্যে কোনিকেই নামানোর কথা বলা হয়। বেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়ন করার অবলম্বন হয়ে ওঠে কোনি। কিন্তু শত বঞ্চনা, অপমান, অবজ্ঞার ফলে কোনি ক্রুদ্ধ কণ্ঠে ‘আমি নামব না' বলে প্রতিবাদ জানায় | হিয়া কোনিকে ‘আনস্পোর্টিং’ বললে কোনির ভিতরের সংগ্রামী খেলোয়াড়ের সত্তা জেগে ওঠে। বাংলার দলের শুরুটা করে হিয়া| পরবর্তী প্রতিযোগী পুষ্পিতাকে তিন মিটার এগিয়ে থাকার সুযোগ দিয়ে হিয়া শেষ করে | বাংলার পরবর্তী প্রতিযোগী বেলা তার যথাসাধ্য চেষ্টা করে এবং বিপক্ষ প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে দেয়। বাংলার চতুর্থ প্রতিযোগী কোনি জলে নামার ঠিক আগেই বিধবস্ত ক্ষিতীশ সিংহ উপস্থিত হন। তাঁর গলায় শোনা যায় সেই সংগ্রামী লড়াকু স্লোগান “ফাইট, কোনি ফাইট” | মহারাষ্ট্রের রমা যোশি লাফিয়ে পড়ার তিন সেকেন্ড পরে কোনি ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্যান্থারের ক্ষিপ্রতায় ধাওয়া করে কোনি রমা যোশির আগেই বোর্ড স্পর্শ করে। ভিকট্রি স্ট্যান্ডে কোনির গলায় ঝোলানো হয় সোনার মেডেল।

  35. “পাগলাটে একটা লোকের বুকে মুখ ঘষতে ঘষতে ফেঁাঁপাচ্ছে—যে মেয়েটি এইমাত্র আশ্চর্য সাঁতার দিল, আর তার মাথায় টপটপ করে জল ঝরে পড়ছে।”—উপন্যাসের শেষের এই ছবিটি তোমার ভাষায় বর্ণনা করো।
  36. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসটি একটি অনুপ্রেরণামূলক উপন্যাস। “গুরুকে শ্রদ্ধেয় হতে হবে শিষ্যের কাছে” এবং “চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে শুধু শিষ্যকেই নয়, গুরুকেও কঠোর জীবনযাপন করতে হবে” এই দুই ভাবনা যে মানুষটির মনে সদা জাগ্রত ছিল তিনি হলেন কোনির সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ | সাঁতার অন্তপ্রাণ মানুষটি সংসারের কথা বিন্দুমাত্র না ভেবে তিলে তিলে বস্তির দরিদ্র মেয়ে কোনিকে সাঁতারু চ্যাম্পিয়ন করেন। তাঁরই হাতে গড়া কোনি মাদ্রাজ জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় শত অপমান, শত লাঞ্ছনার জবাব দিয়ে বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করেছিল, সোনার মেডেল পরা মেয়েটি শেষ দৃশ্যে নিজেকে সম্পূর্ণ সঁপে দিয়েছে তার গুরুর কাছে। গুরুও তার জন্য চুড়ান্ত কৃচ্ছসাধন করে সুদূর মাদ্রাজে উপস্থিত হয়েছিলেন। একটা ময়লা পাঞ্জাবি পরে কোনির কাছে উপস্থিত হয়ে “ফাইট, কোনি ফাইট” মন্ত্রে কোনিকে তিনি উজ্জীবিত করেন। শীর্ণ একটা শরীরের একটা পাগলাটে লোকের বুকে কোনি তার সমস্ত যন্ত্রণা, আনন্দ, অভিমান, বঞ্চনা দান করে নিজে মুক্ত হয়েছে। ক্ষিতীশও সমস্ত বঞ্চনা ও বিদ্রুপের উপযুক্ত জবাব দিয়ে কোনির এরূপ আত্মনিবেদনের মাধ্যমে তৃপ্তি লাভ করেছেন। শেষ দৃশ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তারা একে অপরের পরিপূরক| এই শেষ দৃশ্যটি সম্পর্কে তাই বলা যায় "An inspirational relation of a coach and his trainee who fight all roadblocks to achieve their aims." |

  37. ‘কোনি’ রচনার নামকরণ কতদূর সার্থক হয়েছে বিচার করো।
  38. ● বাংলা সাহিত্যে কেন্দ্রীয় চরিত্রের নামানুসারে গল্প-উপন্যাস নামকরণের রীতি বিশেষভাবে প্রচলিত। বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ,শরৎচন্দ্র থেকে শুরু করে এ যুগের সাহিত্যিকগণও এই রীতিটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। মতি নন্দীর 'কোনি' চরিত্রকেন্দ্রিক নামকরণের ধারাবাহিক রীতিরই দৃষ্টান্ত।

    → 'কোনি' নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি মেয়ের কাহিনি। নিরলস অধ্যাবসায় ও সমস্যার সাথে মোকাবিলা করে কীভাবে সে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছে, তারই জীবন্ত আলেখ্য লিপিবদ্ধ হয়েছে কাহিনিতে।

    → পারিবারিক দারিদ্র্য বারবার কোনির স্বপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। এক ঠিকানাবিহীন অকুল দরিয়ার মাঝে ভাসছিল কোনি | অসহায় মেয়েটিকে নামকরা সাঁতারু বানানোর প্রতিজ্ঞায় মনপ্রাণ ঢেলে দিয়েছিলেন ক্ষিতীশ সিংহ। “ফাইট কোনি, ফাইট”এই সত্যোচ্চারণে কোনির সঙ্গে তিনিও হয়ে উঠেছেন জীবনযুদ্ধের প্রাণান্তকর ‘ফাইটার’ | শেষ পর্যন্ত যাবতীয় অবহেলা, বঞ্চনা, ষড়যন্ত্র আর সীমাহীন দারিদ্র্যের ভ্রুকুটিকে উপেক্ষা করে কোনি পৌঁছে গেছে সাফল্যের চূড়ায়। ক্ষিতীশও দেখেছেন দীর্ঘ আঁধার শেষে ভোরের লাল আলো ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর স্বপ্নের ভূমিতে। সমগ্র উপন্যাসে কোনির জীবনসংগ্রামের বাস্তব গল্পটি সুসংহত প্লট্ তৈরি করেছে। তাই কোনিকে শিরোনামে বসিয়ে ঔপন্যাসিক যেন প্রতিভার সৌরভকে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন ক্লেদ-পঙ্কিল সমাজের অলিতে-গলিতে।

  39. “অভিনন্দন আর আদরে সে ডুবে যাচ্ছে।”—এখানে কার কথা বলা হয়েছে? অভিনন্দন আর আদরের কারণ বিশ্লেষণ করো।
  40. ● উদ্ধৃত অংশটি মতি নন্দীর ‘কোনি' উপন্যাস থেকে গৃহীত আলোচ্যমান অংশে কোনির কথাই বলা হয়েছে।

    → মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় কোনি সুযোগ পেয়েছিল | সেইমতো বাংলার অন্য সাঁতারুদের সঙ্গে কোনিও যায় মাদ্রাজে। কিন্তু সেখানেও সে চক্রান্তের শিকার হয়। কোনো প্রতিযোগিতাতেই তাকে নামানো হয় না। শেষপর্যন্ত ৪×১০০ মিটার রিলেতে তাকে নামানো হয়। আর এটাতে জিততে না পারলে বাংলা চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে না। আড়ষ্টতা নিয়েও কোনি শেষপর্যন্ত এই শেষ প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। তারপর শুরু হয় প্রবল উত্তেজনাপূর্ণ সাঁতার। শেষে সকলকে অবাক করে দিয়ে কোনি চ্যাম্পিয়ন হয়। সে হারিয়ে দেয় প্রখ্যাত সাঁতারু রমা যোশিকে| কোনির এই সাফল্যে উত্তেজনায় ফেটে পড়ে উপস্থিত দর্শকরা| সবাই এসে বাহবা দিতে থাকে কোনিকে। রমা যোশিও তার পিঠ চাপড়ে দিয়ে যায়। কোনিকে ঘিরে একটা ভিড় বৃত্ত রচিত হয়| বাংলার মেয়েরাও তাকে অভিনন্দন জানাতে আসে | জুপিটারের ধীরেন ঘোষ তাকে জড়িয়ে ধরে আবেগ আর উত্তেজনায়। এভাবেই অভিনন্দন আর আদরে কোনি ডুবে যেতে থাকে।

We are very glad that you want to share.
Thanks for sharing this.