কোনি (মতি নন্দী) প্রশ্ন উত্তর ও সাজেশন [১৮-৩৫টি ]

কোনি (মতি নন্দী) প্রশ্ন উত্তর ও সাজেশন [১৮-৩৫টি ], কোনি (সহায়ক পাঠ) প্রশ্ন ও উত্তর, কোনি প্রশ্ন সাজেশন, কোনির প্রশ্ন উত্তর ও সাজেশন.

কোনি (মতি নন্দী) প্রশ্ন উত্তর ও সাজেশন [+আরও ১৭টি ] (প্রশ্নমান-৫)

  1. “আমি কি নেমকহারাম হলাম!”—বক্তা কে? তাঁর এ কথা মনে হওয়ার কারণ কী
  2. ● মতি নন্দীর ‘কোনি' উপন্যাস থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটিতে উপন্যাসের কেন্দ্রীয় পুরুষ চরিত্র ক্ষিতীশ সিংহ হলেন আলোচ্য অংশটির বক্তা।

    → ক্ষিতীশ সিংহ ছিলেন জুপিটার ক্লাবের সুইমিং ট্রেনার | ষড়যন্ত্র করে সেই পদ থেকে তাঁকে অপসারিত করা হয়। এরপর কোনিকে গঙ্গার ঘাট থেকে আবিষ্কার করেন ক্ষিতীশ। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন এই মেয়েটিকেই তিনি নামকরা সাঁতারু তৈরি করবেন। নিজের তত্ত্বাবধানে সাঁতার শেখাবেন বলে জুপিটার ক্লাবে নিয়ে আসেন ক্ষিতীশ | পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও কোনিকে জুপিটারে ভরতি নেওয়া হয় না। ক্ষিতীশ এতে ক্রুদ্ধ হন এবং কোনিকে নিয়ে আসেন পার্শ্ববর্তী অ্যাপোলো ক্লাবে। এই ক্লাবে এসেই ক্ষিতীশ থমকে দাঁড়ালেন। ভাবলেন এরা তো জুপিটারের শত্রু। তাঁর প্রিয় ক্লাব জুপিটারের শত্রুদের কাছে তাঁর কি আসা উচিত হয়েছে? আসলে জুপিটার থেকে বিতাড়িত হয়েও ক্ষিতীশ এই ক্লাবের প্রতি তাঁর ায়া ত্যাগ করতে পারেননি। তাই অ্যাপোলোতে পা রেখেই নিজেকে তাঁর নেমকহারাম মনে হয়েছে।

  3. “বুকের মধ্যে প্রচণ্ড মোচড় সে অনুভব করল। চিকচিক করে উঠল চোখ দুটো”—কার, কেন এমন হয়েছিল?
  4. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি' উপন্যাসের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে উদ্ধৃতাংশটি ব্যবহৃত হয়েছে।

    → জুপিটার ক্লাবের সঙ্গে ক্ষিতীশ সিংহের দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের সম্পর্ক ছিল | সাঁতারই ছিল তাঁর ধ্যান ও জ্ঞান। সাঁতারু তৈরি করাই ছিল তাঁর জীবনের ব্রত। এইরূপ মানুষটি ক্লাবের দলাদলির শিকার হন। হরিচরণের মতো কিছু স্বার্থপর, সুবিধালোভী মানুষের চক্রান্তে তিনি ক্লাবের চিফ ট্রেনারের পদ ছেড়ে দেন। কিন্তু সাঁতার যার জীবনের সর্বস্ব তিনি থেমে থাকেননি। কোনি নামে মেয়েটির মধ্যে তিনি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা দেখে তাকে ক্লাবে ভরতি করতে চান। সেই সুযোগও তিনি পাননি ক্লাবের সংকীর্ণ মানসিকতার মানুষগুলির জন্য। অবশেষে তিনি বাধ্য হয়েই ক্লাবের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ছিন্ন করে প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপোলো ক্লাবের দিকে পা বাড়ান | জুপিটারের কমলদিঘি, বড়ো ঘড়ি ইত্যাদির সঙ্গে তাঁর যে প্রাণের সম্পর্ক ও স্মৃতি যুক্ত ছিল তা ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বুকের মধ্যে একটা প্রচণ্ড কষ্ট অনুভব করেন ক্ষিতীশ সিংহ। তাঁর চোখের কোনায় জল দেখা দেয়।

  5. “ক্ষিতীশের একটা হাত তোলা। চোয়াল শক্ত। পুরু লেন্স ভেঙে চোখ দুটো যেন বেরিয়ে আসবে।”—কোন্ ঘটনায়, কেন ক্ষিতীশের এরূপ অবস্থা হয়েছিল লেখো।
  6. ● জুপিটারে ক্ষিতীশের স্থান হয়নি। কোনিকে সেখানে সাঁতার শেখানোর চেষ্টাতেও তিনি ব্যর্থ। বাধ্য হয়ে তিনি এসেছিলেন শত্রুক্লাব অ্যাপোলোতে। সেখানকার ভাইস-প্রেসিডেন্ট নকুল মুখুজ্জে তাঁকে সমাদরে গ্রহণ করেছেন। আবার কোনিকেও সাঁতার শেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। এই ঘটনায় ক্ষিতীশ দুশ্চিন্তামুক্ত হলেও তাঁর বুকের ভেতরটা সহসা মোচড় দিয়ে ওঠে। জুপিটারকে তিনি ভালোবাসেন। দীর্ঘদিন পর সেই ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার বেদনায় তিনি ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন। সারারাত ঘুম আসে না তাঁর | বারবার তাঁর মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে, “আমি কি ঠিক কাজ করলাম? অ্যাপোলোয় যাওয়া কি উচিত হলো?” একটা কঠিন মানসিক যন্ত্রণা ক্ষিতীশকে অস্থির করে তোলে। এমন সময় ভেলো এসে ক্ষিতীশকে বলে—“ক্ষিদ্দা, তুমি অ্যাপোলোয় জয়েন করেছ? বেশ করেছ।” ক্ষিতীশ কিন্তু চুপ করেই থাকেন। এরপর ভেলো বলল, “জুপিটারকে এবার শায়েস্তা করা দরকার। বুঝলে ক্ষিদ্দা, তুমি শুধু ওই নাড়ির সম্পর্কটম্পর্কগুলো একটু ভুলে যাও...”| এমনিতেই জুপিটার আর অ্যাপোলোর টানাপোড়েনে ক্ষিতীশের মনটা ক্ষতবিক্ষত ছিল। তার ওপর ভেলোর ওই মন্তব্যে ক্ষিতীশ ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছিলেন। তাই তিনি ভেলোর প্রতি ক্রোধান্বিত হয়ে এমন আচরণ করেছেন।

  7. “সকাল ছটা থেকে এই ব্যাপার চলেছে, এখন সাড়ে আটটা”—‘এই ব্যাপার টা কী বুঝিয়ে দাও।
  8. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের সপ্তম পরিচ্ছেদে আলোচ্য উদ্ধৃতাংশটি ব্যবহৃত হয়েছে।

    → ‘এই ব্যাপার’ বলতে কোনিকে সাঁতার শেখানোয় ক্ষিতীশ সিংহের প্রাণপণ চেষ্টাকে বোঝানো হয়েছে। সাঁতার শেখানোই ছিল ক্ষিতীশ সিংহের প্রধান সংকল্প। একজন সাঁতার প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি কোনির মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় যথাযথ সম্ভাবনা লক্ষ করেছিলেন। কমলদীঘির জলে দু-সপ্তাহ ধরে তিনি কোনির অনুশীলন শুরু করেন। হাতের কনুই যথাযথ বাঁকানো হচ্ছে না, হাত তক্তার মতো লাফিয়ে উঠছে, বাম হাতটা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাম দিকের কাঁধটাও এগিয়ে যাচ্ছে এবং ডানদিকের কাঁধটা পিছিয়ে যাচ্ছে ফলে ‘স্কোয়ার শোল্ডার পজিশন’ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কনুই কেন বাঁক খাচ্ছে না ইত্যাদি সমস্ত বিষয় ও ত্রুটি ডাঙায় দাঁড়িয়ে দেখিয়ে দেন ক্ষিতীশ সিংহ| তিনি হাতের আঙুল জল টানবার সময় ফাঁকা করতে মানা করেন এবং বলেন, হাত মসৃণভাবে জলের মধ্যে প্রবেশ করে যাবে। সকাল সাড়ে ছটা থেকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত এই ব্যাপার চলছিল| কোনির সাঁতারের বেশ কিছু কৌশলগত পরিবর্তন ও ত্রুটি মেরামতের মাধ্যমে তাকে চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু হিসেবে তৈরি করতে ক্ষিতীশ বদ্ধপরিকর ছিলেন।

  9. “ক্ষিতীশ কথাটা বলেই মনে মনে ব্যথিত হলো।”—ক্ষিতীশ কাকে, কী কথা বলেছিলেন? তাঁর ব্যথিত হবার কারণ কী?
  10. ● ক্ষিতীশ কোনিকে বলেছিলেন যে, তিনি ওকে দুটো ডিম, দুটো কলা আর দুটো টোস্টের ব্যবস্থা করে দেবেন; কিন্তু তার বদলে কোনিকে আরও একঘণ্টা জলে থাকতে হবে।

    → ক্ষিতীশ কোনিকে অ্যাপোলো ক্লাবে সাঁতার শেখাচ্ছিলেন। কোনিও গুরুর নির্দেশ মেনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছিল। নানা রকম ফরমাস তাকে পালন করতে হচ্ছিল। জলের ধারে সিমেন্ট বাঁধানো সরু পাড়ে দাঁড়িয়ে ক্ষিতীশ সমানে বকবক করে চলেছিলেন। কোনি শেষপর্যন্ত বিরক্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে জল থেকে উঠে আসে। ক্ষিতীশ বুঝতে পারেন কোনির খিদে পেয়েছে। তিনি ওকে ডিম, কলা আর টোস্টের লোভ দেখান। কোনি তাতে রাজি হয়ে যায়। ক্ষিতীশ বলেন, তাহলে তাকে আরও একঘণ্টা জলে থাকতে হবে। এই কথাটা বলেই ক্ষিতীশ মনে মনে ব্যথিত হন। কারণ তিনি জানেন, লোভ দেখিয়ে খিদেয় অবসন্ন কোনিকে আরও পরিশ্রম করানো অমানুষিক কাজ হবে। কোনির অসহায়তার সুযোগ নিয়ে তাকে অতিরিক্ত খাটিয়ে নেওয়া, তার শরীরের ওপর অত্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়।

  11. “যন্ত্রণার সঙ্গে পরিচয় না হলে, তাকে ব্যবহার করতে না শিখলে, লড়াই করে তাকে হারাতে না পারলে কোনোদিনই তুই উঠতে পারবি না।”—প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
  12. ● আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা কথাকার মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসের সপ্তম পরিচ্ছেদ থেকে উদ্ধৃতাংশটি গৃহীত। কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। কোনিকে সেই উপদেশ দিতে গিয়েই ক্ষিতীশ আলোচ্য মন্তব্যটি করেছেন।

    → নিরন্তর পরিশ্রম কোনির দেহমনে আনে অবসন্নতা। তার ওপর খিদের তাড়নায় সে বারে বারে ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। ক্ষিতীশও নাছোড়বান্দা। ডিম, কলা আর টোস্টের লোভ দেখিয়ে তিনি কোনিকে আরো একঘণ্টা জলে রাখতে চান। আবার কখনও ভাবেন কোনির ওপর অমানুষিক অত্যাচার করা হচ্ছে। কিন্তু কোনি যে থমলে চলবে না। লক্ষ্যে তাকে পৌঁছোতেই হবে। তাতে জীবন থাক আর যাক। কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কখনও সাফল্য আসে না। কোনিকে যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করা শিখতে হবে। আর দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেই তাকে হারাতে হবে। যার জীবনে যন্ত্রণা নেই, বাধা নেই, তার জীবনে সাফল্য বলে কিছু হয় না। দুর্মর প্রতিজ্ঞায় মানুষ অসাধ্যকেও সাধন করতে পারে। কোনিকে তা-ই করতে হবে। অনুপ্রেরণামূলক আলোচ্যমান উপদেশটির সাহায্যে ক্ষিতীশ কোনিকে অভিপ্রেত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছেন।

  13. “কম্পিটিশনে পড়লে মেয়েটা তো আমার পা ধোয়া জল খাবে।”—বক্তা কে? কী প্রসঙ্গে তার এই উক্তি? এই উক্তিতে বক্তার কীরূপ মনোভাব ফুটে উঠেছে?
  14. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের সপ্তম পরিচ্ছেদে ব্যবহৃত উদ্ধৃতাংশে দক্ষ সাঁতারু অমিয়া তার সহ-সাঁতারু বেলাকে কথাগুলি বলেছে।

    → ক্ষিতীশ সিংহ কমলদীঘিতে কোনিকে সাঁতার শেখাচ্ছিলেন | সেইসময় অ্যাপোলো ক্লাব থেকে বেরিয়ে আসে অমিয়া এবং বেলা | সদ্য সাঁতার শিখতে আসা কোনির হাতের টান দেখে তারা দুজনেই ঈর্ষান্বিত হয় | দক্ষতার গর্ব এবং অহংবোধ থেকেই অমিয়া এই মন্তব্যটি করে।

    → দীর্ঘদিনের সাঁতারু অমিয়া বেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন। অপরদিকে কোনি সদ্য সাঁতার শিখতে শুরু করেছে। তুলনার দিক থেকে অমিয়া অনেক দক্ষ| একজন অপটু সাঁতারুর সাঁতার কাটার পদ্ধতি নিয়ে এমন মন্তব্য, তার অহং বোধেরই পরিচয় দেয়। অহংকার যে পতনের কারণ হতে পারে এটা হয়তো অমিয়ার জানা ছিল না। কোনিকে বিপক্ষ ধরে নিয়েও অমিয়া তাকে তুচ্ছ ও হেয় করতে চেয়েছে। তাই এই বক্তব্যের অমিয়ার দর্প এবং অহংবোধ চরমভাবে ফুটে উঠেছে।

  15. “আমার ভবিষ্যৎ”—কাকে নিয়ে বক্তার এরূপ মন্তব্য? এই উক্তিতে বক্তার কী রূপ মনোভাব ফুটে উঠেছে?
  16. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি' উপন্যাসের সপ্তম পরিচ্ছেদে ব্যবহৃত উদ্ধৃতাংশটি বক্তা ক্ষিতীশ সিংহ তাঁর স্বপ্ন কোনিকে নিয়ে এরূপ মন্তব্য করেছেন।

    → ক্ষিতীশ সিংহ ছিলেন জুপিটার ক্লাবের সাঁতারের প্রশিক্ষক। পরিশ্রম, নিষ্ঠা, একাগ্রতার সঙ্গে সাঁতারু তৈরি করাই ছিল তাঁর | জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য। এই কাজে তিনি কঠোর ও নিয়মনিষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু ক্লাবের কিছু স্বার্থান্ধ, সুবিধাবাদী মানুষের চক্রান্তে তিনি সাঁতার প্রশিক্ষকের পদ ছাড়তে বাধ্য হন। কোনির মধ্যে তিনি ভবিষ্যতের বড়ো সাঁতারু তৈরি হওয়ার গুণ লক্ষ করে তাকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। লড়াই করে বাঁচা এবং সংগ্রাম ও যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে স্বপ্নপূরণ করার প্রবল বাসনা তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে। ক্লাবের যেসমস্ত মানুষ তাঁকে অপমান করেছেন, যাঁদের ষড়যন্ত্রে তাঁর স্বপ্ন শেষ হয়ে যেতে বসেছিল, তাঁদের সমস্ত ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ, অপমান এবং চক্রান্তের জবাব ফিরিয়ে দেওয়ার একমাত্র হাতিয়ার ছিল কোনি। সাঁতারই যার কাছে জীবনসর্বস্ব, তিনি হেরে না গিয়ে সংগ্রামী মানসিকতা নিয়ে কোনিকে কেন্দ্র করে জীবনের আশা পূরণ করতে এই মন্তব্য করেছেন।

  17. “কমলের স্বর অদ্ভুত করুণ একটা আবেদনের মতো শোনাল।”—কমল কী বলেছিল? তার স্বরকে 'করুণ আবেদনের মতো’ বলার কারণ কী?
  18. ● কমল কোনিকে অনুপ্রেরণা দিতে কিছু উপদেশমূলক কথা বলেছিল। সে বলেছিল—“ইচ্ছে থাকলে মানুষের অসাধ্য কিছু নেই। ইন্ডিয়া রেকর্ড ভাঙতে হবে তোকে। তারপর এশিয়ান, তারপর অলিম্পিক| পারবি না?”

    → কমল যেন সংসার-সমুদ্রে দিকহারা নাবিক| বাবার মৃত্যু হয়েছে টিবি রোগে। সেও শরীরের ভেতরে রোগ পুষে রেখেছে | মাসে মাত্র দেড়শো টাকা রোজগার | সংসারের অবস্থা নুন আনতে পান্তা ফুরায়| একসময় সেও স্বপ্ন দেখত বড়ো সাঁতারু হবে। অলিম্পিকে যাবার সাধ তারও ছিল | কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে তার ওপর। টাকার অভাবে সে সাঁতার ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় | তাই তার মধ্যেও স্বপ্নভঙ্গের হাহাকার লুকিয়ে আছে | কোনি যদি সত্যিই বড়ো সাঁতারু হতে পারে, তবে তার স্বপ্ন কিছুটা পূরণ হবে| কমল জানে, সুযোগ পেলে, দু-বেলা দু-মুঠো ঠিকমতো খেতে পেলে কোনি নিশ্চয় পারবে। কিন্তু তারা যে ভীষণ গরিব। অন্যদিকে কমল বুঝে গেছে সংসারে তারও মেয়াদ আর বেশিদিন নেই। সেও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত | সংসারটা সত্যি সত্যিই এবার কুলকিনারাহীন সাগরে পড়ে যাবে। স্বপ্নভঙ্গ হবে কোনিরও। এই কারণেই তার স্বরকে করুণ আবেদনের মতো শুনিয়েছে।

  19. “হাঁড়িতে ভাত ফোটার শব্দটা শুধু সেই মুহূর্তে একমাত্র জীবন্ত ব্যাপার।”—লেখককে অনুসরণ করে সেই মুহূর্তটি বর্ণনা করো।
  20. ● ক্ষিতীশ আসেন কোনিদের বাড়িতে, অসুস্থ কমলের খোঁজ নিতে| কমল তার অসুস্থতার কথা জানিয়ে বলে—“দেখার আর কিছু নেই। আমি ফিনিস হয়ে গেছি।” কমলের এই কথাটা খুব ইঙ্গিতপূর্ণ। কমলের বাবা মরেছেন টিবি রোগে | তাই কমলকে নিয়েও বাড়ির সকলের মনে একটু সন্দেহ। যেভাবে সে পরিশ্রম করে, অথচ ঠিকমতো খাবার জোটে না, তাতে তারও টিবি হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। ক্ষিতীশ অবশ্য কর্মলের মানসিক উদ্‌বেগকে অনেকটাই শিথিল করে দেন। তিনি জানান, কোনির যাবতীয় দায়িত্ব তাঁর ওপর। এতে একটু উৎসাহিত হয়ে কমল তার স্বপ্নভঙ্গের কথা শোনায় ক্ষিতীশকে| তার ইচ্ছা ছিল বড়ো সাঁতারু হবার, অলিম্পিকে যাবার। কিন্তু দারিদ্র্য তাকে সেই পথে যেতে দেয়নি | কোনিকে নিয়েই এখন তার স্বপ্ন। সত্যিই কোনি যদি একজন বড়ো সাঁতারু হতে পারে, তাহলে তার যাবতীয় দুঃখ মুছে যাবে। কিন্তু তার শরীরের অবস্থা বেশ সন্দেহজনক। তার কথা বলার ভঙ্গির মধ্যেই সেটা প্রকাশিত। তার স্বপ্ন যেন করুণ আবেদনে পরিণত হয়েছে | কমলের এই অবস্থা লক্ষ করে বাড়ির সবাই চুপচাপ হয়ে যায় | হাড়িতে ভাত ফোটার শব্দটাই কেবল সেই নীরবতা ভঙ্গ করে চলেছে।

  21. “বিষ্টু ধর চূর্ণ বিচূর্ণ। কথা বলার আর ক্ষমতা নেই। দুটি চোখ ছলছলিয়ে উঠেছে।”—কী কারণে বিষ্টু ধরের এমন অবস্থা হয়েছিল বর্ণনা করো।
  22. ● সামাজিক প্রতিপত্তি লাভের জন্য বিষ্টু ধর বিনোদ ভড়ের মতো ভোটে দাঁড়িয়ে জিততে চান। তার জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বক্তৃতা লিখে দেন ক্ষিতীশ সিংহ। সেই বক্তৃতা মুখস্থ করে কিছু ধর জনগণের আস্থা অর্জনে প্রয়াসী। এদিকে কোনির খরচ জোগাতেও হিমশিম খান ক্ষিতীশ। তাঁর ইচ্ছা বিষ্টু ধরকে অ্যাপোলোর প্রেসিডেন্ট পদেব লোভ দেখিয়ে কিছু টাকা আদায় করা | তাতে পরোক্ষে কোনিরই সুবিধা হবে। বিষ্টু ধর সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। কিন্তু এই সময় ক্ষিতীশের স্ত্রী লীলাবতী এসে উপস্থিত হন| হাতিবাগানে বিষ্টু ধরের একটা ঘর ভাড়া নেওয়ার জন্য লীলাবতী বিষ্টু ধরকে পাঁচ হাজার টাকা সেলামি দেন। বিষ্টু ধর জানতেন না যে, লীলাবতী ক্ষিতীশের স্ত্রী | লীলাবতী চলে গেলে ক্ষিতীশের মুখে সেকথা শুনে তিনি ভ্যাবাচাকা খেয়ে যান। ক্ষিতীশ টাকা ফেরৎ চান। বিষ্টু ধর একটু ইতস্তত করলে ক্ষিতীশ বললেন', “চলি। বিনোদ ভড় কোর্টে বেরিয়ে গেছে। তা রাত্তিরেই দেখা করব ওর সঙ্গে।” বিষ্টু ধর এবার ক্ষিতীশকে না যেতে অনুরোধ করেন। ক্ষিতীশ তখন সেলামির পাঁচ হাজার দাবি করেন এবং জানান বক্তৃতাও আর লিখে দিতে পারবেন না। এই কথা শুনে বিষ্টু ধর চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যান। তাঁর আর কথা বলার ক্ষমতা থাকে না এবং দুটি চোখ ছলছল করে ওঠে।

  23. “তাহলে একটু গুছিয়ে লিখে দিন”—কে, বলেছিলেন? লেখার মূল বক্তব্য কী ছিল ?
  24. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি' উপন্যাসের সপ্তম পরিচ্ছেদে ব্যবহৃত উক্তিটি বিষ্টুচরণ ধর ক্ষিতীশ সিংহকে বলেছেন।

    → বিষ্টুচরণ ধর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বক্তৃতা দিতেন| এই বক্তৃতাগুলো গুছিয়ে লিখে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল ক্ষিতীশ সিংহের। এইরকম একটা বক্তৃতায় তিনি লেখেন, ট্যালেন্ট ঈশ্বরের দান| ট্যালেন্ট প্রকাশ করা যায় কিন্তু তার পরিবর্ত হিসেবে | কোনোকিছুই বসানো যায় না। ট্যালেন্ট থাকলে কেউ তা প্রকাশ না করলে সে অপরাধী। আমাদের দেশে এইরকম বহু প্রতিভাসম্পন্ন মানুষ আছেন যারা নিজেদের অন্ন-বস্ত্রের প্রয়োজন মেটাতেই ব্যস্ত | অথচ খেলোয়াড়দের গৌরবের আলোয় গোটা দেশ আলোকিত হয়। অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ইথিওপিয়া প্রভৃতি দেশের কথা উচ্চারণ করলে সর্বপ্রথম মাথায় আসে ডন ব্র্যাডম্যান, পেলে বা বিকিলার মতো মানুষদের যারা খেলার মাধ্যমে তাঁদের দেশকে বিখ্যাত করেছেন। ক্ষিতীশ সিংহের মতে, দেশের একজন সেনাপতির তুলনায় একজন খেলোয়াড় বড়ো এবং প্রকৃত বীর| কারণ একজন খেলোয়াড় বা সাঁতারু জীবনের ও প্রাণের প্রতীক। তাঁরা পৃথিবীর মানুষকে মৃত্যু বা ধ্বংস নয়, বাঁচার এবং সংগ্রামের প্রেরণা জোগায় | এটা শুধু সাঁতারু নয় সমস্ত খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেই সমান প্রযোজ্য। আমাদের দেশে এই খেলোয়াড়রা বঞ্চিত এবং অবহেলিত। সরকার থেকে তাঁদের জন্য উপযুক্ত খাদ্য বস্ত্রবাসস্থানের বন্দোবস্ত করা প্রয়োজন।

  25. “ভালোবাসলে সবকিছু করিয়ে নেওয়া যায়, মানুষকে দিয়েও।” প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
  26. ● প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাস থেকে উদ্ধৃতিটি গৃহীত। ক্ষিতীশের দুটি পোষা বিড়াল ছিল। বিষ্টু ধর ক্ষিতীশের বাড়ি এসে বিড়ালদুটিকে দেখে একটু ভয় পেয়েছিলেন। ক্ষিতীশ বিশু আর খুশি নামক বিড়ালদুটিকে ধমক দিতেই ওরা বারান্দা থেকে নেমে যায়। এই দৃশ্য দেখে বিষ্টু ধর বলেন, “দারুণ ট্রেনিং তো।” বিষ্টু ধরের এই কথা প্রসঙ্গেই ক্ষিতীশ আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

    → বিড়াল প্রভুভক্ত পোষ্য জীব। ক্ষিতীশ ওদের ভালোবাসেন, তাই ওরাও তাঁর নির্দেশ মান্য করে। প্রকৃতপক্ষে, ক্ষিতীশ এখানে মানুষের কথাই বলতে চেয়েছেন। মানুষকে ভালোবাসতে পারলে পারস্পরিক সম্পর্ক নিবিড় হয়। গড়ে ওঠে সহমর্মিতা। ক্ষিতীশ কোনিকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসেন | সেই ভালোবাসার কারণেই কোনি ক্ষিতীশের যাবতীয় নির্দেশ মেনে চলে, ক্ষিতীশের নির্দেশ গুরুবাক্য মনে করে পালন করার চেষ্টা করে। মানুষে মানুষে প্রীতির সম্পর্ক গড়ে উঠলে কর্মের ক্ষেত্রটি মসৃণ হয়। ক্ষিতীশ কোনিকে দিয়ে অনেক কাজ করিয়ে নেন। অবশ্য ক্ষিতীশের বাড়ির কাজ নয় | সাঁতারের ক্ষেত্রেই তিনি কোনিকে নানা রকমের কৌশল ও পদ্ধতির অনুসরণ ও অনুশীলন করতে বলেন। কোনিও জানে, ক্ষিতীশ তাকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসেন। তাই প্রাণপণ চেষ্টা করে তাঁর নির্দেশ মেনে চলতে।

  27. “গণতন্ত্রে এই স্বাধীনতা আছে—লড়াইয়ের স্বাধীনতা।” কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তি ? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
  28. ● উদ্ধৃতাংশটি বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক মতি নন্দীর ‘কোনি' উপন্যাস থেকে গৃহীত। বিদেশে বড়ো বড়ো খেলোয়াড়দের খাওয়াপরার চিন্তা করতে হয় না। সেখানে সরকারই তাদের গুরুত্ব বুঝে সবকিছুর ব্যবস্থা করে দেয়। ভারত বা বাংলা তা নয়, এখানে খেলোয়াড়কে লড়াই করে সবকিছু আদায় করে নিতে হয়। এই প্রসঙ্গেই ক্ষিতীশ আলোচ্যমান উক্তিটি করেছেন।

    → বিদেশে সরকারই জনগণের সুখসমৃদ্ধির নিয়ামক। সুতরাং শিল্প, সাহিত্য, খেলাধুলো ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার সেখানে প্রধান পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকা গ্রহণ করে। আমাদের ভারত বা বাংলায় নিজের চেষ্টায় অধিকার অর্জন করতে হয়। প্রতিভার বিকাশে ব্যক্তিকেই লড়াই করতে হয় বেশি করে। গণতন্ত্রে লড়াইটাকেই স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে | সরকারি সাহায্য থাকলেও সেই সাহায্যের দাবিদার হয়ে উঠতে হবে ব্যক্তিকেই। সুতরাং কোনি পেয়েছে লড়াইয়ের স্বাধীনতা | লড়াই করেই তাকে তার প্রাপ্য অধিকার বুঝে নিতে হবে। প্রমাণ করে দেখিয়ে দিতে হবে সে প্রতিভাবান| অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকলে চলবে না। ক্ষিতীশ আসলে মানুষের নিরলস শ্রম এবং লড়াইকে মর্যাদা দিতেই আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

  29. “সাঁতারু অনেক বড়ো সেনাপতির থেকে।”—বক্তা কে? এই কথার মধ্যে দিয়ে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন? অথবা, বক্তাকে অনুসরণ করে উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
  30. ● প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসের কেন্দ্ৰীয় পুরুষ চরিত্র ক্ষিতীশ আলোচ্য উক্তিটির বক্তা|

    → ক্ষিতীশ একটা বক্তৃতা লিখে দিয়েছিলেন বিষ্টু ধরকে। সেই বক্তৃতায় খেলোয়াড়দের গৌরবের কথা লেখা ছিল। বিষ্টু ধর একমনে সেই বক্তৃতা পড়ছিলেন | মাঝখানে তিনি দম নেওয়ার জন্য একটু থামলে ক্ষিতীশ আলোচ্যমান উক্তিটি করেন। ক্ষিতীশ বলতে চেয়েছেন, দেশের ছেলেমেয়েদের কাছে একজন হিরোই আদর্শ স্থাপন করে। সে সাঁতারুই হোক আর সেনাপতিই হোক—দেশের গৌরব নির্ভর করে তার কৃতিত্বের ওপর| তবে সেনাপতি অপেক্ষা সাঁতারুই বড়ো। কেননা, সেনাপতি দেশরক্ষার জন্য যুদ্ধ করে। যুদ্ধে মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এই প্রাণহানির জন্য সে নিজের দেশের মানুষের কাছে সমীহ পেলেও প্রতিপক্ষ দেশের মানুষের কাছে পায় ঘৃণা। কিন্তু সাঁতারুর সম্মান কোনো দেশকালের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। দেশে দেশে, কালে কালে পৃথিবীর সমস্ত মানুষের হৃদয়ে তার শ্রদ্ধার আসন পাতা | বড়ো সাঁতারু জীবনের ও প্রাণের প্রতীক, আর সেনাপতি মৃত্যু ও ধ্বংসের| বিরাট সাঁতারু পৃথিবীকে প্রেরণা দেয়। আলোচ্য উক্তিটির মধ্যে দিয়ে ক্ষিতীশ এই কথাগুলোই বোঝাতে চেয়েছেন।

  31. “গাছে অনেক দূরে উঠে গেছি। মই কেড়ে নিলে নামতে পারব না।”—এই উক্তিটি কার? তার এরূপ বলার কারণ কী? উপন্যাসে তার পারিবারিক ও শারীরিক কীরূপ বর্ণনা তুমি পেয়েছ?
  32. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি' উপন্যাসের অষ্টম পরিচ্ছেদে ব্যবহৃত উদ্ধৃতাংশটির বক্তা হলেন বিষ্টুচরণ ধর।

    → বিষ্টুচরণ ধর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতেন | সেই বক্তৃতা লিখে দিতেন ক্ষিতীশ সিংহ | সেই বক্তৃতার মাধ্যমেই তিনি জনগণের কাছে পৌঁছতে চেয়েছিলেন। তিনি এমএলএ বিনোদ ভড়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে চেয়েছিলেন বক্তৃতাকে ভরসা করেই। তাই ক্ষিতীশ আর বক্তৃতা লিখে দেবেন না শুনে তিনি এই মন্তব্যটি করেন। • উপন্যাসে আইএ পাশ, অত্যন্ত বনেদি বংশের সন্তান বিষ্টুচরণ ধরের সঙ্গে আমাদের প্রথম পরিচয় ঘটেছে গঙ্গার ঘাটে | পাড়ায় তিনি কেষ্টাদা হিসেবে পরিচিত। তাঁর সাতটি বাড়ি এবং বড়োবাজারে ঝাড়ন মশলার ব্যাবসা আছে। তাঁর বয়স চল্লিশ। তাঁরই সমবয়সি একটি অস্টিন গাড়ির তিনি মালিক।

    → বিষ্টু ধরের পরিচয় দিতে গিয়ে ‘সর্বোপরি’ শব্দটি ব্যবহার করে বলা হয়েছে তাঁর ওজন সাড়ে তিন মন অর্থাৎ ১৪০ কেজি। ক্ষিতীশ সিংহ এই বিপুল দেহের অধিকারী মানুষটিকে ব্যঙ্গ করে হিপো এবং গন্ধমাদনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বিষ্টুচরণ যে খাদ্যতালিকা পেশ করেছেন তা দেখেই বোঝা যায় যে তাঁর মতো খাদ্যরসিকের এই ওজনটি স্বাভাবিক। বিপুলাকৃতির কারণে নিজের শরীরটাকে একপাশ থেকে আর একপাশে ঘোরানোর জন্য তাঁকে মালিশওয়ালার সাহায্য নিতে হয়েছে।

  33. “বিষ্টু ধরের উত্তেজিত মুখ দেখে ক্ষিতীশ চটপট মতলব ভেঁজে নিয়ে বলল ...
    “মাঝে মাঝে যাই বুদ্ধি পরামর্শ দিতে ...”
    “প্রেসিডেন্ট পেয়েছি .... কতটাকা ডোনেশন চাও নকুল দা?”
    - এই তিনটি উক্তির আলোকে ক্ষিতীশ সিংহ সম্পর্কে তোমার কী মনে হয়েছে লেখো।
  34. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি' উপন্যাসের অষ্টম পরিচ্ছেদে আমরা ক্ষিতীশের বলা এই তিনটি উক্তি পেয়েছি।

    → বিষ্টুচরণ দরজিপাড়া বয়েজ লাইব্রেরির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার জন্য ক্ষিতীশ সিংহকে বক্তৃতা লিখে দিতে বলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান যে, ওই অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিনোড ভড়। সুযোগ বুঝে তাকে অ্যাপোলো ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তাব দেন ক্ষিতীশ। খুব সুন্দর নাটকীয় প্লট তৈরি করে তিনি বুঝিয়ে দেন, জুপিটারের প্রেসিডেন্ট যেহেতু বিনোদ ভড় তাই তার বিপক্ষ ক্লাবে তার প্রেসিডেন্ট হওয়া আবশ্যক।

    → ‘রথ দেখাও হল কলাবেচাও হল’ এই প্রবাদটা মনে পড়ে যায় ক্ষিতীশ সিংহের গরবর্তী পদক্ষেপে। কারণ এই সুযোগেই তিনি তাঁর স্ত্রী লীলাবতীর বিষ্টুচরণকে দেওয়া সেলামির টাকাটা ফিরিয়ে নেন। বিচক্ষণ ক্ষিতীশ সিংহ উপলব্ধি করেছিলেন যে বিষ্টুচরণ ধর শুধু বক্তৃতার জন্যই তাঁর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েননি, তাঁর বুদ্ধি পরামর্শ অনুযায়ী চলছেনও। তাই বাড়িতে স্ত্রী লীলাবতীকে বেশ গর্বের সঙ্গেই বলেছেন, ‘মাঝে মাঝে যাই বুদ্ধি পরামর্শ দিতে।'

    → এর পরের প্রস্তাবটা তিনি দিয়েছেন অ্যাপোলো ক্লাবের কর্মকর্তা নকুল মুখুজ্জেকে। সেখানেও তিনি বুদ্ধির সঙ্গে কাজ হাসিল করেছেন | পাঁচশো টাকা দেওয়া বটুবাবুর পরিবর্তে তিনি দুহাজার টাকা দেবেন এমন প্রেসিডেন্ট ঠিক করে নকুল মুখুজ্জেকে প্রসন্ন করেছেন। পুরো বিষয়টিতে কোনির সুবিধা তৈরির জন্য ক্ষিতীশ সিংহ যে উপস্থিত বুদ্ধি প্রমাণ করেছেন তা প্রশংসনীয় |

  35. “সোনার মেডেল-ফেডেল কিছু নয় রে, ওগুলো এক একটি চাকতি মাত্র।” কে, কাকে একথা বলেছেন? এই উক্তির মধ্যে দিয়ে বক্তা কী বোঝাতে চেয়েছেন?
  36. ● মতি নন্দীর ‘কোনি' উপন্যাসের লড়াকু চরিত্র ক্ষিতীশ সিংহ একথা বলেছেন কোনিকে।

    → ক্ষিতীশের তত্ত্বাবধানে কমলদিঘিতে কোনি সাঁতার কাটে। গলায় ঝোলানো স্টপওয়াচ মুঠোয় ধরে ক্ষিতীশ বিড়বিড় করে আপন মনে বকে যান। কোনিকে তিনি কিছুতেই জল থেকে উঠতে দেবেন না। কষ্ট, যন্ত্রণা, খিদে—সবকিছুকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে বলেন তাকে। তাঁর মুখে একটাই কথা—“ফাইট কোনি ফাইট।” কোনিকে যন্ত্রণার মার খেয়ে ইস্পাত হয়ে উঠতে হবে। আরও পঞ্চাশ মিটার কোনিকে এগিয়ে যেতে হবে। সোনার মেডেল-ফেডেল তুচ্ছ | ওগুলো চাকতিমাত্র | ওগুলোর মধ্যে লুকিয়ে আছে শ্রম, নিষ্ঠা, অধ্যাবসায় আর আন্তরিকতা | লক্ষ্য মেডেল নয়, লক্ষ্য হওয়া উচিত শক্তিকে উজাড় করে দিয়ে নিজেকে সবার ওপরে তুলে ধরা। মেডেলের মধ্যে মানুষ থাকে না, থাকে মানুষের নিরলস অনুশীলন আর পরিশ্রমের ধারাবাহিক ইতিহাস | মেডেলের কাছে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নয়, মেডেল যাতে ব্যক্তির কাছে এগিয়ে আসে সেই চেষ্টাই করতে হবে। কোনির ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা বাইরে বের করে আনার জন্যই ক্ষিতীশের এমন উক্তির অবতারণা |

We are very glad that you want to share.
Thanks for sharing this.