কোনি (মতি নন্দী) প্রশ্ন উত্তর ও সাজেশন [১ - ১৭টি ]

কোনি (মতি নন্দী) প্রশ্ন উত্তর ও সাজেশন [১ - ১৭টি ], কোনি প্রশ্ন ও উত্তর, কোনি প্রশ্ন সাজেশন, কোনি ১৭টি প্রশ্ন উত্তর ও সাজেশন.

কোনি (মতি নন্দী) প্রশ্ন উত্তর ও সাজেশন [১ - ১৭টি ] (প্রশ্নমান-৫)

  1. বারুণী কী? বারুণীর দিনে গঙ্গার ঘাটে যে দৃশ্যটি ফুটে উঠেছে তা লেখো।
  2. ● শতভিষা নক্ষত্রযুক্ত কৃষ্ণাচতুর্দশী তিথিতে পুণ্যস্নান দ্বারা পালনীয় পর্ব হল বারুণী। এই দিন মনস্কামনা পূরণের অভিপ্রায়ে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে কাঁচা ফল দান করা হয়।

    → বারুণী পর্বকে কেন্দ্র করে গঙ্গার ঘাটে প্রচুর কাঁচা আম ভেসে যাচ্ছিল। মহা উৎসাহের সঙ্গে ছেলেমেয়েদের দল সেই আম কুড়োচ্ছিল| ভাটায় জল কিছুটা দূরে সরে যাওয়ায় কাদা মাখা পায়ে ফেরা লোকেদের মুখে বিরক্তি ছিল | সাড়ে তিন মন ওজনের বিষ্টুচরণ ধর একটা ছেঁড়া মাদুরের উপর শুয়ে মালিশ করাচ্ছিলেন এবং বিরক্ত-সহ গঙ্গার দিকে তাকিয়ে ছিলেন | সাদা লুঙ্গি, গেরুয়া পাঞ্জাবি এবং চোখে মোটা লেন্সের চশমা পরিহিত পঞ্চাশ-পঞ্চান্ন বছরের ক্ষিতীশ সিংহ বিষ্টুচরণকে দেখে হাসছিলেন। ‘তানপুরা’, ‘তবলা’, ‘সারেগামা’ ইত্যাদি বিচিত্র ভঙ্গিতে মালিশ করার নির্দেশ দিচ্ছিলেন বিষ্টুচরণ ধর। এই দৃশ্যে পুলকিত হয়ে ক্ষিতীশ সিংহ বিষ্টুচরণ ধরের শরীর নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলেন যে, তিনি নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। নানান অঙ্গভঙ্গি করে যখন ক্ষিতীশ সিংহ মজা করতে শুরু করেন তখন বিষ্টুচরণ ধরের রাগের বদলে কৌতূহল হয়। ক্রমশ তাদের দুজনের মধ্যে আলাপ জমে ওঠে।

  3. “আপনার মন হুকুম করতে জানে না তাই শরীর পারল না”—প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এই উক্তির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
  4. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি' উপন্যাসের প্রথম পরিচ্ছেদে আলোচ্য উক্তি ব্যবহৃত হয়েছে।

    সাড়ে তিন মন ওজনের অধিকারী বড়োলোক ব্যবসায়ী বিষ্টুচরণ ধরের শরীর নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করেছিলেন ক্ষিতীশ সিংহ। বিষ্টুচরণ অনেক টাকা খরচ করেও যে তার শরীরটাকে চাকর বানাতে পারবেন না তা বোঝাতেই, ক্ষিতীশ নিজের ডান হাতের কনুই শরীরে লাগিয়ে পিস্তলের মতো হাতটি সামনে বাড়িয়ে দেন | বিপুল শক্তি প্রয়োগ করে, শত চেষ্টা করে বিষ্টুচরণ ধর তাঁর হাতটা নামাতে ব্যর্থ হন। এই প্রসঙ্গে ক্ষিতীশ সিংহ আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

    → জোর বলতে শুধু শারীরিক বল প্রয়োগকেই বোঝায় না| মনের জোর এবং ইচ্ছাশক্তি শরীরের দুর্বলতাকে ঢেকে দেয়। ইচ্ছাশক্তি শরীরকে নিজের মতো করে অনেক বেশি পরিশ্রম করিয়ে নিতে পারে। তাই শুধু শরীর গড়া নয়, মনকেও তৈরি করতে হয়। শরীর যদি মনের নিয়ন্ত্রণে থাকে তাহলে মন শরীরকে হুকুম দিয়ে কাজ করাবে। কিন্তু খাদ্যরসিক, ভোগবিলাসী বিষ্টুচরণ শরীর সম্পর্কে সচেতন নন। তাই তিনি বিপুল শরীরের অধিকারী হয়েও ক্ষিতীশ সিংহের হাতটা নামাতে না পেরে হাল ছেড়ে দিয়ে ফোঁস ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলতে থাকেন।

  5. “চার লক্ষ টাকা খরচ করলেও আপনি নিজের শরীরটাকে চাকর বানাতে পারবেন না।”—কে, কাকে বলেছিলেন? তিনি কেন এরূপ বলেছেন?
  6. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি' উপন্যাসের প্রথম পরিচ্ছেদে ক্ষিতীশ সিংহ বিষ্টুচরণ ধরকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেছিলেন। । ধনী ব্যবসায়ী বিষ্টুচরণ ধর লেন সাড়ে তিন মন ওজনের দেহের মালিক। তাঁর বিপুলাকৃতি দেহটি বিচিত্র ভঙ্গিতে মালিশ করাতে দেখে ক্ষিতীশ সিংহ তাঁকে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করে হাতি বা হিপোর সঙ্গে তুলনা করা ছাড়াও চাঁটি মেরে পালানোর কথাও বলেন| “খাওয়ায় আমার লোভ নেই” বলেও বিষ্টুচরণ যে ডায়টিং করার ফর্দ বলেন, তা শুনে বিদ্রুপের সুরে ক্ষিতীশ সিংহ বলেন “এত কেচ্ছাসাধন করেন!” বিষ্টুচরণ ধরের এই ওজন যে তার হার্টের পক্ষে বিপজ্জনক তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ক্ষিতীশ সিংহ শরীরটাকে চাকর বানানোর কথা বলেন। মন বা ইচ্ছাশক্তি দ্বারা শরীরকে পরিচালনা করা প্রয়োজন। সুস্থ সবলভাবে বেঁচে থাকতে গেলে নিয়মিত শরীরচর্চা, খাওয়াদাওয়ার যথাযথ পরিমাণ ইত্যাদি বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি| ক্ষিতীশ সিংহ তাঁর শরীর ও মনের শক্তি দিয়ে বিষ্টুচরণ ধরকে বুঝিয়ে দেন যে তিনি বিষ্টুচরণ ধরের তুলনায় বয়সে বড়ো হওয়া সত্ত্বেও শারীরিক এবং মানসিক দিক থেকে শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধ।

  7. “গুরুকে শ্রদ্ধেয় হতে হবে শিষ্যের কাছে”—‘কোনি’ উপন্যাস অবলম্বনে উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
  8. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি' উপন্যাসের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আলোচ্য উদ্ধৃতাংশটি ব্যবহৃত হয়েছে | পঞ্চাশ থেকে পঞ্চান্ন বছরের একজন সাঁতার প্রশিক্ষকক্ষিতীশ সিংহ| জুপিটার সুইমিং ক্লাবের সঙ্গে তাঁর প্রায় ৩৫ বছরের সম্পর্ক। এই মানুষটিই ক্লাবের একটি দলীয় রাজনীতির শিকার হন। তাঁর বিরুদ্ধে ক্লাবের ছেলেদের অভিযোগপত্র লেখানো হয়। হরিচরণ মিত্র এবং তাঁর দলের অভিযোগ ছিল ক্ষিতীশ সিংহ ক্লাবের সাঁতারুদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেন। আসলে ক্ষিতীশ সিংহ ছিলেন কড়া মেজাজের। সাঁতার শেখানোর গুরু হিসেবে তিনি ছাত্র তথা শিষ্যের প্রবল কৃচ্ছসাধনে বিশ্বাসী ছিলেন। সুবিধাবাদী হরিচরণ মিত্রের উদ্দেশে তিনি তাই বলেছিলেন যে চ্যাম্পিয়ন শুধু খাওয়াদাওয়া বা অনুশীলন দ্বারা তৈরি করা যায় না। একজন সাঁতারুর মন-মানসিকতা বুঝে তাকে শেখাতে হয়। একজন প্রশিক্ষককে মনস্তাত্ত্বিকের মতো সাধারণজ্ঞান প্রয়োগ করে শিষ্যের কাছে গুরু হয়ে উঠতে হবে। গুরুর কথা শিষ্য বেদবাক্যের মতো গ্রহণ করবে। এইভাবেই তিনি হরিচরণের মতো মানুষদের সমালোচনা করেছেন।

  9. “শরীরের নাম মহাশয় যা সহাবে তাই সয়”—ক্ষিতীশ সিংহের এই উক্তিতে তার কীরূপ মানসিকতা ফুটে উঠেছে?
  10. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে ক্ষিতীশ সিংহ এই প্রবাদবাক্যটি ব্যবহার করেছেন। এই বাক্যের মধ্যে দিয়ে পঞ্চাশ থেকে পঞ্চান্ন বছর বয়সের মানুষটির শরীর ও মন সম্পর্কে অপূর্ব সংযম ও নিয়ন্ত্রণের ছবিটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মানুষটি প্রতিদিন শরীরচর্চা করতেন| নিজেই স্পষ্ট বলেছেন “খিদের মুখে যা পাই তাই অমৃতের মতো লাগে” | শরীর সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে সচেতন মানুষটি বাড়িতেও তার এই আদর্শ মেনে চলতেন। তাঁর সংসারে খাওয়ার আয়োজন ছিল সামান্যই | বাঙালিয়ানা রান্নায় ভালো থাকবে না, তাই প্রায় সব কিছু কুকারে সিদ্ধ করেই | তিনি খেতেন। খাদ্যপ্রাণ তাঁর মতে যথাসম্ভব অটুট থাকে সিদ্ধ খাবার খেলে। ক্ষিতীশ সিংহের স্ত্রী সংসারে প্রথমদিকে বিদ্রোহ প্রকাশ করেছিলেন এবং রান্নায় মশলা ব্যবহারের চেষ্টা করেছিলেন। শরীরচর্চা এবং মনকে যথাসম্ভব সংযমী রাখতে পারলে সে নিয়ন্ত্রণে থাকবে ক্ষিতীশ সিংহের এটাই বিশ্বাস ছিল। এককথায় ক্ষিতীশ সিংহের সাঁতার ও সাঁতারুদের প্রতি দায়িত্ববোধ, কর্তব্যবোধ এবং কঠোর পরিশ্রমের প্রতি তাঁর পক্ষপাত আলোচ্য প্রসঙ্গে ফুটে উঠেছে।

  11. “চার বছরের মধ্যেই প্রজাপতি ডানা মেলে দিয়েছে”‘প্রজাপতি’ সম্পর্কে কী জেনেছ? প্রজাপতিকে ঘিরে ক্ষিতীশ সিংহের পরিবারের কোন্ ছবি ধরা পড়েছে?
  12. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে উদ্ধৃতাংশটি ব্যবহৃত হয়েছে। ক্ষিতীশ সিংহ এবং লীলাবতীর একটি টেলারিং-এর দোকান ছিল। দোকানটির নাম ছিল ‘সিন্‌হা টেলারিং'। লীলাবতী এই দোকানটির দায়িত্ব নিয়ে, মেয়েদের ও বাচ্চাদের পোশাক তৈরি করেন এবং নাম দেন ‘প্রজাপতি’ |

    → জুপিটার ক্লাব এবং সাঁতার অন্তপ্রাণ ক্ষিতীশ সিংহ সংসারী মানুষ ছিলেন না। তিনি যখন দোকান চালাতেন দিনে দু-ঘণ্টাও সেখানে বসতেন না। দুটি দর্জি জামা-প্যান্ট বানাতেন। একদিন দেখা যায় দোকানের আলমারির কাপড় অর্ধেকেরও বেশি অদৃশ্য হয়েছে এবং দোকানের ভাড়া চার মাস বাকি | দোকানে যখন লাভের বদলে লোকসান হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে লীলাবতী দোকানের হাল ধরেন। নিজের গহনা বন্ধক দিয়ে দুটি মহিলাকে নিয়ে শুধু মেয়ে ও শিশুদের পোশাক তৈরি শুরু করেন। ক্রমশ ব্যাবসার সমৃদ্ধি ঘটে। লীলাবতী তার গহনাও অর্ধেক ফিরিয়ে নেন। ব্যাবসা ভালো চলার ফলে, একটা বড়ো দোকানের খোঁজও শুরু করেন লীলাবতী। লীলাবতী বিচক্ষণতা, পরিশ্রম এবং সাংসারিক মানসিকতা দিয়ে দোকানটিকে পুনরায় সাজিয়ে তোলেন |

  13. “সম্ভবত নামটা তার ভালো লেগেছে।”—কোন্ নামটা কার ভালো লেগেছে? ভালোলাগার কারণ বিশ্লেষণ করো।
  14. ● মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় পুরুষ চরিত্র ক্ষিতীশ সিংহের ভালো লেগেছে কোনি নামটা | উদ্দিষ্ট মেয়েটির নাম ছিল কোনি।

    → ক্ষিতীশ জুপিটার ক্লাবের সুইমিং ট্রেনার। কিন্তু সেখানে প্রতিভাবান সাঁতারু নেই। সেই কারণে ক্ষিতীশের মনে একটা অতৃপ্তি ছিল। তিনি ভাবতেন কোনোদিন যদি উপযুক্ত সাঁতারু পান, তবে তৈরি করে দেখিয়ে দেবেন একজন ট্রেনারের মূল্য কতখানি। বারুগীর দিন গঙ্গার ঘাটে সাঁতার দিয়ে ভেসে যাওয়া আম ধরার লড়াইয়ে তিনি কোনি নামক মেয়েটিকে দেখেছিলেন। তার ক্ষিপ্রতা, জেদি মনোভাব এবং শারীরিক গঠন ক্ষিতীশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। সতীর্থদের চিৎকার থেকেই তিনি শুনেছিলেন কোনির নামটা। তারপর থেকেই তাঁর মনের কোমলতম স্থানে কোনি নামটা জায়গা করে নেয়। সবসময় তাঁর চেতনার স্তর বেয়ে উঠে আসে গঙ্গার ঘাটের সেই দৃশ্য। তিনি যেন দেখতে পান ফণা তোলা কেউটের মতো হিলহিলে কাদায় লেপা সরু একটা দেহ, লম্বা লম্বা হাত এলোপাথারি ডাইনে বাঁয়ে ঘোরাচ্ছে | তিনি কোনির মতোই একটা লুকানো প্রতিভাকে খুঁজছিলেন। সেই প্রতিভা প্রাপ্তির সম্ভাবনায় কোনি নামটি ক্ষিতীশের প্রিয় হয়ে ওঠে।

  15. জুপিটারের যে সভায় ক্ষিতীশ সিংহ চিফ ট্রেনারের পদ ছেড়েছিলেন সেই সভার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
  16. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের তৃতীয় পরিচ্ছেদে জুপিটার ক্লাবের সভাটির বর্ণনা আছে।

    → ক্ষিতীশ সিংহ-সহ সভার সদস্য ছিলেন আটজন | ক্লাবের নতুন প্রেসিডেন্ট এমএলএ বিনোদ ভড়, সম্পাদক ধীরেন ঘোষ, যজ্ঞেশ্বর ভট্টাচার্য, হরিচরণ মিত্তির সকলেই সভায় উপস্থিত ছিলেন। চার মিনিট দেরিতে সভায় পৌঁছে ক্ষিতীশ সকলকে জানান, চিঠিতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো স্পষ্ট নয় | হরিচরণ জানান ক্লাবের যে সাঁতারুরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় মেডেল পেয়ে ক্লাবকে সম্মানিত করেছে, তাদের অনেককেই ক্ষিতীশ সিংহ অপমান করায় ক্লাব ছেড়েছে। এই কথাগুলোর মাঝে ক্ষিতীশ দু-বার প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করে বলেছেন, সাঁতারুরা কঠোর পরিশ্রমের পরিবর্তে আড্ডা দিয়ে বৃথা সময় নষ্ট করে। কিন্তু তাঁর কথাগুলো না শুনেই হরিচরণ অভিযোগের তালিকা তুলে ধরার চেষ্টা করেন | বদু চাটুজ্জে বলেন, ক্ষিতীশের প্রতি সাঁতারুদের শ্রদ্ধা বা বিশ্বাস নেই| ক্ষিতীশ কোনো প্রতিযোগিতায় মেডেল পাননি, কিন্তু হরিচরণ ইন্ডিয়া চ্যাম্পিয়ন ছিলেন, অলিম্পিকে গিয়েছিলেন। কার্তিক সাহা পর্যন্ত ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে কথা বলেন। ক্ষিতীশ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মেনে নিয়ে জানান যে সাঁতারুদের প্রতি কঠোর হয়েছেন শুধু এই আশায় যে জুপিটার ভারতসেরা হয়ে উঠুক। নিয়মিত অনুশীলন, শৃঙ্খলা এবং সংযমী জীবনযাপন সাধারণ সাঁতরুকে ভালো সাঁতারুতে পরিণত করে। ক্লাবের সাঁতারুদের এগুলির অভাব। এই কথাগুলো বলে ক্ষিতীশ ক্লাব থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাঁতারুদের বলে যান— তারা যেন ভালো করে সাঁতার কাটে। তিনি আজ থেকে আর জুপিটারের ট্রেনার নন।

  17. “ওরা হঠাৎ কাঠের মতো হয়ে গেল।” ওরা কারা? ওদের এমন অবস্থার কারণ কী?
  18. ● ‘ওরা’ হল জুপিটার ক্লাবের শিক্ষানবিশ সাঁতারু শ্যামল, গোবিন্দ এবং আরও চার-পাঁচটি ছেলে।

    → ক্ষিতীশ সিংহের তত্ত্বাবধানে ওরা জুপিটার ক্লাবে সাঁতার শেখে। কিন্তু ক্লাবের কর্মকর্তাদের একাংশের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে ক্ষিতীশ। ক্লাবের সাধারণ সভায় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। বলা হয়, ক্লাবের সুইমাররাই ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। শুধু তাই নয়, তাঁর দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। ট্রেনার হতে গেলে নামকরা সাঁতারু হওয়া প্রয়োজন| ক্ষিতীশ কখনও জলে নামেন না; অথচ তিনি কী করে সাঁতারের ট্রেনার হতে পারেন! এই অভিযোগ তুলে ক্ষিতীশকে বিতাড়িত করা হয় জুপিটার থেকে। ক্লাবঘরের বাইরে আসতেই ক্ষিতীশ দেখেন তাঁর বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ এনেছে বলে সভায় জানানো হয়েছে, তারাই তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে| ক্ষিতীশকে দেখে তাই তারা লজ্জায় কাঠের মতো দাঁড়িয়েছিল। কারণ ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এই মিথ্যা ষড়যন্ত্রে তাদের নাম জড়ানোর জন্যই তারা লজ্জিত হয়।

  19. “একবার, শুধু একবার যদি তেমন কারুর দেখা পাই।” বক্তা কে? তিনি কেন, কার দেখা পেতে চান?
  20. ● মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাস থেকে গৃহীত আলোচ্যমান উক্তিটির বক্তা হলেন ক্ষিতীশ সিংহ।

    → দলীয় রাজনীতির শিকার হয়ে ক্ষিতীশ জুপিটার সুইমিং ক্লাব থেকে বিতাড়িত হন| ট্রেনারের পদও চলে যায় তাঁর| কিন্তু জলই ছিল ক্ষিতীশের জীবন। এই জলের মধ্যেই তাঁর স্বপ্ন লুকিয়ে আছে। তিনি চেয়েছিলেন ভালো প্রতিভার সন্ধান পেলে প্রমাণ করে দেখিয়ে দেবেন কীভাবে চ্যাম্পিয়ন তৈরি করা যায়। কিন্তু জুপিটার থেকে বিতাড়িত হয়ে তাঁর মনে তীব্র হতাশার সৃষ্টি হয়।

    দ→ ীর্ঘদিনের সম্পর্কের ক্লাব জুপিটার থেকে তিনি এই অপমান প্রত্যাশা করেননি। তাই তাঁর মনে তৈরি হয়ে তীব্র ক্ষোভ। প্রতিশোধস্পৃহাও জেগে ওঠে তাঁর মধ্যে। জুপিটারের কর্মকর্তাদের তিনি দেখিয়ে দিতে চান তিনি চ্যাম্পিয়ান তৈরি করতে পারেন কি না। এই কাজে তাঁর একান্ত প্রয়োজন একজন প্রতিভাবান সাঁতারুর। আর এমন একজন পেলে ক্ষিতীশ তাঁর লক্ষ্যপূরণের পথে এগিয়ে যেতে পারবেন। তাঁর প্রতি অপমান ও ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের সমুচিত প্রতিশোধ নেবেন। এই কারণেই তিনি শিখতে আগ্রহী এমন একজন সাঁতারুর সন্ধান পেতে চান |

  21. “এই দ্বিতীয়বার সে ওকে দেখলে”—কাকে, কার দ্বিতীয়বার দেখার কথা বলা হয়েছে? প্রথম ও দ্বিতীয় দেখা দুটি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
  22. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের চতুর্থ পরিচ্ছেদে ব্যবহৃত উদ্ধৃতাংশটিতে কোনিকে ক্ষিতীশ সিংহের দ্বিতীয়বার দেখার কথা বোঝানো হয়েছে।

    → রথমবার ক্ষিতীশ সিংহ কোনিকে দেখেছিলেন বারুণীর দিন গঙ্গার ঘাটে। ভাটার টানে গঙ্গায় ভেসে যাওয়া আম পাওয়ার জন্য তিনজন সাঁতার কাটছিল। তার মধ্যে একজন আমের কাছে পৌঁছতেই ‘কোনি’ নামে চিৎকার ওঠে। আমটা প্রথমজনের প্রায় হাতের মুঠোয় এসে যেতেই হাত ছুঁড়েও সে এগোতে পারে না | সেই সুযোগে পিছনের একজন আমটা ধরে ফেলে। তারপরেই কাদার মধ্যে তিনজনের মারামারি শুরু হয়। সরু কালো চেহারার মেয়েটাকে কাদার মধ্যে ফেলে তার পিঠের ওপর চেপে বসে একজন তার মুখটা কাদায় ঘষে দেওয়ার চেষ্টা করলেই সে পা ছুঁড়তে থাকে। এরপরই কালো মেয়েটি তার আঙুলে কামড়ে দিয়ে তার ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার কাছ থেকে আম সংগ্রহ করে। সেই কালো মেয়েটিই ছিল কোনি।

    → দ্বিতীয়বার নেতাজি বালক সংঘের উদ্যোগ কুড়ি ঘণ্টা অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতায় কোনিকে দেখেছিলেন ক্ষিতীশ সিংহ| বাইশজন প্রতিযোগীর মধ্যে বিশিষ্ট চেহারার কোনিকে চিনতে পারেন ক্ষিতীশ সিংহ। এই দ্বিতীয় দেখাতেই তিনি কোনিকে সাঁতার শেখার প্রস্তাব দেন এবং তার সঙ্গে আলাপ করে নেন।

  23. “ক্ষিতীশ এইসব অপচয় দেখে বিরক্ত বোধ করে।”—ে -কোন্ অপচয়ের কথা বলা হয়েছে? তা দেখে ক্ষিতীশের বিরক্ত বোধ করার কারণ কী?
  24. ● সেন্ট্রাল অ্যাভেনিউয়ের চিলড্রেন পার্কে অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। ক্ষিতীশ একে স্পোর্ট বলতে চান না | আর একবার তিনি গোলদিঘিতে ৯০ ঘণ্টা সাঁতার প্রতিযোগিতা দেখেছিলেন। তাঁর মতে সেটাও প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে না। কারণ সুশৃঙ্খল ট্রেনিং আর টেকনিক মারফত সাঁতার না হলে তার কোনো মূল্য নেই। এই অনিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতাকেই ক্ষিতীশ সময় ও শ্রমের অপচয় বলে মনে করেছেন।

    → ক্ষিতীশের কাছে সাঁতার জিনিসটা নিছক আমোদ-প্রমোদ বা ছেলেখেলার বিষয় নয়। এতে সাফল্য অর্জন করতে হলে নিয়মিত অনুশীলন এবং গভীর অধ্যাবসায় প্রয়োজন। উপযুক্ত প্রশিক্ষকের দ্বারা শিক্ষণপ্রাপ্তরাই সাঁতারে সাফল্য দেখাতে পারে। তাঁর কাছে অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতা বা ৯০ ঘণ্টা সাঁতার প্রতিযোগিতা কোনো খেলা বলেই গণ্য হতে পারে না। এই ধরনের প্রতিযোগিতায় কোনো শৃঙ্খলা বা নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ক্ষিতীশ মনে করেন, সাঁতরেরও একটা ব্যাকরণ আছে। তা মেনেই নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে। নিয়ন্ত্রণহীন, নিয়মবর্হিভূত প্রতিযোগিতা আসলে শ্রম ও সময়ের অপচয় | এই কারণেই ক্ষিতীশ এই ধরনের প্রতিযোগীতা দেখে বিরক্ত বোধ করতেন।

  25. “চিৎকারটা হতাশায় ভেঙে পড়ল।”— কার চিৎকার? সেই চিৎকার হতাশায় ভেঙে পড়ার কারণ কী?
  26. ● আলোচ্য অংশটি মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাস থেকে গৃহীত| আলোচ্যমান অংশে কোনির দাদা কমলের চিৎকারের কথাই বলা হয়েছে।

    → রবীন্দ্র সরোবরে এক মাইল সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে পঁচিশজন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছিল—বাইশটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে। এই প্রতিযোগিতায় কোনিও অংশগ্রহণ করেছিল। নিজে পারেনি বলে কোনির দাদা কমল কোনিকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখত। টাকার অভাবে সে সাঁতার শিখতে পারেনি। না হলে সেও হতে পারত একজন নামকরা সাঁতারু। কিন্তু সংসারের নিদারুণ অভাব তার স্বপ্নভঙ্গ করেছে। তাই তার ইচ্ছা কোনি যেন নামকরা সাঁতারু হয়ে ওঠে। রবীন্দ্র সরোবরে দর্শকের ভূমিকায় ছিল কমল | কোনির সাঁতারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সে জলের পাড় বরাবর দৌড়াচ্ছিল, আর চিৎকার করে বলছিল, “কো ও ও ন্ ই ই।” সে চাইছিল কোনি যেন প্রথম হয়। তাহলে তার ব্যর্থতার দুঃখ মুছে যাবে, আবার কোনির জন্য স্বপ্ন দেখাও সফল হবে। তাই তার চিৎকারটা এত করুণ ছিল। কিন্তু কোনি একটু পিছনে পড়তেই কমলের চিৎকারটা যেন হতাশায় ভেঙে পড়ল | কোনির পিছিয়ে পড়া কমলের মনে গভীর হতাশা সৃষ্টি করেছিল।

  27. “কমল হাঁপিয়ে পড়ল এই কটি কথা বলেই।” কমল কী কথা বলেছিল? তাঁর হাঁপিয়ে পড়ার কারণ কী?
  28. ● ক্ষিতীশ কোনিদের বাড়ি গিয়েছিলেন ওদের পারিবারিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে। ওদের অবস্থা দেখে তিনি বলেন যে, কোনিকে তিনি সাঁতার শেখাবেন, কিন্তু তার জন্য কোনো পয়সা দিতে হবে না| উত্তরে কোনির দাদা বলে যে, তারা খুবই গরিব| সাঁতার শিখতে হলে খাওয়াদাওয়ার খরচ আছে। তার বাবা প্যাকিং কারখানায় কাজ করতে গিয়ে টিবি রোগে মারা গেছেন। কমল নিজেও সাঁতার শিখত। সাঁতার কেটে এসে সে খিদেয় ছটফট করত, স্কুলে ঘুমিয়ে পড়ত। তারপর সে সাঁতার ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। সাত ভাই-বোন আর মাকে নিয়ে তাদের বিরাট সংসার। গত বছর তার মেজো ভাই ট্রেনের ইলেকট্রিক তারে মারা গেছে, সেজো ভাই কাঁচরাপাড়ায় পিসির বাড়িতে থাকে। সে নিজে একটা মোটর গ্যারেজে কাজ করে। ওভারটাইম করেও দেড়শো টাকার বেশি পায় না| তাতেই কোনোরকমে সংসার চলে।

    → কমল মোটর গ্যারেজে অতিরিক্ত সময় ধরে কাজ করে। বাড়িতে ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া হয় না। অভাবের সংসার বলে কোনোরকমে বেঁচে থাকার মতো খাবারটুকু জোগাড় করতে তাকে হিমশিম খেতে হয়। তাই অপুষ্টিজনিত কারণে বাবার মতো সেও টিবি রোগে আক্রান্ত| সেই কারণেই একটু কথা বলেই সে হাঁপিয়ে পড়ল।

  29. “সে দায়িত্ব আমার”—উক্তিটি কে, কাকে বলেছিলেন? দায়িত্ব বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন? এই উক্তির আলোকে বক্তাকে তোমার কেমন লেগেছে?
  30. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের পঞ্চম পরিচ্ছেদে ক্ষিতীশ সিংহ কোনির দাদা কমল পালকে এই কথাটি বলেছেন।

    → দায়িত্ব বলতে কোনির খাওয়া-পরা, তার মানসিক গড়ন তৈরি, প্রতিদিন নিয়মিত অনুশীলন করানো প্রভৃতিকে বোঝানো হয়েছে। এ ছাড়া যদি কোনিকে বাড়িতে নিয়ে এসে রাখার প্রয়োজন হয় তখন যেমন শিষ্যরা গুরুগৃহে থাকে সেইরকমই কোনি এসে থাকবে বলে ক্ষিতীশ জানিয়েছিলেন।

    → ক্ষিতীশ সিংহ ছিলেন সাঁতারের কোচ| সাঁতারু তৈরি করাই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র ব্রত। কোনি নামে মেয়েটিকে তিনি প্রথম গঙ্গার ঘাটে সাঁতার দিতে দেখেছিলেন। রবীন্দ্র সরোবরের এক মাইল সাঁতার প্রতিযোগিতাতেও তিনি কোনিকে লক্ষ করেছিলেন। এখানেই তিনি কোনির দাদার কাছে কোনিকে সাঁতার শেখানোর প্রস্তাব দেন। কোনির দাদা নিজেদের দারিদ্র্যের কথা অকপটে জানান। কোনির খেলাধুলোর প্রতি আগ্রহ আছে এবং কোনি গঙ্গায় সাঁতারও কাটে। কিন্তু “ইচ্ছে থাকলেও ওকে সাঁতার শেখবার সামর্থ্য আমার নেই।”—কথাগুলি বলেন কোনির দাদা। এই কথা শুনে ক্ষিতীশ সিংহ তাঁর পরোপকারী, দরদি মানসিকতা নিয়ে সব দায়িত্ব গ্রহণ করতে চেয়েছেন। তিনি যথার্থ গুরুর মতো শিষ্যকে উপযুক্ত আহার ও বাসস্থান দিয়ে তার মানসিকতাকে তৈরি করে নিতে চেয়েছেন। এই দায়িত্ব নেওয়ার মধ্যে দিয়ে তাঁর সাঁতার অন্তপ্রাণ মানসিকতাও প্রবল হয়ে উঠছে।

  31. “সিস্টেমটা খুব ভালো।”—কোন্ সিস্টেমের কথা বলা হয়েছে? সিস্টেমটা বক্তার ভালো লাগার কারণ কী?
  32. ● আলোচ্য অংশটি মতি নন্দীর কোনি উপন্যাস থেকে গৃহীত। প্রাচীনকালে শিক্ষার্থীরা গুরুগৃহে থেকে লেখাপড়া শিখত। সেখানেই তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল | এখানে সেই সিস্টেমের কথাই বলা হয়েছে।

    → রবীন্দ্র সরোবরে এক মাইল সাঁতার প্রতিযোগিতায় কোনির ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ভেলো বলে, “স্ট্রেংথই নেই, আদ্দেকের পর আর টানতে পারছিল না। ওকে এখন খুব খাওয়াতে হবে।” এ কথা শুনে ক্ষিতীশ বলেন, কোনির দায়িত্ব তিনিই নেবেন। কিন্তু ক্ষিতীশের বাড়ির অবস্থাও তেমন ভালো নয়। দায়িত্ব নেওয়া মানে খাওয়াপরার দায়িত্ব | ভেলো তাই সংশয় প্রকাশ করে বলে যে, ক্ষিতীশ সিংহ কীভাবে কোনির যাবতীয় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবেন। আর এমনটি হলে কোনিকে বাড়িতে এনে রাখতে হবে। ভেলোর কথা শুনে ক্ষিতীশ বলেন, “দরকার হলে রাখতে হবে। এককালে গুরুগৃহে থেকেই তো শিষ্যরা শিখতো।” গুরুগৃহে থেকে শিষ্যদের শেখার ব্যাপারটা ক্ষিতীশের খুব ভালো লাগে | কারণ, ক্ষিতীশ মনে করেন, এই রীতিটি শিক্ষার্থী এবং গুরুর উভয়ের পক্ষেই মঙ্গলজনক।

  33. “যেদিন তুমি ওইরকম স্ট্রোক দিতে শিখবে।”—কাকে দেখিয়ে এরূপ বলা হয়েছে? যার উদ্দেশে বলা হয়েছে সে কী বলেছিল? ‘ওইরকম স্ট্রোক’ বলতে বক্তা কী বুঝিয়েছেন?
  34. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে আলোচ্য উক্তিটি ক্ষিতীশ সিংহ জুপিটার ক্লাবের সাঁতারু সুহাসকে দেখিয়ে কোনির উদ্দেশে করেছেন।

    → এই কথা শুনে কোনি তীক্ষ্ণ চোখে, সুহাসের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বেঁকিয়ে বলেছিল যে সে দু-দিনেই শিখে নেবে।

    → ক্ষিতীশ কোনিকে বলেছিলেন সুহাসকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে— কেমন করে সুহাসের হাতটা মাথার ঠিক সামনে জলে প্রবেশ করছে, তারপর নীচে নামছে এবং প্রসারিত করে উরু পর্যন্ত যাচ্ছে। খুব দ্রুত হাত চালানো প্রয়োজন, তবে তা এলোপাথাড়ি জলে আঘাত নয় | কবজি শক্ত রেখে মসৃণভাবে জলের মধ্যে হাত প্রবেশ করাতে হবে। হাতের দ্রুততা এবং শক্তি সম্ভব হয় কাঁধ, পিঠ এবং হাতের পেশির শক্তি থেকে| এই সমস্ত কিছুর শক্তি মিলিতভাবে কাজ করলে তবেই ‘প্রকৃত স্পিড’ আসবে। ক্ষিতীশ বলেন এর জন্য প্রত্যহ অনুশীলন জরুরি। শুধু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য মাথা ঘুরবে। বেশি মাথা নাড়ালে গতি কমে যাবে। সুহাসের কাঁধটা জল থেকে উঠে আছে কী ভঙ্গিতে সেটাও কোনিকে দেখান ক্ষিতীশ সিংহ। সুহাসের স্ট্রোক ছিল নিখুঁত তাই ক্ষিতীশ সিংহ ‘ওইরকম স্ট্রোক’ শব্দটি ব্যবহার করে কোনিকে বোঝাতে চেয়েছেন।

We are very glad that you want to share.
Thanks for sharing this.