কোনি মাধ্যমিক প্রশ্ন ও উত্তর সাজেশন (৫৬ - ৭৪ টি)

কোনি মাধ্যমিক প্রশ্ন ও উত্তর সাজেশন (৫৬ - ৭৪ টি), কোনি মাধ্যমিক প্রশ্ন সাজেশন, কোনি মাধ্যমিক বাংলা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সাজেশন.

কোনি মাধ্যমিক প্রশ্ন ও উত্তর সাজেশন (৫৬ - ৭৪ টি)(প্রশ্নমান-৫)

  1. “ওইটেই তো আমি রে, যন্ত্রণাটাই তো আমি।” -কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তি ? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
  2. ● মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে শেষ দিনের ৪×১০০ মিটারে রমা যোশির মতো প্রখ্যাত সাঁতারুকে হারিয়ে কোনি জেতে। বহু মানুষের অভিনন্দনের ভিড়ে সে ক্ষিতীশকে দেখতে পায়নি। শেষে ক্ষিতীশকে পেয়ে সে রেগে গিয়ে তার বুকে দুমদুম ঘুষি মারতে থাকে আর বলে যে, সে ব্যাপায় মরে যাচ্ছিল। এই কথার প্রসঙ্গে ক্ষিতীণ আলোচ্য উদ্ভিটি করেছেন।

    → দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রম আর অধ্যাবসায়ের ফল পেয়েছে কোনি। এই কোনির জন্যই ক্ষিতীশ সংসার তুলেছেন, নিজের ব্যক্তিসুখ বিসর্জন দিয়েছেন। প্রিয় ক্লাব জুপিটার তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু কোনি নামক একটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে ক্ষিতীশ বহু লাঞ্ছনা-অপমান সহ্য করেছেন। তবু তিনি কখনও ভেঙে পড়েননি, বুকের মধ্যে অনুভব করেছেন সতীর্থদের কাছ থেকে পাওয়া অপমানের তীব্র যন্ত্রণা। হয়তো এই যন্ত্রপাটা না থাকলে ক্ষিতীশ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে পারতেন না, তৈরি করতে পারতেন না কোনিকে। সত্যিই ক্ষিতীশ নিজেই একটা প্রতিজ্ঞার নাম। লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য তাঁর প্রচেষ্টা আর ধৈর্য ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ক্ষিতীশও যন্ত্রণার আগুনে পুড়ে হয়ে উঠেছেন ইস্পাতকঠিন। আলোচ্যমান উত্তিটি ক্ষিতীণের সংগ্রামী চেতনার উদ্ভাসিত রূপ।

  3. লীলাবতী চরিত্রটি তোমার কেমন লেগেছে লেখো।
  4. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসটি মূলত কোনি এবং তাঁর প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে। পার্শ্বচরিত্র হিসেবে অনেকেইে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে ক্ষিতীশ সিংহের স্ত্রী লীলাবতী অন্যতম।

    → পরিশ্রমী ও কর্মপটু : ছোটোখাটো চেহারার, গৌরবর্ণা এবং গম্ভীর স্বভাবের লীলাবতী যথেষ্ট পরিশ্রমী। তাঁর সাংসারিক জ্ঞান ও সমস্তকিছু দেখভাল করার জন্যই তাঁদের সংসার টিকে ছিল। লীলাবতীর কর্মতৎপরতাতেই তাঁদের সংসার চলত। সিন্‌হা টেলারিং’ যখন লোকসানের মুখে সেইসময় লীলাবতী নিজের গহনা বন্ধক রেখে, দোকানের নাম পালটে ‘প্রজাপতি’ রেখে অসম্ভব পরিশ্রম ও কর্মতৎপরতার মাধ্যমে চার বছরের মধ্যেই ‘প্রজাপতি’র শ্রীবৃদ্ধি ঘটান।

    → ব্যবসায়ী মানসিকতাসম্পন্ন :ব্যাবসায়িক মনের পরিচয় দিয়ে তিনি পুরুষদের পোশাক তৈরি বন্ধ করে দুজন মহিলা কর্মচারীকে দোকানে রেখে শুধু মেয়ে ও শিশুদের পোশাক তৈরি শুরু করেন। তার নেতৃত্বেই দোকান ব্যাবসাগত দিক দিয়ে বড়ো হয়ে ওঠে এবং বড়ো স্থানের প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রেও তিনি নিজেই হাতিবাগানের মতো এলাকায় পাঁচ হাজার টাকার সেলামিতে দোকান ভাড়ার ব্যবস্থা করেন।

    → যোগ্য সহধর্মিনী : গম্ভীর স্বভাবের হলেও লীলাবতী স্বামীর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীলা এবং পতিপ্রাণা ছিলেন। স্বামীর স্বভাব এবং সাঁতারপ্রীতির কথা জানতেন বলেই সমস্ত কিছু সাংসারিক ও ব্যবসায়িক দেখভাল নিজেই করতেন। স্বামীর আদর্শ বা ভাবনা মেনে নিয়েই তাঁরই ইচ্ছেমতো খাওয়ার পদ্ধতিও প্রায় মেনে নিয়েছিলেন। স্বামীর পরিশ্রমী সত্তার প্রতি শ্রদ্ধা বিশ্বাস ছিল বলেই তিনি কোনির সাঁতার দেখতে হাজির হয়েছিলেন।

    → স্বল্প পরিসরেও তাঁর কর্মপ্রাণা, সংসারী এবং পরোক্ষে স্বামী অনুরাগী চরিত্রটি উপন্যাসে ধরা পড়েছে।

  5. ‘কোনি’ উপন্যাসে কোনির দাদা কমলের চরিত্রটি কীভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে, লেখো।
  6. ● ‘কোনি’ উপন্যাসে দুটি প্রধান চরিত্র কোনি আর ক্ষিতীশকে বাদ দিলে অপ্রধান চরিত্রগুলির মধ্যে অন্যতম কমল। ধীর, স্থির, নিরীহ এই চরিত্রটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে হৃদয়গ্রাহী এবং মানবিক।

    → স্বপ্নসন্ধানী : কমল নিতান্তই দরিদ্র পরিবারের যুবক। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের একমাত্র কান্ডারি সে। মাত্র দেড়শো টাকা বেতনে গ্যারেজে কাজ করে। ছোটোবেলায় সেও স্বপ্ন দেখত বড়ো সাঁতারু হবে| অনুশীলনও করত নিয়মিত। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর তার সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যায়।

    → সংগ্রামী ও প্রত্যয়ী : কমল জেনেছে, জীবনটা একটা রণক্ষেত্র | যুদ্ধ করেই এখানে বাঁচতে হবে| নিজে সাঁতারু হতে পারেনি বলে তার মনে একটা তীব্র আক্ষেপ ছিল। কোনিকে উৎসাহ দিয়ে সে তার ইচ্ছাকে পূরণ করতে চেয়েছে। কখনও সে কোনিকে নিরাশ করেনি।

    → মানবিক ও সৎ : ভাই-বোনদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা কমলকে স্বতন্ত্র মহিমায় ভূষিত করেছে। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েও সে কখনও কাউকে বুঝতে দেয়নি। ভাই-বোনদের মুখে দু-বেলা দু-মুঠো অন্ন তুলে দিতে সে গ্যারেজে ওভারটাইম কাজ করেছে। সততা আর পরিশ্রমকে সম্বল করে সে বেঁচে থাকতে চেয়েছে, বাঁচাতে চেয়েছে অন্যদেরও | কোনির উত্থানের পিছনে কমলের সদিচ্ছা এবং প্রচেষ্টার গুরত্ব কম নয়। তার আকস্মিক মৃত্যু পাঠককে বেদনাভারাক্রান্ত করেছে।

    → শুধু ‘কোনি’ উপন্যাসে কেন, আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যেও কমলের মতো মানবিক চরিত্র বিরল |

  7. ‘কোনি’ উপন্যাসে লেখকের যে সমাজসচেতন দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায় তা নিজের ভাষায় লেখো।
  8. ● লেখক এবং ক্রীড়া সাংবাদিক মতি নন্দী তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে সমাজের অনেক সংগ্রাম অতিক্রম করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।

    → উপন্যাসটিতে সাঁতার ও সাঁতারকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর সমাজের ছবি অঙ্কিত হয়েছে। ক্লাবগুলির সংকীর্ণ দলাদলি, ব্যক্তিগত ষড়যন্ত্র তথা 'club politics' এর শিকার হন সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ | এরপরেই তাঁর প্রকৃত লড়াই শুরু হয়। শ্যামপুকুরের বস্তিতে থাকা হতদরিদ্র প্রায় অশিক্ষিত, কালো, রোগা কোনির মধ্যেই তিনি সমস্ত লড়াই ও সংগ্রামের অস্ত্র খুঁজে | পান। সমাজের সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত একটি পরিবারের মেয়েকে নিয়েই তাঁর সংগ্রাম শুরু হয়। এই লড়াই শুধু তার স্বপ্নপূরণের নয়, এই লড়াই-এর মধ্যে দিয়েই লেখক সমাজের রাজনৈতিক সংকীর্ণতা, ক্লাবের তুচ্ছ দলাদলি, অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সংগ্রামের ছবি এঁকেছেন। ডিম-কলা খাওয়ার পরিবর্তে ক্ষিতীশ সিংহের থেকে পয়সা নিয়ে যখন কোনি সেটা দিয়ে তার পরিবারকে সাহায্য করতে চায় এবং হিয়া মিত্রের শিক্ষিকার কাছে জল চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হয় তখন এই দুটি ছবিতে সমাজের উচ্চবিত্ত-নিম্নবিত্ত সমাজের চেহারাটা প্রকট হয়ে ওঠে। প্রতিভা থাকলেও অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য ও পারিবারিক পরিকাঠামো ঠিক না থাকার ফলে কোনির দাদা কমলের মতো কত প্রতিভার যে মৃত্যু ঘটে যায় তা লেখকের প্রখর সমাজমনস্কতাকেই তুলে ধরে। কোনির মুখ দিয়ে যখন লেখক বলেন ‘বড়োলোকরা গরিবদের ঘেন্না করে' তখন সমাজের অর্থনৈতিক বিভাজনটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মাদ্রাজ জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় সকলের চোখে ব্রাত্য এবং অবহেলিত কোনির ওপরেই যখন সমগ্র বাংলার সম্মান নির্ভর করে, তখন সমস্ত সমাজের বিরুদ্ধে কোনির প্রতিবাদ ধ্বনিত হয় “আমি গরিব, আমাদের দেখতে খারাপ, লেখাপড়া জানি না, কত কথা শুনলাম। কেউ আমার সঙ্গে কথা বলে না। জোচ্চুরি করে আমাকে বসিয়ে রেখে এখন ঠেকায় পড়ে এসেছ আমার কাছে”।

  9. লড়াকু এবং অনুপ্রেরণামূলক উপন্যাস হিসেবে ‘কোনি' তোমার মনকে কতটা স্পর্শ করেছে লেখো।
  10. ● “ফাইট, কোনি ফাইট” এই স্লোগান যে উপন্যাসের মূল মন্ত্র সেই কাহিনি শরীর ও মন জুড়ে গভীর উত্তেজনা, উন্মাদনা এবং অনুপ্রেরণার সঞ্চার করবে এটাই স্বাভাবিক| মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসটি “An inspirational relation of a coach and his trainee who fight all roadblocks to achieve their aims." একজন সাঁতার প্রশিক্ষক হিসেবে ক্ষিতীশ সিংহের লড়াকু মানসিকতা, পরিশ্রমী সত্তা, একাগ্রতা এবং নিষ্ঠা তাঁর স্বপ্নকে লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছে। বস্তির মেয়ে হতদরিদ্র, প্রায় অশিক্ষিত কোনিকে তিনি যেভাবে তৈরি করেছেন এবং পদে পদে সমস্ত প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করেছেন তা রোমহর্ষক এবং অনুপ্রেরণামূলক। একজন মনস্তাত্ত্বিকের মতো তিনি তার শিষ্যার কাছে ক্রমশ শ্রদ্ধেয় এবং অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন। নিজের সংসার, ব্যবসা সমস্তকিছু ভুলে শিষ্যার মতোই কঠোর জীবনযাপন ও কৃচ্ছসাধনে ব্রতী হয়েছেন। ক্লাবের সংকীর্ণ দলাদলিতে ট্রেনারের পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। প্রাণের প্রিয় ক্লাব জুপিটারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন কিন্তু তাঁর লড়াই থামেনি। কোনিও পদে পদে নিজের দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেছেন। ক্লাবের রাজনীতি, চূড়ান্ত অপমান, অবহেলার বিপক্ষে শুধুই অনুশীলনে নিমগ্ন থেকেছে। তার এই অধ্যবসায়, অমানুষিক পরিশ্রম তাকে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে | সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তার ভিতরে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সুপ্ত অবস্থায় জ্বলতে থাকে| তাই বাংলার সম্মান বাঁচানোর লড়াইয়ে শামিল হয়ে কোনি যে লড়াই আমাদের দেখায় তা আমাকে শিহরিত করেছে এবং মনে মনে আমিও অনুপ্রাণিত হয়ে বলেছি “ফাইট, কোনি ফাইট”|

  11. ‘কোনি’ উপন্যাসের কোনি চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
  12. ● মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসটি কোনি নামের মেয়েটির চরিত্রের উন্মোচন এবং ক্রমপরিণতির মধ্যে দিয়েই সার্থক হয়ে উঠেছে। নামকরণের চরিত্রটিই যে উপন্যাসের প্রধান চরিত্র তা বলাই বাহুল্য। শ্যামপুকুর বস্তিতে বসবাসকারী মা ও সাত ভাই-বোনের পরিবারের সন্তান কোনি | সে স্বভাবে ডানপিটে, চেহারায় পুরুষালি ভাব | তার চুল ঘাড় পর্যন্ত ছাঁটা | কালো হিলহিলে শরীরটি যেন কেউটের মতো।

    → লড়াকু : কাহিনির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনি চরিত্রের লড়াকু ও সংগ্রামী মানসিকতা প্রমাণিত ও প্রশংসনীয় | গঙ্গার বুকে ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে সমানভাবে, পাল্লা দিয়ে সাঁতার কেটেছে। \

    → খেলোয়াড়সুলভ : গঙ্গাবক্ষে আম সংগ্রহ, ২০ ঘণ্টা হাঁটা প্রতিযোগিতা, বাংলা চ্যাম্পিয়ন অমিয়াকে হারানো এবং সবশেষে মাদ্রাজ জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতা—সর্বত্র কোনির 'Sporting mentality’ প্রমাণিত। মাদ্রাজে যখন হিয়া তাকে বলে “কোনি তুমি আনস্পোর্টিং” তখন এর উত্তর সে জলেই দেয়।

    → দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : রবীন্দ্র সরোবরের প্রতিযোগিতায় কোনি যখন হিয়া মিত্রের কাছে হেরে যায় তখন তার প্রতিক্রিয়া দেখে ক্ষিতীশ সিংহ কোনির জেদ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনোভাবের প্রমাণ পেয়ে যান।

    → পরিশ্রমী ও কষ্টসহিমু : কোনি ছিল অসম্ভব পরিশ্রমী। পারিবারিক দারিদ্র্য, নিজের ক্ষুধাকে হারিয়েও সে নিজেকে পরিশ্রমে যুক্ত রাখে। লীলাবতীর সঙ্গে ‘প্রজাপতি’ দোকানের যাবতীয় ফরমাশ খাটে।

    → আত্মাভিমানী : কোনির সমস্ত অভিমান ছিল ক্ষিতীশ সিংহকে ঘিরে। মাদ্রাজ যাওয়ার সময় এবং সেখানে গিয়ে ক্ষিতীশ ছাড়া একাকী অসহায় কোনির অভিমান প্রবলভাবে জেগে ওঠে। বাংলাকে না ভালোবাসার অপবাদ যখন তাকে দেওয়া হয় তখন তার শত অপমন, বঞ্চনা অভিমানে পরিণত হয়। তাই হিয়া বা অমিয়াকে হারিয়ে সে তার জবাব দিতে চেয়েছিল।

    → প্রতিবাদী : কোনির প্রতিবাদী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই তাকে জীবন্ত এক রক্ত-মাংসের চরিত্রে পরিণত করেছে | অপমান, চক্রান্ত, অবহেলা সমস্ত কিছুর প্রতিবাদ সে করেছে তার সাঁতারের মাধ্যমে।

    → কোনির নিষ্ঠা, একাগ্রতা, লড়াকু পরিশ্রমী মানসিকতা চরিত্রটিকে আমার চোখে ‘বিজয়িনী নায়িকা’তে পরিণত করেছে।

  13. কোনির উত্থানে ক্ষিতীশের ভূমিকা আলোচনা করো।
  14. ● এ গল্পে ক্ষিতীশ জহুরি আর কোনি রত্ন। ক্ষিতীশের তিল তিল ভালোবাসা আর পরিশ্রমেই কোনি হয়ে উঠেছে তিলোত্তমা |

    → গঙ্গার ঘাটে বারুণী তিথিতে নিক্ষিপ্ত আম দখলের ঘটনা থেকেই ক্ষিতীশ কোনিকে আবিষ্কার করেছিলেন।

    → একদিন তারপর সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের হাঁটা প্রতিযোগিতার শেষে কোনিকে কাছে পেয়ে সাঁতার শেখানোর প্রস্তাব নিয়ে হাজির হলেন তিনি।

    → কোনিকে তিনি নামকরা সাঁতারু তৈরি করবেনই। কোনির বাড়ি গিয়ে ওদের পরিবারের খোঁজখবর নিলেন। দেখলেন ওরা খুব গরিব। তাই নিজেই কোনির সব দায়িত্ব নিলেন | জুপিটার ছেড়ে অ্যাপোলো ক্লাবে এলেন শুধু কোনির জন্যই। আর চলল নিরলস অনুশীলন। নিজের সংসার, পরিবারের কথা ভুলে কোনিকে নিয়েই চলল তাঁর প্রতিজ্ঞাপূরণের কাজ। সাঁতারের নিয়মকানুন শেখাতেন দক্ষ ট্রেনারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে। ক্ষিতীশ নিজেই কোনির জন্য উপযুক্ত খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করলেন। ধীরে ধীরে কোনিও সাঁতারকে ধ্যানজ্ঞান মনে করতে শিখল। তার মধ্যেও এল দুর্মর এক প্রতিজ্ঞা। একসময় যাবতীয় প্রতিকূলতা অতিক্রম করে কোনি মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে 4 × 100 মিটার রিলেতে প্রথম হয়ে তার নিজের এবং ক্ষিতীশের স্বপ্ন পূরণ করল। ক্ষিতীশ না থাকলে কোনির উত্থান কখনোই সম্ভবপর হত না।

  15. ক্ষিতীশ সিংহ চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
  16. ● মতি নন্দীর কোনি উপন্যাসটির কাহিনি যে মানুষটিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে তিনি হলেন সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ। নিঃসন্তান, পঞ্চাশ থেকে পঞ্চান্ন বছরের, পুরু লেন্সের চশমা পরিহিত সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ।

    → অভিজ্ঞ, বিচক্ষণ ও রসিক : ক্ষিতিশ গঙ্গার ঘাটে সাড়ে তিন মন দেহের অধিকারী বিষ্টুচরণ ধর সম্পর্কে যা যা বলেছেন তা তাঁর বিচক্ষণতার আর রসিকতারই প্রমাণ দেয়। গঙ্গার ঘাটে কোনিকে এক ঝলক দেখে বিচক্ষণ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ বুঝতে পেরেছিলেন কোনির মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

    → প্রতিবাদী, লড়াকু ও আপোষহীন : দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর জুপিটার ক্লাবের সঙ্গে থেকেও দলাদলি এবং স্বার্থান্ধ কিছু মানুষের চক্রান্তে তাঁকে ক্লাবের ট্রেনারের পদ ছাড়তে হয়। কিন্তু তাঁর লড়াই থেমে থাকে না। প্রতিবাদী সত্তা দিয়েই তিনি কোনিকে সাঁতার শেখাতে শুরু করেন এবং পারিবারিক, সামাজিক, আর্থিক সকল প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে কোনিকে চ্যাম্পিয়নে পরিণত করেন।

    → শরীরসচেতন ও সংযমী : তিনি নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। খাওয়াদাওয়া বিষয়ে সম্পূর্ণ সচেতন ও সংযমী।

    → খেলা অন্তপ্রাণ : সংসার এবং ব্যাবসা সম্পর্কে উদাসীন মানুষটির ধ্যান ও জ্ঞান হল খেলা। তার চোখে একজন খেলোয়াড় জীবনের ও প্রাণের প্রতীক যাঁরা পৃথিবীটাকে প্রেরণা দেন।

    → নিষ্ঠাবান ও পরিশ্রমী : তিনি নিজের নিষ্ঠা, পরিশ্রম দিয়ে কোনিকে চ্যাম্পিয়ন করেন। সকাল-বিকাল কোনির অনুশীলন, শরীরচর্চা যেভাবে দেখভাল করেছেন তাতে তাঁর একাগ্র নিষ্ঠা প্রতিফলিত।

    → বুদ্ধিমান : ক্ষিতীশ যেভাবে বিষ্টুচরণ ধরের কাছে প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, লীলাবতীর দেওয়া টাকা ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং অ্যাপোলো ক্লাবে কোনির পুরো সুযোগ-সুবিধার বন্দোবস্ত করেছেন, তাতে ক্ষিতীশের উপস্থিত বুদ্ধি এবং অসম্ভব বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়।

    → দরদি ও পরোপকারী : সাঁতারু তৈরিই ছিল ক্ষিতীশের জীবনর স্বপ্ন| তাই পরের উপকার করে নিজেরই দরদি মনের পরিচয় দিয়েছেন। কোনির পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা জেনেও তার সমস্ত দায়িত্ব তিনি নেন।

    → দৃঢ়চেতা ও আদর্শবান : ক্ষিতীশ সিংহের এই চারিত্রিক দৃঢ়তাই তাঁকে সমগ্র উপন্যাস জুড়ে উজ্জ্বল করে রেখেছে। “গুরুকে শ্রদ্ধেয় হতে হবে শিষ্যের কাছে” এবং “মনস্তাত্ত্বিকের মতো শিষ্যের সঙ্গে মিশে কথা, কাজ, উদাহরণ দিয়ে মনের মধ্যে আকাঙ্ক্ষা বাসনা জাগিয়ে তুলতে হবে” এটাই ছিল তাঁর মূল মন্ত্র। যেভাবে তিনি কোনির সঙ্গে নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন এবং পাগলের মতো কোনির ভিতরের শক্তিকে টেনে বের করেছেন তাতে বলা যায় তিনি হলেন যথার্থ ‘Friend Philosopher and Guide. শিষ্যা কোনিকে এক অকৃত্রিম ভালোবাসা, পিতৃস্নেহ ও সম্পর্কাতীত সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন ও যথাযথ পথ দেখিয়েছেন।

  17. প্রণবেন্দু বিশ্বাস চরিত্রটি তোমার কেমন লেগেছে লেখো।
  18. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি' উপন্যাসের পার্শ্বচরিত্র হওয়া সত্ত্বেও বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের ট্রেনার প্রণবেন্দু বিশ্বাস চরিত্রটি নিজ গুণে প্রোজ্জ্বল।

    → অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ : প্রণবেন্দু বিশ্বাস একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ সাঁতার প্রশিক্ষক। তাঁরই প্রশিক্ষণে হিয়া মিত্র বাংলার অন্যতম সাঁতারুতে পরিণত হয়। নিজের ছাত্রীর অনুশীলন সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ সচেতন ও বিচক্ষণ। আবার বিচক্ষণতা দিয়ে কোনির মতো প্রতিভাকে চিনতেও ভুল করেননি।

    → সৎ ও নিরপেক্ষ : তাঁর সৎ ও নিরপেক্ষ মানসিকতার জন্যই কোনি মাদ্রাজ জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় বাংলা দলে সুযোগ পায় | তিনিই প্রতিবাদী কণ্ঠে বলেন “বেঙ্গলের স্বার্থেই কনকচাপা পালকে টিমে রাখতে হবে।” ক্লাবের সংকীর্ণ দলাদলি ও হীন চক্রান্তের ঊর্ধ্বে তিনি একজন প্রকৃত প্রশিক্ষক হিসেবে তাঁর নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বুঝতে পেরেছিলেন কোনির মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রতিভা আছে।

    → যুক্তিবাদী ও প্রতিবাদী : বিএএসএ নির্বাচন সভায় জুপিটার ক্লাবের গোষ্ঠীর লোকজনরা ষড়যন্ত্র করে কোনিকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন। প্রণবেন্দুর প্রতিবাদ এবং যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাবে তা বাতিল হয়ে যায়। প্রণবেন্দু ছিলেন কোনির বিপক্ষ প্রতিযোগী হিয়ার ট্রেনার | তবুও যুক্তি দিয়ে তিনিই বলেছিলেন যে, “যে রকম রোখা জেদি সাঁতার ও দেখাল, তাতে স্প্রিন্ট ইভেন্টে ওর সমকক্ষ এখন বাংলায় কেউ নেই।”

    → সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী : এককভবে লড়াই করেই তিনি বাংলার চ্যাম্পিয়নশিপে কোনিকে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেন। আবার বাংলার চ্যাম্পিয়ন হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়লে প্রণবেন্দু দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন “ভাবাভাবির কিছু নেই, কনকচাঁপা পালকে নামান, অমিয়ার জায়গায়।”

    → যথার্থ খেলোয়াড়ি মনোভাবাপন্ন : বাংলার সম্মানের জন্যই যে কোনিকে প্রয়োজন তা দৃপ্তকণ্ঠে জানান প্রণবেন্দু। বাংলার প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা থেকেই তিনি বলেন “রমা যোশির সোনা কুড়োনো বন্ধ করা ছাড়া আমার আর কোনো স্বার্থ নেই।” এ থেকে তাঁর খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবেরই পরিচয় পাওয়া যায়।

    → প্রণবেন্দু বিশ্বাসকে তাই আমার একজন সৎ, নিরপেক্ষ বলেই মনে হয়েছে।

  19. “নেতৃত্ব দিতে হলে সামনে থাকতে হয়।” কে কাকে এ কথা বলেছে? এই কথা বলার পেছনে বক্তার কোন্ মানসিকতা কাজ করেছে?
  20. ● উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র ক্ষিতীশ সিংহ। 'নেতাজী বালক সঙ্ঘের’ প্রধান পৃষ্ঠপোষক জননেতা-বিত্তবান শ্রীবিষ্টুচরণ ধর মহাশয়ের প্রতি এই উক্তি করা হয়েছে।

    → ‘নেতাজী বালক সঙ্ঘ' আয়োজিত কুড়ি ঘণ্টা ব্যাপী হাঁটা প্রতিযোগিতার শেষে সভাপতির ভাষণ দিতে উঠে বিন্নুচরণ বলেন যে, সমস্ত জনসেবামূলক কাজে তিনি সঙ্ঘের তরুণ কর্মীদের পাশে আছেন | তখন মঞ্চের পেছন থেকে ক্ষিতীশ সিংহ এই উক্তিটি করেছেন। পাশে যে থাকে সে হল সহযোগী, সহকারী—কিন্তু নেতা সবার আগে সব কাজে এগিয়ে আসবেন | বিন্নুচরণ জননেতা হতে চান, ভোটে দাঁড়াতে চান— সেইজন্য তাঁর কর্তব্য স্মরণ করাতেই ক্ষিতীশ এই উক্তি করেছেন। তবে এই উক্তির আড়ালে এক তির্যক রসিকতাও আছে। সাড়ে তিন মন ওজনের বিষ্টুচরণ যখন ২০ ঘণ্টা ‘হাঁটা’ প্রতিযোগিতায় পাশে থাকার কথা বলেন, তখন তা খুব একটা যুক্তিযুক্ত শোনায় না। তাঁর বিশাল চেহারা যে তাঁর পক্ষে ক্ষতিকর তা ক্ষিতীশ সিংহ আগেই তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। ২০ ঘণ্টা একটানা হাঁটার জন্য যে শারীরিক সক্ষমতার প্রয়োজন সেকথা বোঝাতেই ক্ষিতীশ মন্তব্যটি করেছেন।

  21. কান্তি যে বলেছিল, লোকেরা এসে পিন দিয়ে টাকা আটকে দেয় জামায়, কই দিল না তো!” কে কখন এ কথা বলেছে? বক্তার হতাশ হওয়ার কারণ কী?
  22. ● মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনি একথা বলেছে | নেতাজি বালক সঙ্ঘের উদ্যোগে আয়োজিত কুড়ি ঘণ্টা অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতা থেকে বেশিরভাগ প্রতিযোগী নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বিদায় নিলেও কোনি পুরো সময়টা হেঁটে প্রতিযোগিতা সম্পূর্ণ করে। সে তার বন্ধু কান্তির কাছে শুনেছিল এই ধরনের প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করবার জন্য লোকেরা তাদের জামায় পিন দিয়ে টাকা আটকে দিয়ে যায়। কিন্তু এখানে সেরকম কেউ না দেওয়ায় হতাশ কোনি তার বন্ধু ভাদু ও চন্ডুকে এই কথা বলেছে।

    → গরিব ঘরের মেয়ে কোনি কুড়ি ঘণ্টা হাঁটার মতো এরকম কষ্টকর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল মূলত পুরস্কার ও অর্থলাভের আশায় | বন্ধু কান্তির কাছে সে শুনেছিল এই ধরনের প্রতিযোগিতায় দর্শকরা খুশি হয়ে প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিতে তাদের জামায় টাকার নোট আটকে দেয়। অভাবের সংসারে কোনি যতটুকু পারে সাহায্য করতে চায় | আর তাই বৈশাখ মাসের কড়া রোদ্দুরেও সে দমে যায়নি, প্রতিযোগিতা সম্পূর্ণ করেছে। নিজের সমস্ত শক্তি নিঃশেষ করে দিয়েও সে টিকে থেকেছে শেষপর্যন্ত | কিন্তু এতো কষ্টের পরেও তার আশা পূরণ না হওয়ায় সে একথা বলেছে।

  23. কতকগুলো স্বার্থপর লোভী মূর্খ আমায় দল পাকিয়ে তাড়িয়েছে বলে শত্রুর ঘরে গিয়ে উঠব?” কে, কখন একথা বলেছে? উদ্ধৃত উক্তিটি থেকে বক্তার কোন্ মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়?
  24. ● উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন ‘জুপিটার সুইমিং ক্লাবে’র সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ| ক্লাব এবং সাঁতারই যাঁর ধ্যান জ্ঞান। ক্লাবের অন্য সদস্য হরিচরণ মিত্র দীর্ঘদিন ধরে সাঁতারের প্রধান প্রশিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও হতে পারেনি। ক্ষিতীশ সিংহ ক্লাবের পুরস্কার বিজয়ী সাঁতারুদেরও অনুশীলনে কোনরকম ফাঁকি বরদাস্ত করতেন না। সে কারণে এইসব সিনিয়র সাঁতারুরা ক্ষিতীশ সিংহের উপর ক্ষুব্ধ ছিল। তাদের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েই ক্লাবের সদস্যরা ক্ষিতিশকে সরাতে পেরেছিল। ক্ষিতীশ সিংহ নিজের কাজের প্রতি সৎ ও নিষ্ঠাবান ছিলেন, কিন্তু কারও কোনরকম ত্রুটিবিচ্যুতি দেখলেই তাকে সরাসরি সে কথা জানিয়েও দিতেন। তাই ক্লাবের অন্য সদস্যরাও তার প্রতি বিরূপ ছিল। ক্ষিতীশ সিংহের জায়গায় হরিচরণ মিত্রকে প্রধান প্রশিক্ষক নিয়োগ করার পর ক্ষিতিশ ক্লাব থেকে বেরিয়ে এলে তাকে ভেলো জুপিটারের প্রতিযোগী ক্লাব অ্যাপোলোতে যোগদান করতে বলেছিল | তখনই ক্ষিতীশ সিংহ এ কথা বলেছিলেন।

    → উদ্ধৃত উক্তিটি থেকে বক্তার সৎ ও দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় ফুটে ওঠে। ক্লাবের প্রতি মনোযোগের জন্য ক্ষিতিশ নিজের ব্যবসা এমনকি সংসারকেও অবহেলা করেছেন। কিছু লোক দল করে তাঁকে তাড়ালেও ক্লাবের সঙ্গে তাঁর আত্মিক বন্ধন ছিন্ন হয়নি। অ্যাপোলোতে যাওয়ার প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

  25. “বাঙালিরা যা ভালবাসে মিটিংয়ে তাই তো বলব।” বাঙালিরা কী কী ভালোবাসে বলে বক্তা মনে করে? কোন্ প্রসঙ্গে বক্তা এই কথা বলেছে?
  26. ● ‘কোনি' উপন্যাসের চরিত্র বিষ্টু ধর একথা বলেছে | বক্তার মতে ক্রীড়াক্ষেত্রে বাঙালি বেশি ভালোবাসে ফুটবল ও ক্রিকেট। ● বিষ্টু ধর নেতা হতে চায়, আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে চায়। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিনোদ ভড় ক্রীড়া জগতের সঙ্গে যুক্ত | তাই বিষ্টু ধরও বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রীড়াক্ষেত্রে নিজের একটা অবস্থান করে নিতে চায় | বিভিন্ন প্রচারসভায় ক্রীড়াজগৎকেই মূল উপজীব্য করে নিতে চায় | এই বিষয়ে তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সীমিত হওয়ায় সে ক্ষিতীশ সিংহ-এর শরণাপন্ন হয়। ক্ষিতীশ সিংহেরও টাকার প্রয়োজন, তিনি কোনিকে নামকরা সাঁতারু হিসাবে গড়ে তুলতে চান। ক্ষিতিশের উপার্জন কম হওয়ায় কোনির প্রয়োজনীয় পুষ্টি বা তার প্রশিক্ষণের উপকরণ যোগাড় করা কষ্টসাধ্য। তাই তিনি বিষ্টু ধরের স্পিড রাইটার হতে রাজি হয়ে যান। কিন্তু সাঁতার-পাগল | মানুষটি জীবনের নানান চড়াই-উতরাই, দেশের মর্যাদা, দেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়ার কথা বোঝাতে বারবার সাঁতারের প্রসঙ্গই টেনে আনেন। অপরদিকে বিষ্টু ধর মনে করে সাঁতারের থেকেও ফুটবল অথবা ক্রিকেট নিয়ে বাঙালি অনেক বেশি আবেগপ্রবণ— তাই তার মতে বক্তৃতায় ফুটবল, ক্রিকেটের কথাও থাকা উচিত। ক্ষিতীশ সিংহকে সেটা বোঝাতেই সে একথা বলেছে ।

  27. “তোমার এই গঙ্গা থেকে কুড়োনো মেয়েটা কেমন টাইম করেছে?”—বক্তা কে? সে কীসের টাইম জানতে চেয়েছে? একথা বলার কারণ কী?
  28. ● উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা ‘জুপিটার সুইমিং ক্লাবে'র সদস্য ধীরেন ঘোষ।

    → ধীরেন ঘোষ এখানে কোনির টাইম, অর্থাৎ নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে তার কত সময় লাগছে সেই টাইম জানতে চাইছে।

    → ধীরেন ঘেষের এই কথার মধ্যে একরকম শ্লেষের ছোঁয়া আছে। ক্ষিতীশ সিংহকে তারা ইচ্ছা করে ক্লাব থেকে থেকে তাড়িয়েছে। সাঁতার-অন্তপ্রাণ ক্ষিতীশ সিংহের হাত প্রশিক্ষকের দায়িত্ব কেড়ে নিতে পেরে তারা আনন্দিতও হয়েছে। অপরপক্ষে কোনি বস্তির ঘর থেকে উঠে আসা একটা মেয়ে, যার না আছে কোনো পরিমার্জন, না আছে কোনো সম্মানজনক অবস্থান। তাদের ক্লাবে যারা সাঁতার শিখতে আসে তাদের সকলেরই মোটামুটি একটা সামাজিক পরিচিতি আছে | কোনিকে প্রতিযোগিতা করতে হলে এদের সঙ্গেই করতে হবে। তাই ধীরেন ঘোষ আসলে সরেজমিনে দেখতে এসেছিল কোনি কতটা তৈরি হয়েছে অথবা আদও তৈরি হয়েছে কি না। কোনির আড়ালে আসলে ক্ষিতীশ সিংহের সঙ্গে তাদের প্রতিযোগিতা। কোনি প্রতিযোগিতায় জিতে গেলে সেটা হবে ক্ষিতীশ সিংহের জয় আর তাদের পরাজয় | তাই ‘গঙ্গা থেকে কুড়োনো মেয়েটা বলার মধ্যে দিয়ে কোনির নবিশ অবস্থা ও পারিবারিক পটভূমির প্রতিই শ্লেষ প্রকাশ করা হয়েছে।

  29. “বিষ্টু ধর রাগে কথা বলতে পারছে না, শুধু চোখ দিয়ে কামান দাগতে লাগল।”—বিষ্টু ধরের এই রেগে যাওয়ার কারণ আলোচনা করো।
  30. ● বারুণী উপলক্ষ্যে গঙ্গার ঘাটে যখন কাঁচা আম জলে ভাসছিল এবং সেই আম জল থেকে সংগ্রহ করার জন্য হুড়োহুড়ি চলছিল, সেই সময় বিষ্টুচরণ ধরও গঙ্গার ঘাটে উপস্থিত হয়েছিল নিজেকে দলাইমলাই করানোর জন্য। সাড়ে তিনমন ওজনের বিষ্টু ধরের এই শরীর মালিশের ভঙ্গিটা ছিল যথেষ্ট কৌতুকের। মালিশওয়ালা নিজস্ব ভঙ্গিতে দলাইমলাই চালালেও বিষ্টু ধর তাতে খুশি হয়নি। সে নিজে চিত হবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে মালিশওয়ালার সাহায্যে তা সম্ভব হয়। এরপর কখনও “তানপুরো ছাড়’, ‘তবলা বাজা”, কখনও-বা “সারেগামা কর” ইত্যাদি নানা সাংকেতিক ভাষায় বিষ্টু ধর নানা প্রকার মালিশের জন্য নির্দেশ দিতে থাকে। মালিশওয়ালাও নির্দেশ অনুসারে কখনও তার শরীরের চর্বিগুলো খামচে ধরে ছেড়ে দিতে থাকে, কখনও দশ আঙুল দিয়ে গলা থেকে কোমর পর্যন্ত চাঁটি মারতে শুরু করে, আবার কখনও শরীরের ওপর আঙুল বুলিয়ে দিতে থাকে। এই সবকিছুতে বিষ্টু ধর প্রবল আরাম অনুভব করলেও তার বিরক্তি বাড়ায় পনেরো হাত দূরে অবস্থান করা সাদা লুঙ্গি আর গেরুয়া পাঞ্জাবি পরা একটি লোক, যে তার দিকে তাকিয়ে, হয়তো তার আয়তন দেখে এবং পরবর্তীতে দলাইমলাইয়ের বহর দেখে হাসতে থাকে। সে জিজ্ঞাসা করে—‘ম্যাসেজ হচ্ছে না সংগীতচর্চা হচ্ছে?' এরপর উপযাচক হয়ে ব্লাডপ্রেশার, ব্লাডসুগার ইত্যাদি পরীক্ষার কথা বলে। তারপর আরও স্পষ্ট করে বলে “আপনার হার্টটা বোধ হয় বেশিদিন আর এই গন্ধমাদন টানতে পারবে না।” তারপরে আরও একটি তির্যক ভাষায় বলে যে, সে ভুলও বলতে পারে। কারণ হাতি কিংবা হিপোর কখনও করোনারি অ্যাটাক হয়েছে বলে জানা যায়নি। এইসব কথা শুনে বিষ্টু ধর অত্যন্ত কুদ্ধ হয়। কিন্তু সেই রাগকে সে ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না।

  31. “বিষ্টু হতভম্ব হয়ে লোকটির জগ করা দেখতে লাগল।”— এই হতভম্ব হয়ে যাওয়ার কারণ কী ছিল লেখো।
  32. ● সাড়ে তিনমন ওজনের বিষ্টুচরণ ধর যখন গঙ্গার ধারে বিচিত্র ভঙ্গিতে তার শরীর দলাইমলাই করাচ্ছিল, তখন সেখানে এক অতি উৎসাহী চরিত্রের আগমন ঘটে, যে তার শরীর এবং মালিশের বিচিত্র ভঙ্গি নিয়ে কৌতুক করে। যখন সে বিষ্টু ধরের চেহারার কারণে তার হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনার কথা বলে, তখন বিষ্টু ধর ক্রুদ্ধ হয়, সেই ক্রোধকে আরও বাড়িয়ে দিয়ে লোকটি বলে যে, হাতি কিংবা হিপোর কখনও করোনারি অ্যাটাক হয়েছে বলে সে শোনেনি | সুতরাং তার ভুলও হতে পারে। বিষ্টু ধর প্রায় বাক্রহিত হয়ে কোনো রকমে বলেন যে, তিনি লোকটিকে কী বলবেন ভেবে পাচ্ছেন না। তখন লোকটি অনায়াসে বলে “আমার বউ ঠিক এই কথাই বলে।” বিষ্টু ধর তাকে যখন “ন্যুইসেন্স” বলেন, তখনও অদ্ভুত সহজভাবে লোকটি বলে “আমার ক্লাবের অনেকে তাই-ই বলে।' নিজের কৌতুক সম্পর্কে সে যতটা সহজ, তার ওপরে আঘাত নেমে এলেও সে একইরকম সহজ। এই অদ্ভুত কৌতুকবোধ থেকেই সে বিষ্টু ধরকে জিজ্ঞাসা করে যে, যদি সে তার মাথায় চাঁটি মারে তাহলে বিষ্টু ধর তাকে দৌড়ে ধরতে পারবে কি না। এ কথা বলেই আবার সে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে জগিং করতে শুরু করে। গোটা ঘটনায় বিষ্টু ধর হতভম্ভ হয়ে যায়। তার কারণ, একটি লোক যে এত দুঃসাহস দেখাতে পারে, তা তার ধারণার অতীত। প্রথমত, বিষ্টু ধরের কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিপত্তি আছে | দ্বিতীয়ত, বিষ্টু ধর হয়তো ভাবছিল যে সত্যিই যদি লোকটি তাকে চাঁটি মারে, তাহলে সে কী করবে। এই সব মিলেই তিনি হতভম্ব হয়ে যান।

  33. “ওর চোখে এখন রাগের বদলে কৌতূহল।”—কার কথা বলা হয়েছে? তার রাগ এবং কৌতূহলের কারণ লেখো।
  34. ● মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসের প্রশ্নোদ্ভূত অংশে বিষ্টু ধরের কথা বলা হয়েছে।

    → গঞ্জ তীরে শরীর দলাইমলাই করতে গিয়ে বিষ্টু ধর অপরিচিত একটি লোকের পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে ওঠন এবং সাড়ে তিনমন ওজনের বিষ্টু ধরের ‘ম্যাসেজ’ প্রক্রিয়া দেখার পর সেই লোকটির তীব্র ব্যঙ্গ নিক্ষিপ্ত হয় বিষ্টু ধরের প্রতি। শুধু তা-ই নয়, “আপনার হার্টটা বোধ হয় আর বেশি দিন এই গন্ধমাদন টানতে পারবে না”— এ কথা বলে বিষ্টু ধরের মৃত্যুসম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়। তারপরে ব্যঙ্গকে আরও তীক্ষ্ণ করে লোকটি বলে যে, সে ভুলও বলতে পারে। কারণ, “হাতি কিংবা হিপোর কখনও করোনারি অ্যাটাক হয়েছে বলে শুনিনি।” এইসব কারণেই বিষ্টু ধর প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে। কিন্তু তারপরেই লোকটির জগিং করা, কিংবা লোকটির মুখে আইসোমেট্রিক, ক্যালিসথেনিক, বারবেল ইত্যাদি নানারকম এক্সারসাইজের কথা শুনে বিষ্টু ধর লোকটির প্রতি আকৃষ্ট হয়। যেভাবে লোকটি জগিং করতে করতে গঙ্গার ঘাটের সিঁড়ি দিয়ে শেষ ধাপ পর্যন্ত নামা ওঠা করতে থাকে তা বিষ্টু ধরকে প্রায় দিশাহারা করে তোলে। ফলে তার মধ্যে রাগের বদলে কৌতূহল তৈরি হয় এবং মনে মনে ওই ছিপছিপে শরীরটার সঙ্গে সে নিজের মোটাসোটা শরীরকে বদলাবদলি করতে থাকে।

  35. “গলার স্বরে বোঝা গেল এর জন্য সে গর্বিত।”—কে কীসের জন্য গর্ব অনুভব করেছে? তার এই গর্বের বিষয়টি ব্যাখ্যা করো।
  36. ● মতি নদীর লেখা ‘কোনি' উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়ে বিষ্টু ধর তার ডায়েটিং বিষয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন।

    → বিষ্টু ধর ডায়েটিং করত আর সেই কারণে সে যথেষ্ট গর্বিত ছিল। বিষ্টু ধর নিজের ডায়েটিং-এর কথা বিস্তৃতভাবে জানিয়েছে| তার বক্তব্য অনুযায়ী, সে আগে রোজ আধকিলো ক্ষীর খেত। এখন সেটা তিনশো গ্রাম হয়েছে। জলখাবারে কুড়িটা লুচি খেত যেটা এখন পনেরোটা হয়েছে। একদম নিয়ম করে মেপে সে আড়াইশো গ্রাম চালের ভাত খায়। আর রাত্রে বারোটা রুটি খায়| ঘি খাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছে, শুধু গরম ভাতের সঙ্গে চার চামচ ঘি খান। বিকেলে তার খাবার তালিকায় রয়েছে দু-গ্লাস মিছরির শরবত আর চারটে কড়াপাকের সন্দেশ। প্রসঙ্গত বিষ্টু ধর জানিয়ে দেয় যে, বাড়িতে রাধাগোবিন্দের বিগ্রহ থাকায় মাছমাংস সে ছুঁয়েও দেখে না | এই সঙ্গে সে গর্বিতভাবে বলে যে, সংযম ও কৃচ্ছ্রসাধনে সে যথেষ্টই সক্ষম। তাদের বংশে কারোর হার্টের অসুখ হয়নি| যদিও সত্তরটি ফুলুরি খেয়ে তার বাবা কলেরায় মারা গিয়েছেন। আর জ্যাঠার মৃত্যু ঘটেছে অম্বলে।

  37. “সে জন্য শুধু শরীর গড়লেই হয় না, মনকেও গড়তে হয়।”—কে কখন মন্তব্যটি করেছে? মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।
  38. ● গঙ্গার ঘাটে বিষ্টু ধরের সঙ্গে পরিচয় হওয়া ভদ্রলোকটি ক্রমশই তার শারীরিক সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে বিষ্টু ধরকে আকৃষ্ট করে তোলে এবং যে বিষ্টু ধর একদা তার হার্টের অসুখের সম্ভাবনার কথা শুনে ক্রুদ্ধ হয়েছিল সে-ই এখন লোকটির কাছে নিজেকে প্রায় সমর্পণ করে জানতে চায়—“আমি কি মরে যেতে পারি?” লোকটি তখন বিষ্টু ধরকে সুঠাম শরীরের উপযোগিতা বোঝাতে চায় এবং প্রচুর অর্থ থাকলেও যে শরীরকে আয়ও করা যায় না, তা-ও বুঝিয়ে দেয় | হাতেকলমে তা প্রমাণের জন্য সে বিষ্টু ধরকে পাঞ্জা লড়াইয়ের আহবান করে এবং বিষ্টু ধর সেই শুকনো শিকড়ের মতো দেখতে হাতটাকে হারিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়। তখনই লোকটি বিষ্টু ধরকে এই কথাটি বলেন।

    → সাড়ে তিনমন ওজনের বিষ্টু ধরের তুলনায় তার প্রতিপক্ষ লোকটি ছিল অত্যন্ত ক্ষীণকায়| কিন্তু তবুও বিষ্টু ধরকে পরাজিত করার পরে সে বুঝিয়ে দেয় যে, গায়ের জোরই সবকিছুই নয়, মনের জোরই আসল শক্তি | ইচ্ছাশক্তি দিয়ে শরীরের দুর্বলতা ঠেকিয়ে রাখা যায়। মানুষের শরীর যতটা সক্ষম, ইচ্ছাশক্তি তাকে আরও বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন করে তোলে। অর্থাৎ, মানুষের মন যে শরীরের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সে কথাই লোকটি বলতে চেয়েছেন।

We are very glad that you want to share.
Thanks for sharing this.