জ্ঞানচক্ষু (আশাপূর্ণা দেবী) পাঠ্যাংশের সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর [PDF]

জ্ঞানচক্ষু (আশাপূর্ণা দেবী) পাঠ্যাংশের সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর [PDF], জ্ঞানচক্ষু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর, জ্ঞানচক্ষু গুরুত্বপূর্ণ সাজেশন.

জ্ঞানচক্ষু পাঠ্যাংশের সমস্ত অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (প্রশ্নমান - ২)

“এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের”— কোন্ বিষয়ে তপনের সন্দেহ ছিল ?

একজন লেখকও যে সাধারণ মানুষের মতো হতে পারে, তাদের আচরণও যে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই হয়ে থাকে সেই বিষয়ে তপনের সন্দেহ ছিল।

“অনেক বই ছাপা হয়েছে”— কার অনেক বই ছাপা হয়েছে ?

তপনের ছোটোমেসো, যিনি আসলে লেখক, তাঁরই অনেক বই ছাপা হয়েছে।

“তবে তপনেরই বা লেখক হতে বাধা কী ?”— তপনের লেখক হতে বাধা ছিল কেন ? অথবা, তপনের লেখক হতে বাধা নেই কেন ?

তপন মনে করত লেখকরা তার মতো সাধারণ মানুষ নয়, হয়তো তাঁরা অন্য গ্রহের জীব—তাই তার লেখক হতে বাধা ছিল।

অথবা, নতুন মেসোকে দেখে তপন বুঝতে পারল তিনি তাদের মতোই মানুষ, আকাশ থেকে পড়া কোনো জীব নয়| তাই তপনেরও লেখক হতে কোনো বাধা নেই।

তপনের লেখা গল্প দেখে তার ছোটোমেসো কী বলেছিলেন ?

তপনের লেখা গল্প দেখে তার ছোটোমেসো বলেছিলেন গল্পটা ভালোই হয়েছে। শুধু একটু সংশোধন করে দেওয়া দরকার। তাহলেই তার লেখা ছাপতে দেওয়া যাবে।

কী কারণে মেসোমশাই তপনের লেখা ভালো বলেছিলেন ?

ছোটোমেসোমশাইয়ের নতুন বিয়ে হয়েছে, তাই শ্বশুরবাড়ির একটি বাচ্চা ছেলেকে খুশি করতেই মূলত তপনের মেসোমশাই লেখা ভালো হয়েছে বলেছিলেন।

“মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে সেটা”— - কোন্ কাজকে মেসোর উপযুক্ত কাজ বলে ছোটোমাসি মনে করেন ?

তপন একটা গল্প লিখেছিল | তার লেখক মেসোমশাই সেই গল্প “সন্ধ্যাতারা”— পত্রিকায় ছাপার ব্যবস্থা করে দিলে সেটাই মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে বলে ছোটোমাসি মনে করেন।

লেখার প্রকৃত মূল্য কে বুঝবে বলে তপন মনে করেছিল ?

তপনের ছোটোমেসো লেখালেখি করতেন | তাঁর অনেকগুলো বই ছিল। তিনি যেহেতু অনেক বই লিখেছেন, তাই লেখক মানুষ হিসেবে তিনিই লেখার প্রকৃত মূল্য বুঝবেন বলে তপন মনে করেছিল।

“লেখার প্রকৃত মূল্য বুঝলে নতুন মেসোই বুঝবে।”— লেখার প্রকৃত মূল্য কেবল নতুন মেসোই বুঝবে কেন ?

নতুন মেসো একজন নামকরা লেখক। তাই তিনিই তপনের লেখার প্রকৃত মূল্য বুঝবেন।

“সন্ধ্যাতারা”— পত্রিকায় লেখা ছাপা প্রসঙ্গে তপনের মেসোমশাই কী বলেছিলেন?

“সন্ধ্যাতারা”— পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তপনের মেসোমশাইয়ের পরিচিত। তপনের লেখা দেখে মেসোমশাই বলেছিলেন, তিনি যদি “সন্ধ্যাতারা”— পত্রিকার সম্পাদককে লেখা ছাপানোর কথা বলেন তাহলে সম্পাদকমশাই না বলতে পারবেন না।

গল্প লেখার পর তপনের কী মনে হয়েছিল ?

একটা গোটা গল্প সে লিখে ফেলেছে এটা ভেবেই তপনের সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল, মাথার চুল পর্যন্তখাড়া হয়ে উঠল । সে ভাবল এখন তাকেও লেখক বলা যায় ।

তপন গল্প লিখে প্রথম কাকে পড়ে শুনিয়েছিল ?

তপন গল্প লিখে প্রথম শুনিয়েছিল তার থেকে আট বছরের বড়ো ছোটোমাসিকে। কারণ ছোটোমাসি ছিল তার বন্ধুর মতোই।

তপনের লেখা গল্প পড়ে ছোটোমাসি কী বলেছিল ?

তপনের লেখা গল্প পড়ে ছোটোমাসি তাকে বাহবা জানিয়ে বলেছিল মেসোমশাইকে দেখিয়ে তপনের গল্প পত্রিকায় ছাপানোর ব্যবস্থা করে দেবে।

“তপন আহ্লাদে কাঁদো কাঁদো হয়ে যায়।”— তপনের এই অবস্থার কারণ কী ?

নতুন মেসো তপনের লেখাটা কারেকশান করে ছাপিয়ে দিতে চাইলে তপন আহ্লাদে কাঁদো কাঁদো হয়ে যায়।

“আর সেই সুযোগেই দেখতে পাচ্ছে তপন”— তপন কী দেখতে পাচ্ছিল ?

তপন দেখতে পাচ্ছিল যে, লেখক মানে আকাশ থেকে পড়া কোনো জীব নয়, তিনি তপনদেরই মতো মানুষ |

“ছোটোমাসি সেই দিকে ধাবিত হয়।”— ছোটোমাসি কোন্ দিকে ধাবিত হয় ?

মেসোমশাই যেখানে দিবানিদ্রা দিচ্ছিলেন সেদিকে ছোটোমাসি ধাবিত হয়।

“তপন অবশ্য মাসির এই হইচইতে মনে মনে পুলকিত হয়।”— তপনের এই পুলকের কারণ কী ?

তপনের মাসি তপনের লেখা নিয়ে মেসোমশাইয়ের কাছে গিয়ে হইচই করলে সে পুলকিত হয় কারণ তার লেখার মূল্য একমাত্র মেসোমশাইয়ের পক্ষেই বোঝা সম্ভব।

“এইসব মালমশলা নিয়ে বসে।”— কীসের কথা বলা হয়েছে ?

অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা গল্প লিখতে গিয়ে যে রাজারানির গল্প, খুন-জখম অ্যাকসিডেন্ট, না খেতে পেয়ে মরে যাওয়া ইত্যাদিকে বিষয় করে সেসবের কথা বলা হয়েছে।

“এটা খুব ভালো।”— বক্তার একথা বলার কারণ কী ছিল ?

তপন যে শুধু তার অভিজ্ঞতা আর অনুভূতির বিষয় নিয়ে গল্প লিখেছে তার প্রশংসা করেই তপনের মেসোমশাই মন্তব্যটি করেন।

“আর তোমরা বিশ্বাস করবে কিনা জানি না...”— কোন্ ঘটনার কথা বলা হয়েছে ?

একজায়গায় বসে তপনের একটা গল্প লিখে ফেলা প্রসঙ্গে মন্তব্যটি করা হয়েছে।

“যেন নেশায় পেয়েছে।”— কীসের কথা বলা হয়েছে ?

তপনের গল্প লেখার নিরলস চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। হোম টাস্ক ফেলে রেখে, লুকিয়ে লুকিয়েও সে গল্প লিখে গেছে।

এমন সময় ঘটল সেই ঘটনা | কোন্ ঘটনার কথা বলা হয়েছে ?

ছোটোমাসি আর মেসোমশাইয়ের ‘সন্ধ্যাতারা' পত্রিকা নিয়ে তপনদের বাড়িতে আসার কথা বলা হয়েছে।

“বুকের রক্ত ছলকে ওঠে তপনের।”— কেন তপনের বুকের রক্ত ছলকে ওঠে ?

তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসা ছোটোমাসি আর মেসোমশায়ের কাছে “সন্ধ্যাতারা”— পত্রিকাটি দেখে তপনের বুকের রক্ত ছলকে ওঠে, কারণ তাতেই তার গল্প প্রকাশের কথা ছিল।

“পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে?”— কোন্ ঘটনাকে অলৌকিক বলা হয়েছে ?

ছাপার অক্ষরে প্রকাশ পেয়ে তপনের গল্প হাজার হাজার ছেলের হাতে ঘুরছে, এই ঘটনাকেই অলৌকিক বলা হয়েছে ।

“তা ঘটেছে, সত্যিই ঘটেছে।”— কী ঘটেছে ?

তপনের নিজের লেখা গল্প সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। এটিই হল ঘটনা।

“সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়”— এই শোরগোলের কারণ কী ছিল ?

সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল কারণ “সন্ধ্যাতারা”— পত্রিকায় তপনের গল্প ছাপা হয়েছিল।

“ক্রমশ ও কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে।”— কোন্ কথাটা ?

তপনের গল্প কাঁচা লেখা হওয়ায় তাতে একটু-আধটু কারেকশন করতে হয়েছে তপনের মেসোমশাইয়ের এই কথাটা ছড়িয়ে পড়ে।

“আমাদের থাকলে আমরাও চেষ্টা করে দেখতাম।”— কোন্ চেষ্টার কথা বলা হয়েছে ?

তপনের মেজোকাকু বলেছিলেন যে তপনের মেসোমশাইয়ের মতো কেউ থাকলে তাঁরাও গল্প লেখার চেষ্টা করতেন।

“তপন আর পড়তে পারে না।”— কেন তপন আর পড়তে পারে না ?

নিজের প্রকাশিত গল্প পড়তে গিয়ে তপন যখন দেখে মেসোমশাই তার পুরোটাই কারেকশন করে দিয়েছেন, তখনই সে আর পড়তে পারে না।

“শুধু এই দুঃখের মুহূর্তে গভীরভাবে সংকল্প করে তপন”— তপনের সংকল্প কী ছিল ?

তপন সংকল্প করেছিল যে, যদি কখনও লেখা ছাপাতে হয়, তাহলে তপন নিজে গিয়ে তা পত্রিকায় দেবে।

“যদি কখনো লেখা ছাপতে দেয় তো, তপন নিজে গিয়ে দেবে।”— তপনের এমন সিদ্ধান্তের কারণ কী ?

পত্রিকায় প্রকাশিত গল্পে তপন নিজের মূল লেখাটির কোনো মিল পায়নি বলে তার এমন সিদ্ধান্ত।


ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলি (প্রশ্নমান - ৩) [আশাপূর্ণা দেবী]


“কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল”— কোন্ কথা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল ?

তপনের ছোটোমেসোমশাই বই লিখতেন আর তাঁর বই ছাপাও হত| তপনের মনের মধ্যে লেখককে দেখার একটা সুপ্ত বাসনা ছিল। তার ধারণাই ছিল লেখকরা যেন অন্য জগতের মানুষ | লেখকদের অতিমানবত্ব নিয়ে সে মনের মধ্যে নানারকম আজগুবি ধ্যানধারণা পোষণ করত। একজন লেখককে সামনে থেকে দেখা তার কাছে এক স্বপ্নপূরণের মতো ছিল। তাই ছোটোমেসো বই লেখেন আর সেই বই ছাপা হয় শুনে তপনের চোখ মার্বেলের মতো হয়ে গিয়েছিল।

“নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের”কীভাবে তপনের নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খলে গিয়েছিল ?

আশাপূর্ণা দেবীর লেখা ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপন, লেখকদের নিয়ে নিজের মনের মধ্যে এক অদ্ভুত ধ্যানধারণা পোষণ করত। সে ভাবত বোধহয় লেখকদের আচার-আচরণ সবকিছুই সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা | তপনের ছোটোমেসোমশাই একজন লেখক ছিলেন। কলেজে ছুটি উপলক্ষ্যে তিনি তপনদের বাড়িতে এসে কিছুদিন ছিলেন। তপন দেখল নিছক সাধারণ মানুষের মতোই তাঁর সমস্ত আচার-আচরণ। ছোটোমেসোকে দেখে লেখকরা যে আসলে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষ তা সে জানতে পারল আর সেটা জানার পর তার যেন জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল |

“তপন অবশ্য মাসির এই হইচইতে মনে মনে পুলকিত হয়।” মাসির হইচই এবং তাতে তপনের পুলকিত হওয়ার কারণ কী ?

তপন একটা গল্প লিখেছিল। তার ছোটোমাসি সেই গল্পটা দেখে তপনকে উৎসাহিত করার জন্য হইচই শুরু করে দেন | এরপর গল্পটা তিনি তপনের নতুন মেসোর হাতে দেন। নতুন মেসো কলেজের অধ্যাপক এবং লেখক | তিনি অবশ্যই তপনের গল্পটার ভালোমন্দ বিচার করতে পারবেন | নতুন মেসোর দৃষ্টিগোচর হওয়াতে তপন রোমাঞ্চে পুলকিত হয়ে ওঠে।

“রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই”— এই কথাটি বলার কারণ কী ছিল ?

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপন একটা গল্প লিখে তার ছোটোমাসিকে শোনায়। ছোটোমাসি লেখাটি হাতে পাওয়ামাত্র তার স্বামীকে পড়ে দেখতে বলে| তপনের ছোটোমেসো বই লিখতেন| জহুরি যেমন কোন্‌টা আসল রত্ন আর কোন্‌টা নয় তা বলতে পারেন, তেমনই একজন লেখক, বলতে পারেন কোন্ লেখা ভালো আর কোন লেখাটা খারাপ | তাই তপন ভেবেছিল এই লেখার আসল মূল্য যদি কেউ বোঝেন, তাহলে তিনি তার মেসোমশাই।

‘মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে সেটা।” কোন্‌টি, কেন মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে বলে বক্তা মনে করেছে ?

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপন একটা গল্প লিখেছিল। ছোটোমাসি সেই গল্পটি ছাপাবার উদ্দেশ্যে তপনের মেসোর হাতে দেন। মেসো গল্পটি পড়েন এবং বলেন যে, একটু কারেকশান করে দিয়ে ছাপতে দেওয়া চলে| তপনের উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে ছোটোমাসি তাঁর স্বামীকে গল্পটি ছাপিয়ে দিতে অনুরোধ করেন, আর মনে করেন সেটাই হবে মেসোর উপযুক্ত কাজ।

সবাই তপনের গল্প শুনে হাসলেও, তপনের ছোটোমেসো তাকে কী বলেছিলেন ?

তপনের কাঁচা হাতের লেখা গল্প শুনে সবাই হাসলেও তার ছোটোমেসো তাকে উৎসাহই দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন তার বয়সি সমস্ত ছেলেরা রাজারানির গল্প আর নয়তো খুন, জখম, অ্যাকসিডেন্ট নিয়ে গল্প লেখে | গতানুগতিক ছকের বাইরে তারা কেউ বেরোতে চায় না। কিন্তু তপন এত অল্প বয়সেই চেনা গন্ডির বাইরে বেরিয়েছে। রাজারানি, অ্যাক্সিডেন্টের গল্প বাদ দিয়ে সে নিজের ভরতি হওয়ার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প লিখেছে, নিজের অনুভূতির বিষয় নিয়ে গল্প লিখেছে, যা প্রশংসার যোগ্য।

“তপন বিহ্বল দৃষ্টিতে তাকায়।” তপনের বিহ্বলতার কারণ কী ?

সৃষ্টিতেই স্ফুরিত হয় স্রষ্টার আশা ও আকাঙ্ক্ষা। পরিতৃপ্তির আনন্দে স্রষ্টা তখন হয়ে পড়েন বিহ্বল ও আত্মহারা | তপনের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিল | আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে যে গল্পটি সে লিখেছিল সেটি তার আশা-আকাঙ্ক্ষার পূর্ণরূপ | সেটি পত্রিকায় ছাপা হবে— এই আশা তপনকে পুলকিত করে। তা ছাড়া তার নতুন মেসো তপনের লেখাটার প্রশংসা করেছিল। একজন লেখকের মুখে নিজের প্রশংসা শুনে তপন আনন্দে বিহ্বল হয়ে পড়ে।

“গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের”—তপনের গায়ে কেন কাঁটা দিয়ে উঠল ?

তপন গল্পের বই পড়তে ভালোবাসত | ছোটোবেলা থেকেই তপন রাশি রাশি গল্প শুনেছে আর বস্তা বস্তা বই পড়েছে | একদিন দুপুরে যখন চারিদিক নিস্তব্ধ, সে একটা খাতা আর কলম নিয়ে সারাদুপুর বসে একটা আস্ত গল্প লিখে ফেলে | গল্প লেখার পর সে নিজে গোটা গল্পটা লিখেছে ভেবে নিজেই অবাক হয়ে গেছিল। গল্প শেষ করার পর আনন্দে, উত্তেজনায় তপনের সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল।

“হঠাৎ ভয়ানক একটা উত্তেজনা অনুভব করে তপন।” তপনের উত্তেজনার কারণ বর্ণনা করো।

নতুন মেসো তপনের লেখা গল্প নিয়ে যাওয়ার পর তার উৎসাহ আরও বৃদ্ধি পায়। এই উৎসাহের আতিশয্যে তপন হোমটাস্কের খাতায় আর একটি গল্প লিখে ফেলে | একান্ত নির্জনে একাসনে বসে লেখা গল্পটি পড়ে সে নিজেই বিস্মিত হয়। নিজের প্রতি বিশ্বাস জন্মায় তার | তাহলে সত্যিই সে একজনাবজ লেখক হতে চলেছে— এই ভাবনাই তাকে উত্তেজিত করে।

তপনের বাড়িতে তার কী নাম কেন প্রচলিত হয়েছিল ?

তার লেখক ছোটোমেসোমশাই-এর থেকে বাহবা লাভের পর তপন গল্প লেখার বাড়তি অনুপ্রেরণা পায় এবং গল্প লেখার ব্যাপারে আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। তার লেখা প্রথম গল্পটি সে বিশ্বাস করে ছোটোমাসিকে পড়তে দিলেও তপনের কাঁচা হাতে লেখা গল্পটি এভাবে সকলের কানে পৌঁছোয় এবং তাঁরা খানিক মশকরা ও ঠাট্টা মিশিয়েই তপনের নামের সঙ্গে ‘কবি’, ‘সাহিত্যিক’, ‘কথাশিল্পী' অভিধাগুলি জুড়ে দেন।

“বুকের রক্ত চলকে ওঠে তপনের।”—প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ব্যাখ্যা লেখো।

মেসোর হাতে ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকা দেখে তপনের এরূপ অবস্থা হয়েছিল। তপনের লেখা গল্পটি তার নতুন মেসো ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপিয়ে দেবেন বলে নিয়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন তপন সেই অপেক্ষায় বসেছিল। তারপর একসময় সে ভুলেই গিয়েছিল গল্পটির কথা। একদন আকস্মিকভাবেই তার ছোটোমাসি আর মেসো তাদের বাড়ি বেড়াতে এলেন। তপন মেসোর হাতে এই ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকা দেখতে পেল। তার গল্প ছাপা হয়েছেপ্রত্যাশাতেই তার বুকের রক্ত যেন চলকে উঠল।

“এতক্ষণে বইটা নিজের হাতে পায় তপন।”—কোন্ বইটার কথা বলা হয়েছে? সেটি হাতে পেয়ে তপন কী দেখতে পেয়েছিল ? ১+২

‘সন্ধ্যাতারা’ নামক পত্রিকায় তপনের গল্প ছাপা হয়েছিল। বই বলতে এখানে ওই পত্রিকাকেই বোঝানো হয়েছে। • তীব্র উত্তেজনা আর কৌতূহল নিয়ে তপন পত্রিকাটির পাতা ওলটায় | নিজের গল্প পড়তে গিয়ে সে চমকে ওঠে। প্রত্যেকটি লাইন তার কাছে আনকোরা নতুন মনে হয়। তার লেখার সঙ্গে ছাপার অক্ষরের কোনো মিল নেই। নিজের লেখা গল্পের মধ্যে সে আর নিজেকে খুঁজে পায় না।

তপন তার লজ্জা কাটিয়ে কী পড়তে যায় এবং পড়তে গিয়ে সে কী দেখে ?

ভরতি হওয়ার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি নিয়ে তপন একটা গল্প লিখেছিল। গল্পের নাম ছিল ‘প্রথম দিন'। তপনের মেসোমশাই ছিলেন লেখক। তিনি তপনের গল্পটি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপান | পত্রিকাটি হাতে পেয়ে তার মা তাকে লেখাটি পড়ে শোনাতে বললে প্রাথমিক লজ্জা ও জড়তাটুকু কাটিয়ে তপন পড়তে শুরু করে। পড়তে গিয়ে সে দেখে তার লেখাটা আগাগোড়াই ছোটোমেসো সংশোধন করেছেন। তপনের কাঁচা হাতের লেখা গল্প পুরোটাই বদলে তিনি নিজের পাকা হাতে সেটি লিখে দিয়েছেন।

“সবাই শুনতে চাইছে তবু পড়ছিস না?” কী শুনতে চাওয়ার কথা বলা হয়েছে? তা না পড়ার কারণ কী ? ১+২

‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপা হওয়া তপনের গল্পটি শুনতে চাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

» তপনের নতুন মেসো সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় গল্পটি ছাপিয়ে দিয়েছিলেন। সেটি নিয়ে তিনি তপনদের বাড়িতে এলে সবার মধ্যে একটা হইচই পড়ে যায় | তপনের মা তাকে গল্পটা পড়ে শোনাতে বলেন | কিন্তু গল্পটি পড়ে তপন হতবাক হয়ে যায় | গল্পটা এমনভাবে কারেকশান করা হয়েছে, যার মধ্যে তপন নিজেকে খুঁজেই পায়নি | সম্পূর্ণ নতুন একটা গল্প বলেই তার মনে হয়েছে | গভীর হতাশা আর দুঃখ তপনকে যেন বাক্রক্রুদ্ধ করেছিল। তাই সে গল্পটা পড়তে চায়নি।

“তপনের মনে হয় আজ সবথেকে দুঃখের দিন”— তপনের এরকম মনে হওয়ার কারণ ?

ছোটোমেসোমশাইয়ের উদ্যোগে ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় তপনের লেখা গল্প ছেপে বেরোলে, সে তার মাকে গল্পটি পড়ে শোনাতে যায়। সে দেখে ছোটোমেসো সংশোধনের নামে সেই লেখার আগাগোড়াই বদলে দিয়েছেন। সে যে লেখাটা ছাপতে দিয়েছিল তার সঙ্গে ছেপে আসা লেখার কোনো মিল নেই | লজ্জায়, অপমানে তপন ভেঙে পড়ে। সে বুঝতে পারে তার লেখা কাঁচা হাতের, তবুও যদি সেই লেখাই ছাপা হত তাহলে তার মনে আনন্দ জন্মাত। আর ছাপা না হলেও এতটা দুঃখ তার হত না।

“শুধু এই দুঃখের মুহূর্তে গভীরভাবে সংকল্প করে তপন”— তপন গভীরভাবে কী সংকল্প করেছিল ?

ছোটোমেসোর দৌলতে ‘সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় তপনের গল্প ছাপা হলেও সে নিজের লেখা পড়তে গিয়ে দেখে যে গল্প তপন ছাপতে দিয়েছিল এটা আসলে সেই লেখাটা নয়। মেসোমশাই আগাগোড়াই লেখাটা সংশোধন করে নিজের পাকা হাতে গল্পটি লিখে দিয়েছেন। অপমানে, লজ্জায় তপন সংকল্প করে যদি আর কোনোদিন লেখা ছাপানোর হয়, সে নিজে গিয়ে তা ছাপতে দেবে| না ছাপলেও ক্ষতি নেই, অন্তত নিজের নামে অন্য কারও লেখা তাকে পড়তে হবে না ।

“তপনকে এখন ‘লেখক' বলা যেতে পারে”— একথা মনে হওয়ার কারণ কী ?

তপন ছোটোবেলা থেকে অনেক বই পড়েছে | ফলে গল্প কীরকম হয় সেই সম্পর্কে তার মোটোমুটি একটা ধারণা হয়েছে। একদিন দুপুরে তপন তার ভরতির প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা গোটা গল্প লিখে ফেলে। গল্পটার নাম দেয় ‘প্রথম দিন’। একটা গোটা গল্প নিজে লিখে ফেলেছে একথা ভেবে সে নিজেই অবাক হয়ে যায়, তাই তপনের বিশ্বাস ছিল, তাকেও এখন লেখক বলা যেতে পারে।

গল্প ছেপে আসার পর যে আহ্লাদ হওয়ার কথা, সেই আহ্লাদ তপনের না হওয়ার কারণ কী ছিল তা লেখো।

তপনের ছোটোমেসোর সহায়তায় ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় তপনের গল্প প্রকাশিত হলে চরিদিকে সবাই মেসোর মহত্বের কথাই বলতে থাকে। মেসো না থাকলে কোনোদিনই ‘সন্ধ্যাতারা’ সম্পাদক তপনের লেখা ছুঁয়েও দেখত না—এরকম কথাও অনেকে বলে| এইসব কথার মাঝখানে আসল যে লেখক, সে-ই যেন কোথাও হারিয়ে যায়। তপনের প্রত্যাশামাফিক কেউ লেখকের প্রশংসা করে না। তপনের যেন কোনো কৃতিত্বই নেই। এইসব দেখে লেখা ছেপে আসার পর যে আহ্লাদ হওয়ার উচিত ছিল তা তপনের হয় না।


বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী প্রশ্নাবলি (প্রশ্নমান - ৫) [প্রশ্ন ও উত্তর]


১. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন কীভাবে হয়েছে তা বর্ণনা করো।

তপনের কাছে লেখকরা ছিল স্বপ্নজগতের মানুষ | তার লেখক ছোটোমেসোকে সে দেখে এবং তাঁর আচার-ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করে তপন বুঝল লেখকরা সাধারণ মানুষের মতোই। সেই মুহূর্তে তার জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল। যদিও জ্ঞানচক্ষুর প্রকৃত উন্মীলন হল আরও পরে।

তপনের সারা দুপুর বসে লেখা গল্পটা তার ছোটোমাসি একরকম জোর করেই তার মেসোকে দেখায়, ছোটোমেসো সেই লেখার প্রশংসাও করেন । কিন্তু পাশাপাশি এ কথাও বলেন যে গল্পটার একটু সংশোধনের দরকার। ছোটোমেসো সেই লেখা ছাপানোর ব্যবস্থাও করে দেবেন বলে কথা দেন | তপন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে ছাপার অক্ষরে নিজের লেখা দেখবে বলে।

‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় সত্যিই তার লেখা প্রকাশিত হয়। ছাপার অক্ষরে নিজের নাম দেখে তপন এক অদ্ভুত আনন্দ অনুভব করে। কিন্তু লেখাটা পড়তে গিয়ে সে ছাপার অক্ষরে লেখার সঙ্গে নিজের লেখাটির কোনো মিল দেখতে পায় না। পুরো লেখাটা আগাগোড়াই তার মেসোমশাইয়ের সংশোধন করা | দুঃখে, লজ্জায়, অপমানে তপন ভেঙে পড়ে। এবার যেন প্রকৃতই তার অন্তর্দৃষ্টির জাগরণ হয়| তপন সংকল্প করে নিজের লেখা ছাপতে হলে সে নিজে গিয়েই তা ছাপতে দেবে, অন্যের দাক্ষিণ্য গ্রহণ করবে না।


২. ‘লেখার প্রকৃত মূল্য বুঝলে নতুন মেসোই বুঝবে”- এ কথা কার, কেন মনে হয়েছিল তা আলোচনা করো।

আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের মনের সুপ্ত ইচ্ছেই ছিল লেখককে সামনে থেকে দেখার। সে ভাবত লেখকরা হয়তো অন্য কোনো জীব, তাঁরা সাধারণ মানুষ নন। তপনের নতুন মেসোমশাই কলেজের অধ্যাপক এবং লেখক। তিনি অনেক বই লিখেছেন আর সেইসব বই ছেপেও বেরিয়েছে | মেসোমশাই যেহেতু লেখালেখি করেন তাই তিনি যে-কোনো গল্প বা যে-কোনো লেখার মূল্য অন্য সকলের থেকে বেশি বুঝবেন বলেই তপনের ধারণা ছিল।

তপন এক দুপুরবেলায় বসে একটা গোটা গল্প লিখে ফেলে। আস্ত একটা গল্প লিখে প্রথমে সে নিজেই বিশ্বাস করতে পারে না। কিন্তু সেই গোটা গল্পটা লিখেছে দেখে তার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। গল্পটা সে প্রথমে শোনায় ছোটামাসিকে, কারণ তপনের ছোটোমাসি ছিল তার বন্ধুর মতো। ছোটোমাসি তার লেখাটা দেখে সেটা ছোটোমেসোকে দেখায়, মুখে কিছুটা লজ্জাবশত অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও মনে মনে তপন এটাই চেয়েছিল, কারণ হয়তো সবাই লেখাটা পড়বে, কিন্তু লেখার গুণগত মান বা লেখার প্রকৃত মূল্য, তপনের মতে, একমাত্র তার ছোটোমেসোমশাই বুঝবেন। কারণ তিনি নিজে একজন লেখক | আর একজন লেখকই আর একজন লেখকের লেখার মূল্য বুঝতে পারে।


৩. নিথর দুপুরবেলায় তপন কী করেছিল আর তারপর কী ঘটনা ঘটেছিল সংক্ষেপে লেখো।

আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপন এক নিথর দুপুরবেলায় তার হোমটাস্কের খাতায় একটা গোটা গল্প লিখে ফেলে | গল্প লেখার পর আনন্দে আর রোমাঞ্চে তার সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। সে তার লেখা গল্প প্রথম শোনায় তার ছোটোমাসিকে | ছোটোমাসি তার গল্পটা পড়ে একপ্রকার জোর করেই ছোটোমেসোর হাতে সেটি দিয়ে দেয় এবং গল্পপ্রকাশের অনুরোধও করে। ছোটোমেসো গল্পটা পড়ে কিছু সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পাশাপাশি এটাও বলেন যে তার বয়সি ছেলেরা হয় রূপকথা, না হয় অ্যাকসিডেন্ট নিয়ে গল্প লেখে | তাই ভরতি হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে তপনের লেখা গল্প প্রশংসার যোগ্য | তারপর তিনি তপনকে কথা দেন যে তার লেখা গল্প ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থাও করে দেবেন।

মেসোমশাই তাঁর কথা রাখেন। তিনি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় লেখা ছাপান এবং সেটা তপনকে দেখানোর জন্য নিয়ে আসেন | কিন্তু তপন সেই লেখা মা-কে পড়ে শোনাতে গিয়ে দেখে তার হাতে লেখা গল্পের সঙ্গে ছাপার অক্ষরে লেখার কোনো মিল নেই, তা পুরোপুরি মেসোমশাইয়ের পাকা হাতের লেখা। নিজের নামে অন্যের লেখা পড়তে গিয়ে লজ্জায়, অপমানে সে ভেঙে পড়ে এবং সংকল্প করে যদি কখনও নিজের লেখা ছাপতেই হয় তাহলে নিজে গিয়ে সেটা ছাপতে দেবে| কারও ভরসায় সে আর থাকবে না।


8. “লেখার পর যখন পড়ল, গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের”।—কোন্ লেখার কথা এখানে বলা হয়েছে? সেই লেখা পড়ে তপনের গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠার কারণ কী? ২+৩

তপনের ছোটোমেসো তার প্রথম লেখা গল্পটি নিয়ে গিয়েছিলেন ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার জন্য | সেই থেকে তপনের উৎসাহ বেড়ে যায়। এই উৎসাহে সে তিনতলার ঘরে একাসনে বসে আরও গল্প লিখে ফেলে। এখানে এই গল্পটির কথাই বলা হয়েছে।

• নতুন মেসোকে দেখে তপনের গল্প লেখার উৎসাহ বেড়ে গিয়েছিল। আগে সে ধারণা করত, লেখকরা তাদের মতো সাধারণ মানুষ নন, অন্য কোনো অলৌকিক জগতের মানুষ। কিন্তু নতুন মেসোকে দেখে তার ধারণা পরিবর্তিত হয়। তখন লেখক হতে তার কোনো বাধা থাকে না। সেই প্রেরণায় হোমটাস্কের খাতা নিয়ে সে তিনতলার সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে যায় | তারপর একান্তে বসে লিখে ফেলে গোটা একটি গল্প | মা যেমন সন্তানকে দেখে খুশি হয়, তপনও তেমনি তার সৃষ্টিতে উল্লসিত হয়েছিল। যখন সে সেটি আগাগোড়া পড়ে ফেলল তখন তার শরীরে একটা শিহরন খেলে যায় । তপন ভাবতেই পারেনি এত সুন্দর গল্প সে লিখতে পারবে। নিজস্ব ভাব ও ভাবনার বাণীমূর্তি দেখে তার গায়ে তখন কাঁটা দিয়ে ওঠে।


৫. “তপন কৃতার্থ হয়ে বসে বসে দিন গোনে।” কী কারণে তপন দিন গুনছিল ? তার দিন গোনার ফল কী হয়েছিল? ২+৩

আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের লেখা গল্পটি পড়েন তার লেখক ছোটোমেসোমশাই | সবার সামনে তিনি তপনের লেখার বিষয় নির্বাচনের প্রশাংসা করেন। সবশেষে তিনি লেখাটি ছাপানোর আশ্বাস দিয়ে সেটি নিয়ে চলে গেলে তপনের আহ্লাদের অন্ত থাকে না। মেসোর ক্ষমতার প্রতি অগাধ আস্থাবান তপন পত্রিকায় নিজের লেখা দেখাবার প্রতীক্ষায় অধীর হয়ে দিন গুনতে থাকে।

● একসময় তপনের প্রতীক্ষার অবসান হয়। সে ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকাটি হাতে পায়| লেখকসূচিতে নিজের নাম এবং গল্পের শিরোনাম দেখে তপন শিহরিত হয়। কিন্তু মা-কে গল্পটি পড়ে শোনাতে গিয়ে সে দেখতে পায়, তার মেসোমশাই পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী লেখার ‘কারেকশান’ করতে গিয়ে আদ্যোপান্ত লেখার খোলনলচে বদলে ফেলেছেন। গোটা গল্পের একটি বাক্যও সে চিনতে পারে না এবং ক্রমশ উপলব্ধি করে মেসোমশাই শুধু গল্পটি প্রকাশের ব্যবস্থাই করেননি, আদতে গোটা গল্পটিই তাঁর লেখা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কৃতিত্বের কোনো অংশই তপনের নিজের প্রাপ্য নয়। গভীর দুঃখে ভেঙে পড়লেও তপন সেই মুহূর্তেই প্রতিজ্ঞা করে, যে, এরপর লেখা ছাপতে দিলে সে নিজেই কাঁচা হাতে সেটা লিখবে এবং নিজে গিয়ে প্রকাশকের দপ্তরে লেখাটি দিয়ে আসবে।


৬. “সত্যিই তপনের জীবনে সবচেয়ে সুখের দিনটি এল আজ?” -কোন্ দিনটির কথা এখানে বলা হয়েছে? দিনটি সম্পর্কে এই উচ্ছ্বাসের কারণ লেখো। ২+৩

আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের তপন তার নতুন মেসোর মাধ্যমে ‘সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় একটি গল্প পাঠিয়েছিল। গল্পটি ছাপার অক্ষরে দেখার প্রত্যাশায় তপন দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকে | তারপর একদিন ছোটোমাসি আর মেসো তাদের বাড়ি বেড়াতে আসেন। মেসোর হাতে ‘সন্ধ্যাতারা’ দেখে চমকে ওঠে তপন | এখানে মেসোর আগমনের এই বিশেষ দিনটির কথাই বলা হয়েছে।

● লেখক ছোটোমেসোমশাই তপনের গল্পটিকে ‘সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপিয়ে দেবেন বলে জানান। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পর সে একপ্রকার নিশ্চিত হয়েছিল যে, গল্পটি আর ছাপা হবে না। তাই ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকা হাতে নিয়ে ছোটোমাসি আর মেসোকে আসতে দেখে তার বুকের রক্ত চলকে ওঠে। স্বপ্নপূরণের প্রত্যাশা আর ব্যর্থতার মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে ঘড়ির পেণ্ডুলামের মতো সে দুলতে থাকে। জীবনের প্রথম লেখা, সর্বোপরি কাঁচা হাতের লেখা সত্যিই ছাপা হয়েছে কি না, তা নিয়ে তার মনে সংশয় দেখা দেয় | যদি সত্যিই ছাপা হয় তাহলে দিনটি তপনের জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন হবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই। অপ শিত সাফল্য ব্যক্তি মনে সংশয় আনে। তাই দিনটি সম্পর্কে একটি জিজ্ঞাসার অবতারণা করা হয়েছে।


৭. তপনের লেখক হওয়ার পিছনে তার ছোটোমাসির ভূমিকা কতখানি ছিল আলোচনা করো।

সূচনাপর্বে ভূমিকা : ছোটোমাসির বিয়ে হওয়ার পর নতুন মেসোমশাইকে দেখে লেখক সম্পর্কে তপনের ধারণা সম্পূর্ণ পালটে যায় | নতুন মেসো একজন লেখক এবং তিনি আর পাঁচজন মানুষের মতোই | এবার তপন নিশ্চিত হয় যে, তার পক্ষে লেখক হওয়ার পথে আর কোনো বাধা নেই | সুতরাং তপনের লেখক হওয়ার সূচনাপর্বটি তৈরি করে দিয়েছে তার মাসি এবং তার বিবাহ | তপনের লেখা নিয়ে তার মাসিই তাকে বেশি উৎসাহ দিয়েছে।

গল্প লেখা ও গল্পপ্রকাশে ভূমিকা : তপনের লেখা গল্পটা তার মাসিই নতুন মেসোকে দিয়ে বলেছে—“তা হলে বাপু তুমি ওর গল্পটা ছাপিয়ে দিও— মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে সেটা।” আর একদিন দুপুরবেলা হোমটাস্কের খাতায় তপন আর একটি গল্প লিখে ফেলে প্রথমে মাসিকেই দেখায় |

মূল্যায়ন : ছোটোমাসিই তপনের চিরকালের বন্ধু—“বয়সে বছর আষ্টেকের বড়ো হলেও সমবয়সি, কাজেই মামার বাড়ি এলে সব কিছু ছোটোমাসির কাছে।” ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় মেসোর উদ্যোগে গল্প ছাপা হলে ছোটোমাসির মধ্যে আত্মপ্রসাদের প্রসন্নতা লক্ষ করা যায় | তাই বলা যায়, তপনের গল্প লেখার পিছনে তার ছোটোমাসির উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা ছিল অপরিসীম |


৮. “কিন্তু নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের।”—কী কারণে এ কথা বলা হয়েছে? সত্যিই তার জ্ঞানচক্ষু খুলেছিল কি না আলোচনা করো। ৩+২

আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে মামার বাড়িতে গিয়ে তপন তার নতুন মেসোমশাইয়ের সঙ্গে পরিচিত হয়, যিনি আবার লেখক | লেখকরা কতটা সাধারণ মানুষদের মতো তা নিয়ে সন্দেহ ছিল তপনের | কিন্তু ছোটো মেসোকে দেখার পরে তার ভুল ভাঙে। তিনি ছোটোমামা বা মেজোকাকুর মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, থালা থেকে খাবার তুলতে বলেন, স্নানের সময়ে স্নান করেন, ঘুমানোর সময়ে ঘুমান, খবরের কাগজের সংবাদ নিয়ে তর্কে মাতেন এবং দেশ-বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে সিনেমা দেখতে চলে যান। বেড়াতে বেরোন সেজেগুজে। অর্থাৎ আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর কোনো পার্থক্যই নেই। এই সত্য উপলব্ধি করেই তপন মনে করেছিল যে তার জ্ঞানচক্ষু খুলে গিয়েছে।

●তপনের জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন সম্পূর্ণ হয় গল্পের শেষে। তার লেখা গল্পটি ছোটোমাসি জোর করেই ছাপানোর জন্য মেসোকে দিয়েছিল। কিন্তু ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার পরে দেখা যায়, লেখাটি সম্পূর্ণ পালটে গেছে। তার প্রত্যেকটি লাইন তপনের অপরিচিত । গভীর দুঃখ ও গ্লানিতে দগ্ধ হয়ে তপন সংকল্প করে যে এরপরে যদি লেখা ছাপাতে দিতে হয় তাহলে সে নিজের হাতেই তা দেবে। এভাবেই তার জ্ঞানচক্ষুর যথার্থ উন্মীলন ঘটে।


৯. “গল্প ছাপা হলে যে ভয়ঙ্কর আহ্লাদটা হবার কথা, সে আহ্লাদ খুঁজে পায় না।”—কার, কোন্ গল্প, কোথায় ছাপা হয়েছিল? গল্প ছাপা হলেও সে আহ্লাদ খুঁজে পায়নি কেন?

আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু' গল্পের তপন একটি গল্প লিখেছিল। সেই গল্পটি তপনের নতুন মেসোর ফরমায়েশে ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

● তপন বয়সে কিশোর। তার নবীন আবেগের প্রকাশ ঘটে তার লেখা ‘প্রথম দিন’ নামক প্রথম গল্পতে । গল্পটি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। মেসোর হাতে পত্রিকাটি দেখে বুকের রক্ত চলকে ওঠে তার | পত্রিকার সূচিপত্রে গল্পের ও নিজের নাম দেখেই তপনের মন নতুন আশায় জেগে ওঠে। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি | তপন গল্পটি পড়ে চমকে ওঠে। বাড়ির সকলেই বলে—“বারে, চমৎকার লিখেছে তো।” কিন্তু তপনের মেসোমসাই মৃদু হেসে বলেন—“একটু আধটু কারেকশান করতে হয়েছে অবশ্য | নেহাত কাঁচা তো।” তপনের মাসি ছাড়া বাড়ির আর কেউ তেমন বাহবা দেয়নি। বরং তার বাবা বলেন—“তা নইলে ফট করে একটা লিখল, আর ছাপা হলো”। অন্যদিকে তপনের মেজোকাকুর মন্তব্য—“তা ওরকম একটি লেখক মেসো থাকা মন্দ নয়। আমাদের থাকলে আমরাও চেষ্টা করে দেখতাম।” বাড়ির কর্তাস্থানীয় ব্যক্তিদের এইসব কথার মধ্যে একটা নিরুত্তাপ ঔদাসীন্য প্রচ্ছন্ন ছিল । আর ছিল তপনের লেখার প্রতি একটা সূক্ষ্ম শ্লেষ। এই কারণেই তপন অভিপ্রেত আহ্লাদটা খুঁজে পায় না।


১০. “তপনের মনে হয় আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।”—তপনের এই মনে হওয়ার কারণ গল্পের কাহিনি অবলম্বনে আলোচনা করো।

আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তার নতুন মেসোমশাইকে দেখে লেখকদের সম্পর্কে তপনের কাল্পনিক ধারণা সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছিল। সে বিস্মিত হয়েছিল এই দেখে যে, লেখকরাও একেবারেই সাধারণ মানুষ | তখন তপনের মনেও লেখক হবার সাধ জেগে ওঠে এবং সে লিখে ফেলে তার জীবনের প্রথম গল্প | কৌশলে ছোটোমাসির হাত ঘুরে সে গল্প পৌঁছেও যায় মেসোমশাইয়ের কাছে | কিছু কারেকশনের কথা বললেও তপনের বিষয়ভাবনার মৌলিকতার কথা বলে সেটিকে ছাপিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মেসোমশাই | শুরু হয় তপনের দিন গোনা। একসময় ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় সেই লেখা—‘প্রথম দিন’। কিন্তু যা হতে পারত তপনের জীবনের ‘সবচেয়ে সুখের দিন’, তা-ই হয়ে যায় তার ‘সবচেয়ে দুঃখের দিন'। ছাপার অক্ষরে নিজের যে লেখা প্রকাশকে তার ‘অলৌকিক’ ঘটনা বলে মনে হয়েছিল তা-ই তাকে প্রায় বাক্যহীন করে দেয়। চারপাশে তপনের গল্পের প্রশংসার থেকেও মেসোর মহত্ত্ব আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। অপমান তীব্র হয় যখন লেখাটি পড়তে গিয়ে তপন দেখে রচনার একটি লাইনও তার চেনা নয়—মেসোমশাই গল্পটিকে আগাগোড়াই কারেকশন করে দিয়েছেন। লেখক তপন হারিয়ে গিয়েছে সেই গল্প থেকে। চোখ জলে ভিজে যায় তপনের।


১১. “তার থেকে দুঃখের কিছু নেই, তার থেকে অপমানের।” —দুঃখ আর অপমানের কারণ কী? এই দুঃখ আর অপমান দূর করতে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কী সংকল্প গ্রহণ করেছিল? অথবা, দুঃখ আর অপমানের কারণ কী? এই দুঃখ আর অপমান থেকে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কী শিক্ষালাভ করেছিল? ৩+২

আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপন লেখক হতে চেয়েছিল। কিন্তু তার ধারণা ছিল লেখকরা সাধারণ মানুষ নন, আকাশ থেকে পড়া অতিলৌকিক কোনো প্রতিভা | তপনের এই ধারণা দূর হয় তার নতুন মেসোকে দেখে| এবার তপন লিখে ফেলে একটা গল্প। মেসো প্রতিশ্রুতি দেন ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় তিনি সেটা ছাপিয়ে দেবেন| কিন্তু ছাপানো গল্পটা পড়ে তপন হতবাক হয়ে যায় | গল্পের প্রতিটি লাইন নতুন, আনকোরা। তার মধ্যে তপন নিজেকে খুঁজে পায় না। তার মনে হয় লেখাটা তার নয়। নিজের লেখার আমূল পরিবর্তন দেখে তপন দুঃখিত হয় ও অপমানিত বোধ করে।

● দুঃখ আর অপমান থেকে তপন নতুন এক অভিজ্ঞতা লাভ করেছিল| তপন সংকল্প করেছিল, ভবিষ্যতে সে যদি কখনও লেখা ছাপতে দেয়, তা সে নিজেই পত্রিকা সম্পাদকের কাছে জমা দিয়ে আসবে |ছাপা হোক বা না হোক তাতে তার দুঃখ নেই | কেউ তো আর বলতে পারবে না, ‘অমুক তপনের লেখা ছাপিয়ে দিয়েছে |’ সে আরও | বুঝেছিল যে, অপরের সাহায্য নিয়ে লেখক হওয়া যায় না। কাঁচা লেখাই একদিন পরিপক্ব হয়ে ওঠে নিরন্তর অনুশীলনের মাধ্যমে।


১২. “শুধু এই দুঃখের মুহূর্তে গভীরভাবে সংকল্প করে তপন।” তপনের দুঃখের কারণ কী? সে কী ধরনের সংকল্প গ্রহণ করেছিল? ৩+২

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের তপন ভাবত লেখকরা অন্য জগতের বাসিন্দা। ইতিমধ্যে তার ছোটোমাসির বিয়ে হয় একজন লেখকের সঙ্গে | তপন দেখতে পায় মেসো তার বাবা কাকুর মতোই একজন স্বাভাবিক মানুষ | তখন থেকেই লেখক হবার জেদ তার মাথায় চেপে বসে। সে লিখেও ফেলে একটি গল্প | লেখক মেসো সেই গল্পটি ‘সন্ধ্যাতারা’ নামক একটি পত্রিকায় ছাপিয়ে দেন | ছাপা লেখা হাতে পেয়ে তপন হতভম্ব হয়ে যায় | সে দেখতে পায় পুরো লেখাটাই তার নতুন মেসো কারেকশান করে দিয়েছেন। তপন তার নিজের লেখার মধ্যে নিজেকে খুঁজে পায় না। এতে তখন নিজে অপমানিত বোধ করে। নিজের লেখার এই সামগ্রিক রূপান্তরই তপনের দুঃখের কারণ।

● রূপান্তরিত গল্প দেখে লজ্জিত ও দুঃখিত তপন এক দৃঢ় সংকল্প করে। সে মনে করে, নিজের লেখা কাঁচা হলেও অন্যের দ্বারা সংশোধন করানো সমীচীন নয়। তাই তপন প্রতিজ্ঞা করে এবার থেকে সে নিজে গিয়ে পত্রিকা সম্পাদকের হাতে লেখা জমা দিয়ে আসবে। যেন নিজের গল্প পড়তে বসে অন্যের লেখা লাইন তাকে আর পড়তে না হয়।


১৩. “তপন যেন কোথায় হারিয়ে যায় এইসব কথার মধ্যে।”— কোন্ সব কথার মধ্যে? তপন কেন হারিয়ে যায়?

→ ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের ছোটোমেসোমশাই নিজের প্রতিশ্রুতিমতো ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় তপনের লেখা গল্প 'প্রথম দিন' প্রকাশ করে দেন | পত্রিকাটি বাড়ির সকলের হাতে হাতে ঘোরে আর সকলের প্রশংসা পায় | মেসো অবশ্য মৃদু হেসে জানান যে, লেখাটিতে কিছু ‘কারেকশান' করতে হয়েছে। মাসি 'নতুন' লেখার যুক্তি দেন। ক্রমশ অবশ্য তগনের লেখা অপেক্ষা লেখা কারেকশানের কথাই ছড়িয়ে পড়ে। তপনের বাবাও লেখাপ্রকাশের কৃতিত্ব মেসোকেই দেন। মেজোকাকুও প্রকারান্তরে জানিয়ে দেন যে, মেসো না থাকলে তগনের লেখা প্রকাশিত হত না। এভাবে সেদিন চারপাশে শুধু তপনের গল্প আর তপনের নতুন মেসোর মহত্বের কথাই ছড়িয়ে গড়ে। তপন এইসব কথার মধ্যেই যেন হারিয়ে যায়।

● তপন এইসব কথার মধ্যে হারিয়ে যায় কারণ, এসব কথায় তপনের লেখকপ্রতিভার কোনো স্বীকৃতিই ছিল না। এমনও কথা তপন শুনেছিল যে তপনের মেসোমশাই যদি নিজে না গিয়ে দিতেন তাহলে ‘সন্ধ্যাতারা'র সম্পাদক তগনের গল্প 'কড়ে আঙুল' দিয়ে ছুঁয়েও দেখত না। এইসব কথার পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম গল্পপ্রকাশে যে প্রবল আনন্দ হওয়ার কথা ছিল, তখন তা খুঁজে পায় না। যে আগ্রহ নিয়ে সে গল্প ছাপা হওয়ার জন্য বসেছিল তা কোথাও যেন আহত হয়। নানা মানুষের নানা বিরূপ মন্তব্য তার আনন্দের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।


১৪. আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের নামকরণ কতদূর সার্থক হয়েছে লেখো।

আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্প একজন কিশোরের অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত হওয়ার কাহিনি | গল্পের নামকরণের মধ্যে তারই ইঙ্গিত। তপন একসময় ভাবত যাঁরা গল্প, কবিতা, উপন্যাস লেখেন তাঁরা আসলে আলাদা জগতের মানুষ | তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তার মেসোমশাইকে দেখে, যিনি কিনা তপনের বাবা, ছোটোমামা ও মেজোকাকুর মতোই মানুষ। তিনি ওঁদের মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, স্নান করেন এবং সকলের মতোই খেতে বসে বলেন ‘আরে ব্যস, এত কখনও খাওয়া যায়' ইত্যাদি।

তপনের লেখা গল্প একদিন তার মেসোমশাই নিয়ে যান ছাপিয়ে দেবেন বলে। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও তপন তার গল্পটা আর ছাপার অক্ষরে দেখতে পায় না। হঠাৎ একদিন মাসি ও মেসোকে সে তাদের বাড়ি আসতে দেখে ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকা হাতে। এই পত্রিকায় তপনের পাঠানো গল্পটা ছাপা হয়েছে। কিন্তু সেই গল্প পড়ে তো তপনের চক্ষু চড়কগাছ | মেসো প্রায় পুরো লেখাটাই পালটে দিয়েছেন। তপনের তখন মন খারাপ হয়ে যায়। সে ভাবে এবার থেকে সে নিজেই লেখা পাঠাবে, কারও হাত দিয়ে নয়। এভাবে তপনের জ্ঞানচক্ষুর উন্মোচন ঘটে।


১৫. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্প অবলম্বনে তপন চরিত্রটির পরিচয় দাও।

আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপন| তার চরিত্রের যে বৈশিষ্ট্যগুলি গল্পে দেখতে পাওয়া যায়—

কল্পনাপ্রবণ: লেখক সম্পর্কে তপনের মনে ছিল এক অতিলৌকিক ধারণা। সে ভাবত লেখকরা অন্য জগতের বাসিন্দা, মানুষের সঙ্গে তাঁদের কোনো মিল নেই।


সৃজনশীল : ছোটোমাসির বিয়ের পর তপনের ধারণা সম্পূর্ণ বদলে যায়। কারণ তার নতুন মেসো ছিলেন একজন লেখক, যাঁর অনেক বই ছাপা হয়েছে। একজন লেখককে খুব কাছ থেকে দেখে লেখক হওয়ার অদম্য বাসনায় তপন লিখে ফেলে আস্ত একটা গল্প | নতুন মেসো সেই গল্পের প্রশংসা করায় তপনের চোখে লেখক হবার স্বপ্ন ঝিলিক দিয়ে ওঠে।

আবেগপ্রবণ ও সংবেদনশীল : 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় তপনের গল্পটা ছেপে বেরোলে সে অবাক হয়ে যায়, কারণ মেসো সংশোধন করতে গিয়ে আগাগোড়া গল্পটাকে পালটে দিয়েছেন। তপন নিজেকে খুঁজে পায় না গল্পের মধ্যে। সে হতাশ হয়।

আত্মাভিমানী: মেসোর সংশোধনে তার লেখার মৌলিকতা নষ্ট হওয়াকে তপন মেনে নিতে পারে না। তাই তপন সংকল্প করে ছাপা হোক বা না হোক, এবার থেকে নিজের লেখা নিজেই পত্রিকা সম্পাদকের কাছে জমা দেবে। এই আত্মসম্মানবোধই তপনকে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ করেছে।


১৬. ছোটোগল্প হিসেবে ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটির সার্থকতা আলোচনা করো।

আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পেটির সূচনা হয়েছে ছোটোগল্পের প্রত্যাশিত আকস্মিকতা দিয়ে—“কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল!” তপন নামের একটি কিশোর চরিত্রকে মাঝখানে রেখে লেখিকা তার স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গের কাহিনি রচনা করেছেন। তপনের লেখক মেসোমশাই তার লেখাকে আপাদমস্তক পালটে দিয়ে ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এই ঘটনায় তপনের লেখকসত্তা প্রবল আঘাত পায় | ছাপার অক্ষরে নিজের নামপ্রকাশ নয়, নিজের সৃজনশীলতার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এবং যন্ত্রণা তপন চরিত্রটিকে অন্য মাত্রা দেয়। কাহিনির পরিণতি যতই গুরুগম্ভীর হোক তাকে অসামান্য ভঙ্গিতে তুলে | ধরেছেন লেখিকা। গল্পে তপনের লেখক মেসোমশাইয়ের স্বরূপ প্রতিষ্ঠার দৃশ্যটি বর্ণনার গ্রুপে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। – “ঠিক ছোটোমামাদের মতোই খবরের কাগজের সব কথা নিয়ে প্রবলভাবে গল্প করেন, তর্ক করেন, আর শেষ পর্যন্ত ‘এ দেশের কিছু হবে না’ বলে সিনেমা দেখতে চলে যান...।”—এ অনবদ্য রচনাশৈলী কাহিনিকে গতিশীল করেছে। তবে নিঃসন্দেহে ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি সার্থকতা পেয়েছে তার পরিণতিতে। মৌলিকতার বিশ্বাসী এক কিশোর ও নব্য লেখকের যন্ত্রণা শুধু চরিত্রটিকে নয় গল্পকেও আসামান্যতা দেয়।


জ্ঞানচক্ষু (আশাপূর্ণা দেবী) সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর.pdf File Size - 323KB
View

● উৎস : আশাপূর্ণা দেবী রচিত কুমকুম গল্পসংকলন থেকে জ্ঞানচক্ষু গল্পটি গৃহীত হয়েছে।


● বিষয়-সংক্ষেপ : আশাপূর্ণা দেবীর রচিত ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে আমরা তপন নামের একজন ছোটো ছেলের কথা পাই, যার কাছে লেখকমাত্রেই আমাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরের কোনো চরিত্র। তাঁরা যে আর পাঁচজন মানুষদের মতোই সাধারণভাবে জীবন যাপন করেন, সেটা তপনের ধারণাতেই ছিল না। কিন্তু তপনের এই বিশ্বাস, এই বদ্ধমূল ধারণা আহত হয় যখন সে শোনে তার সদ্য বিবাহিতা ছোটোমাসির স্বামী, অর্থাৎ তার ছোটোমেসোমশাই একজন লেখক—‘সত্যিকার লেখক’ | লেখক হওয়া সত্ত্বেও যিনি কিনা তপনের বাবা, ছোটোমামা বা মেজোকাকুর মতো সিগারেট খান, দাড়ি কামান, ঘুমোন কিংবা স্নান করেন | ফলত, তপনের মনে তার ছোটোমেসোমশাইয়ের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধাবোধ জন্ম নেয়।

ছোট্ট তপনের নিজেরও ছিল প্রচুর গল্প পড়া ও লেখার নেশা। কিন্তু নিজের রচনা বিষয়ে একধরনের আড়ষ্টতা ও হীনম্মন্যতাবোধ থাকায় সে ‘লেখক’ এবং ‘প্রফেসর’ মানুষ ছোটোপিসেমশাইয়ের কাছে নিজের লেখা গল্প পেশ করার সাহস দেখাতে পারেনি। তার মাসি গিয়ে গল্পটি দেখালে মেসোমশাই তপনকে নিছক খুশি করতেই গল্পটির প্রশংসা করেন এবং ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় তা ছাপানোর ব্যাপারেও প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর বাড়ির লোকজনের ঠাট্টা ও ইয়ার্কির মধ্যে থেকেই তপন তার লেখা গল্পটি ছাপার অক্ষরে দেখতে পাওয়ার আশায় দিন গুনতে থাকে এবং লিখে ফেলে আরও একটি নতুন গল্প।

কিন্তু দিন বয়ে যায়, তপনের লেখা গল্পটি প্রকাশিত হয় না। শেষপর্যন্ত সে যখন একপ্রকারের হাল ছেড়ে দিয়েছে, একদিন তার বাড়িতে ছোটোমাসি ও মেসোর আগমন হয় ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকাটি হাতে নিয়ে, যেখানে সে নিজের চোখে দেখে লেখকসূচিতে তার নাম প্রকাশিত হয়েছে; শ্রীতপন কুমার রায়ের লেখা গল্প ‘প্রথম দিন'। বাড়ির লোকেরা তপনের লেখার প্রশংসা করলেও কৃতিত্বের সবটুকু তার ভাগ্যে জোটে না। পাশাপাশি তার ছোটোমেসোর নামেও জয়ধ্বনি ওঠে লেখা প্রকাশের ব্যপারে সাহায্যের জন্য। একসময় দেখা যায় তপনের কৃতিত্বের ভাগটুকু যেন পুরোটাই চাপা পড়ে গেছে তার মেসোর কৃতিত্বের কথা ঘোষণার মধ্যে।

কিন্তু তপনের দুঃখপ্রাপ্তির আরও অনেকটা বাকি ছিল। গল্পটি পড়তে গিয়ে সে দেখে ‘কারেকশান’ নামেই ‘কারেকশান’! তার ‘লেখক’ মেসো তপনের পুরো লেখার ওপর নির্বিচারে কলম চালিয়েছেন, প্রতিটা বাক্য তপনের কাছে ঠেকেছে আনকোরা নতুনের মতো। সে কিছুতেই গোটা গল্পটির সঙ্গে নিজেকে লেখক হিসেবে মেলাতে পারে না| গভীর দুঃখ ও হতাশায় ছোট্ট তপনের মন ভারাক্রান্ত হয়। তবে এত বেদনার মধ্য থেকেও তপন সংকল্প করে, এরপর যদি কখনও লেখা ছাপতে দিতে হয় তাহলে সে নিজে গিয়ে সেটা দেবে। কখনোই সে আর অন্যের কৃতিত্বের ভাগীদার হবে না। এইভাবে ‘লেখক’ এবং ‘লেখা’ সম্পর্কে তপনের জ্ঞানচক্ষুর প্রকৃত উন্মীলন হয়।


● নামকরণ : যে-কোনো সাহিত্যকর্মের নামকরণ করা হয় বিষয়বস্তু, চরিত্র বা ভাব অনুযায়ী, আবার কখনও বা তা হয় ব্যঞ্জনধর্মী| যে-কোনো সাহিত্যকর্মেই তার নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়|

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের নামকরণটি মূলত ব্যঞ্জনাধর্মী। জ্ঞানচক্ষু কথাটির অর্থ হল অন্তর্দৃষ্টি বা জ্ঞান রূপ দৃষ্টি | এখানে তপন চরিত্রটির আপন জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন হয়েছে গল্পের শেষে | তপনের বই পড়ার নেশা ছিল। লিখতেও সে ভালোবাসত। তপনের ছোটোমেসো বই লিখতেন। আর তার অনেক বই ছাপাও হয়েছে। ছোটোমেসোকে সামনে থেকে দেখে যেন তার স্বপ্নপূরণ হল | তপন নিজে একটা গল্প লিখেছিল এবং তার ছোটোমেসোর সঙ্গে যেহেতু ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকার সম্পাদকের চেনাশোনা ছিল, তাই তার লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল | ছাপার অক্ষরে নিজের লেখা দেখে তপন পুলকিত হলেও যখন সে লেখাটি সকলের সামনে পড়ে শোনায়, তখন দেখে সেই লেখাটির আপাদমস্তক তার মেসো সংশোধন করেছেন। সেই লেখাটি যে তার নিজেরই লেখা, সেটাই তপন বুঝতে পারে না। লজ্জায়, অপমানে, দুঃখে সে যেন মাটিতে মিশে যায় | তপনের কাঁচা লেখা পুরোপুরি বদলে তার মেসো নিজের পাকা হাতে গল্পটি লিখে দিয়েছেন। নিজের গল্প পড়তে বসে, অন্যের লেখা লাইন পড়তে গিয়ে তপনের যেন সত্যিই অন্তর্দৃষ্টির জাগরণ হয় | সে সংকল্প করে লেখা যদি ছাপতেই হয় তাহলে নিজে গিয়ে লেখা দিয়ে আসবে। তাতে লেখা না ছাপলেও তার দুঃখ থাকবে না, কারণ লেখাটি পুরোদস্তুর তার নিজের। তপনের নিজস্বতা, স্বকীয়তা সেখানে থাকবে, অন্যের হস্তক্ষেপে তার মৌলিকতা খর্ব হবে না। লেখা প্রকাশিত হলে তপন জানবে সেটা তার নিজের কৃতিত্ব, ছাপা না হলে নিজের ব্যর্থতা। এভাবেই তপনের অন্তর্দৃষ্টি জেগে উঠেছে। সত্যিই যেন তার জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন হয়েছে। গল্পের বিষয়বস্তুকে এভাবে বিচার করলে এই ‘জ্ঞানচক্ষু’ নামকরণটি যথাযথ এবং যুক্তিযুক্ত হয়েছে বলেই মনে হয়।

● জন্ম এবং শৈশব : ৮ জানুয়ারি, ১৯০৯ সালে উত্তর কলকাতার এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আশাপূর্ণা দেবী। তাঁর আদি নিবাস ছিল বেগমপুর — হুগলি | কোনো স্কুলকলেজে আশাপূর্ণার পড়ার সুযোগ হয়নি। পনেরো বছর বয়সে কালিদাস গুপ্তের সঙ্গে আশাপূর্ণা দেবীর বিবাহ হয়। লেখার জন্য তাঁর পরিবেশ বা বিশেষ সময়ের প্রয়োজন হয়নি। দীর্ঘজীবনে একজন গৃহবধূ ও মায়ের ভূমিকা পালন করতে করতেই তাঁর অনবদ্য সাহিত্যসৃষ্টি। তাঁর যুগে তিনিই একমাত্র প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক, যিনি বাংলা ছাড়া অন্য কোনো ভাষা জানতেন না।


● কর্মজীবন ও সাহিত্যজীবন : তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম লেখা শিশুসাথী পত্রিকায় ছাপা হয়। তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই ছোট ঠাকুরদার কাশীযাত্রা (১৯৩৮)। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘প্রেম ও প্রয়োজন' (১৯৪৪)। তাঁর লেখায় মধ্যবিত্ত পুরুষ ও নারী নানা মহিমায় প্রকাশ পেয়েছে | আশাপূর্ণা দেবী আধুনিক মেয়েদের কথা বলেছেন। কিন্তু আধুনিকতার বিলাসীদের প্রশ্রয় দেননি। তাঁর লেখা যেমন বাঙালি মেয়েদের উজ্জীবিত করেছে, তেমন অনেক লেখাতেই ছেলেদেরও গভীর মননের কথা ধরা পড়েছে। সত্তর বছরের বেশি তিনি একাদিক্রমে লিখে গিয়েছেন। সহজ কথাটা সহজে বলার মতো কঠিন কাজটাই আশাপূর্ণা আজীবন ধরে করে গেছেন। কাউকে তিনি কখনও বিমুখ করতে পারতেন না। তাঁর এই বিশেষ স্বভাবটির জন্য কাগজের লোকেরা সবসময়ই তাঁর শরণাপন্ন হতেন। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে উপন্যাস ১৭৬টি, ছোটোগল্প সংকলন ৩০টি, ছোটোদের বই ৪৭টি, অন্যান্য সংকলন ২৫টি এবং বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় অনূদিত গ্রন্থ ৬৩টি। তাঁর বিশেষ উল্লেখযোগ্য ট্রিলজি ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’, ‘সুবর্ণলতা’, ‘বকুলকথা'য় তিনি গোটা নারী সমাজের আশাআকাঙ্ক্ষা ও দুঃখবেদনার কথা বলেছেন | ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ গ্রন্থের জন্য ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার জ্ঞানপীঠ লাভ করেন। এছাড়াও তাঁর সাহিত্যকৃতির জন্য তিনি পেয়েছেন—রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি লিট ডিগ্রি ও সরকারি খেতাব। ১৩ জুলাই ১৯৯৫ সালে তাঁর দেহাবসান হয়।


We are very glad that you want to share.
Thanks for sharing this.