অভিষেক (মাইকেল মধুসূদন দত্ত) ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অভিষেক (মাইকেল মধুসূদন দত্ত) ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর, Abhishek Madhyamik Bengali Suggestions Pdf, অভিষেক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর.

অভিষেক (মাইকেল মধুসূদন দত্ত) ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান - ৩)


“কনক আসন ত্যজি, বীরেন্দ্রকেশরী ইন্দ্রজিৎ”—ইন্দ্ৰজিৎ কেন কনক আসন ত্যাগ করলেন ?

লঙ্কার প্রমোদ উদ্যানে প্রমীলার সঙ্গে বিলাসকলায় মত্ত ছিলেন ইন্দ্ৰজিৎ | এখানেই আকস্মিকভাবে ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে লক্ষ্মী উপস্থিত হলেন| বীরচূড়ামণি বীরবাহু যুদ্ধে নিহত—এই সংবাদটি দিতেই ছদ্মবেশী লক্ষ্মীর প্রমোদকাননে আগমন | এমন স্থানে লক্ষ্মীর হঠাৎ আগমন ইন্দ্ৰজিৎকে অপ্রস্তুত করে তোলে। তিনি তৎক্ষণাৎ ধাত্রীর চরণে প্রণাম জানাবার উদ্দেশ্যে কনক আসন ত্যাগ করেন।

“কহ দাসে লঙ্কার কুশল”—বক্তার এমন জিজ্ঞাসার কারণ কী?

লঙ্কার প্রমোদ-কাননে অবস্থানকালে ইন্দ্রজিতের কাছে ছদ্মবেশী লক্ষ্মীর উপস্থিতি ছিল আকস্মিক | কেননা, এমন সময় ও স্থানে তাঁর আগমন ইন্দ্রজিতের অভিপ্রেত ছিল না। সেই কারণেই মেঘনাদের মনে আশঙ্কা জাগে যে, হয়তো কনকলঙ্কার কোনো বিপদ হয়েছে। তা না হলে লক্ষ্মীর আগমন ঘটত না। কৌতূহলী ইন্দ্রজিৎ তাই ধাত্রীর চরণে প্রণাম জানিয়ে লঙ্কার কুশল জিজ্ঞাসা করেছেন।

“হায়! পুত্ৰ, কি আর কহিব/কনক-লঙ্কার দশা!”—বক্তার এই আক্ষেপের কারণ কী?

মেঘনাদের ধাত্রী প্রভাষা রাক্ষসীর ছদ্মবেশে এসে রমা শুনিয়েছিলেন স্বর্ণলঙ্কার করুণ পরিণতির কথা। রামচন্দ্রের সঙ্গে তীব্র যুদ্ধে নিহত হয়েছেন মেঘনাদের অগ্রজ বীরবাহু | তাঁর শোকে আকুল হয়ে লঙ্কাধিপতি রাবণ যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন| বীরপ্রসবা লঙ্কার এমনই বীরশূন্য দশা, যে আজ স্বয়ং রাজাকে যুদ্ধের জন্য যাত্রা করতে হয়| এইভাবে আক্ষেপের মতো করেই লঙ্কার দুরবস্থার বর্ণনা দিয়েছিলেন ছদ্মবেশী রমা বা লক্ষ্মী |

জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া;”—এই বিস্ময়ের কারণ আলোচনা করো।

→ ছদ্মবেশী রমা এসে রামচন্দ্রের হাতে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ ইন্দ্ৰজিৎকে দেন | ইন্দ্রজিতের কাছে এ ঘটনা ছিল অবিশ্বাস্য, কারণ এর আগেই যুদ্ধে শত্রুদলের উপরে প্রবল শর নিক্ষেপ করে ইন্দ্রজিৎ রামচন্দ্রকে খণ্ড খণ্ড করে কেটে ফেলেছেন। যুদ্ধ জয় করার আনন্দে তিনি তাঁর প্রমোদ উদ্যানে এসে সবে বিলাসে মত্ত হয়েছিলেন | হঠাৎ এই খবর তাঁর কাছে অপ্রত্যাশিত। তাই লক্ষ্মীর কথা তাঁর 'অদ্ভুত' লেগেছে এবং তিনি বিস্মিত হয়েছেন।

“এ অদ্ভুত বারতা, জননী/কোথায় পাইলে তুমি,/শীঘ্ৰ কহ দাসে।”—কোন্ বার্তার কথা বলা হয়েছে? বক্তার কাছে সেই | বার্তা অদ্ভুত মনে হয়েছে কেন?

বীরচূড়ামণি বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদের কথাই এখানে বলা হয়েছে | ● ইতিপূর্বেই ইন্দ্ৰজিৎ নিশারণে রঘুপতি রামচন্দ্রকে হত্যা করেছেন। অথচ ধাত্রীরূপী লক্ষ্মী রামচন্দ্রের হাতে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ এনেছেন | মৃত মানুষ কখনও বেঁচে উঠতে পারে না | তাই মৃত রামচন্দ্রের পক্ষে বীরবাহুকে হত্যা করা সম্ভব নয় | এই কারণেই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ ইন্দ্রজিতের কাছে ‘অদ্ভুত’ মনে হয়েছে।

“ছিঁড়িলা কুসুমদাম রোষে মহাবলী”—এই ‘রোষ’-এর প্রকাশ কীভাবে ঘটেছিল লেখো।

● রামচন্দ্র পুনর্জীবন লাভ করে তাঁরই ভাই বীরবাহুকে বধ করেছেন, ফলে পিতা রাবণের শোকাকুল অবস্থা আর তিনি প্রমোদবিলাসে মত্ত,—এই কথা মনে করে মেঘনাদ নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন। হাতের ফুলরাশি ছিঁড়ে ফেলেছেন, সোনার বালা দূরে ফেলে দিয়েছেন, পায়ের কাছে পড়ে রয়েছে কুণ্ডল। এভাবে ক্রোধের মধ্য দিয়ে ইন্দ্রজিৎ রাক্ষসকুলের অপবাদ দূর করার জন্য শপথ গ্রহণ করেন।

“ধিক মোরে, কহিলা গম্ভীরে কুমার।”—কুমার’ কে? তাঁর এই আত্মধিক্কারের কারণ কী?

আলোচ্য পঙ্ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ পদ্যাংশটি থেকে উদ্ধৃত। ‘কুমার’ বলতে এখানে ইন্দ্রজিৎকেই বোঝানো হয়েছে।

● বীরশ্রেষ্ঠ ইন্দ্রজিৎ লঙ্কার প্রমোদকাননে বিলাসকলায় মত্ত ছিলেন। এই অবসরে রঘুপতি রামচন্দ্র বীরবাহুকে যুদ্ধক্ষেত্রে হত্যা করেছেন। যখন শত্রুসৈন্য লঙ্কাকে ঘিরে ফেলেছে তখন তিনি বিলাসকলায় মত্ত — এই কথা ভেবেই ইন্দ্রজিৎ নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন।

“ঘুচাব ও অপবাদ, বধি রিপুকুলে।”—কোন্ অপবাদের কথা এখানে বলা হয়েছে? সেই অপবাদ ঘোচাতে বক্তা কীরূপ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?

● বীরশ্রেষ্ঠ ইন্দ্রজিৎ লঙ্কার প্রমোদকাননে বিলাসকলায় মত্ত ছিলেন। এই অবসরে রঘুপতি রামচন্দ্র বীরবাহুকে হত্যা করেন। শত্রুদল লঙ্কাপুরীকে ঘিরে ফেলেছে, অথচ ইন্দ্ৰজিৎ প্রমোদ-উদ্যানে সুখবিলাসে মত্ত। নিজের এই আচরণকেই তিনি অপবাদ মনে করেছেন।

● এই অপবাদ দূর করার জন্য ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধসাজে সজ্জিত হয়েছেন। মেঘবর্ণ রথ, যার চাকায় বিদ্যুতের ছটা; ইন্দ্রধনুর মতো স্বর্ণপ্রভ রাক্ষস পতাকা এবং অশ্ববাহিনী নিয়ে ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

“সাজিলা রথীন্দ্রষভ বীর আভরণে”—এই সেজে ওঠার বর্ণনা দাও।

ইন্দ্রজিতের যুদ্ধসজ্জার প্রস্তুতিকে কবি তুলনা করেছেন উমার পুত্র দেবসেনাপতি কার্তিকের তারকাসুর বধকালে কিংবা বিরাটরাজের গৃহে বিরাটপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে বৃহন্নলারূপী অর্জুনের গোধন উদ্ধারের জন্য কৌরবদের বিরুদ্ধে প্রস্তুতির সঙ্গে। ইন্দ্রজিতের রথ ছিল মেঘবর্গ, চক্রে ছিল বিজলির ছটা, ধবজ ইন্দ্রধনুর মতো আর অশ্বেরা ছিল দ্রুতগতি। সেই রথের উড়ে চলা যেন মৈনাক পর্বতের মতো | ইন্দ্রজিতের ধনুকের টংকারে সারা পৃথিবী কেঁপে উঠেছিল।

‘কেমনে ধরিবে প্রাণ/তোমার বিরহে/এ অভাগী?”—বক্তা কে? কোন্ প্রসঙ্গে বক্তা একথা বলেছেন? ১+২

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘অভিষেক’ পদ্যাংশ থেকে গৃহীত আলোচ্যমান উদ্ধৃতিটির বক্তা হলেন ইন্দ্রজিতের পত্নী প্রমীলাদেবী | → বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদে ইন্দ্রজিৎ চঞ্চল হয়ে উঠেছেন। তিনি যুদ্ধযাত্রার জন্য প্রস্তুত। এতক্ষণ তিনি প্রমোদকাননে প্রমীলার কাছেই ছিলেন। রণক্ষেত্র ভয়ানক, সেখানে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে| তাই প্রমীলা ইন্দ্রজিৎকে যুদ্ধযাত্রায় বাধা দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গেই প্রমীলা মন্তব্যটি করেছেন।

“হাসি উত্তরিলা মেঘনাদ।” মেঘনাদ কী উত্তর দিয়েছিলেন? তাঁর হাসির কারণ কী?

● বীরবাহুর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধযাত্রা করলে প্রমীলা বলেন, “তবে কেন তুমি, গুণনিধি, ত্যজ কিঙ্করীরে আজি?” এর উত্তরে ইন্দ্রজিৎ বলেন যে, ভালোবাসার যে দৃঢ় বন্ধনে প্রমীলা তাঁকে বেঁধেছেন, তা কেউ খুলতে পারবে না। প্রমীলার কল্যাণেই ইন্দ্ৰজিৎ যুদ্ধ জয় করে আবার ফিরে আসবেন।

হাসির মাধ্যমে ইন্দ্রজিৎ বোঝাতে চেয়েছেন যে, প্রমীলার অভিযোগ বা আশঙ্কা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন | আর তিনি ত্রিভুবনবিজয়ী বীর, তাই সামান্য মানব রামচন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করাটা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়।

“কাঁপিল লঙ্কা, কাঁপিলা জলধি!”—এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট আলোচনা করো।

অনুজ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনে মেঘনাদ যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নেন। তাঁর রথ সোনার পাখা বিস্তার করা মৈনাক পর্বতের মতো আকাশকে উজ্জ্বল করে বায়ুপথে প্রবল শব্দে চলতে থাকে। ধনুকের ছিলায় টান দিতেই টংকারধ্বনি ওঠে, অনেকটা মেঘের মধ্যে পক্ষীন্দ্রের চিৎকারে মতোই আওয়াজ হয়। অর্থাৎ আকাশপথে উড়ে চলতে চলতে গরুড় যেন গর্জন করে উঠেছে বলে মনে হচ্ছিল | আর তাতেই লঙ্কা এবং সমুদ্রে কম্পন সৃষ্টি হয়।

“সাজিছে রাবণ রাজা,”—–রাবণের এই যুদ্ধসজ্জার বর্ণনা দাও।

• পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে শোকাকুলতা কাটিয়ে রাবণ যুদ্ধসজ্জার প্রস্তুতি নেন, বীরমদে মত্ত হয়ে ওঠেন। যুদ্ধের বাজনা বেজে ওঠে, হাতিরা গর্জন করে, অশ্বেরা হ্রেষাধবনি করে, পদাতিক, রথী ইত্যাদি রাবণের চতুরঙ্গ বাহিনীও হুংকারধবনি করে, রেশমবস্ত্রের রাজপতাকা আকাশে উড়তে থাকে, সঙ্গে দীপ্তি ছড়ায় স্বর্ণবর্ণের আভা। সব মিলিয়ে চারিদিকে এক বীরোচিত পরিবেশ | সেখানে যুদ্ধসাজে সবাই সজ্জিত হয়ে উঠেছে।

“নাদিলা কর্বরদল হেরি বীরবরে/মহাগর্বে।”—কাদের ‘কর্বরদল’ বলা হয়েছে? বীরবরকে দেখে তাদের গর্বের কারণ কী?

●লঙ্কার রাক্ষসবাহিনীকে ‘কবূরদল’ বলা হয়েছে।

● লঙ্কেশ্বর রাবণ যুদ্ধসজ্জায় সজ্জিত হচ্ছেন। তাঁর সৈন্যবাহিনীও রণমদে মত্ত। এই সময় ইন্দ্রজিৎকে দেখে তারা উল্লসিত হয়েছে। করাণ ইন্দ্রজিতের রণকৌশল এবং বীরত্ব সম্পর্কে তারা অবহিত। স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্রকে তিনি পরাজিত করেছেন। লঙ্কার অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা তিনি। তাই তাঁকে পেয়ে রাক্ষসবাহিনী উৎসাহ এবং গর্ববোধ করেছে।

“এ মায়া, পিতঃ বুঝিতে না পারি!”—মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।

● রামচন্দ্রের হাতে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ ইন্দ্রজিতের কাছে ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য একটি বিষয় | কারণ তাঁর ধারণা ছিল, এর আগে রাত্রিকালীন যুদ্ধে তিনি রামচন্দ্রকে বিনাশ করেছেন। মৃত্যুর পরে রামচন্দ্রের এই পুনর্জীবন লাভ ইন্দ্রজিতের কাছে ছিল স্বাভাবিক বুদ্ধির অতীত | ফলে, তিনি বুঝতে পেরেছেন, মায়ার সাহায্য ছাড়া এই অসম্ভব ঘটনা সম্ভব নয়। এর মধ্যে সম্ভবত রামচন্দ্রের প্রতি মায়াদেবীর যে আশীর্বাদ সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

“এ কাল সমরে,/নাহি চাহে প্রাণ মম পাঠাইতে তোমা/ বারংবার।”—‘কাল সমর' বলতে বক্তা কী বুঝিয়েছেন? সেখানে ইন্দ্ৰজিৎকে পাঠাতে বক্তা দ্বিধাগ্রস্ত কেন?

● ‘কাল সমর’ বলতে ভয়ংকর যুদ্ধকেই বোঝানো হয়েছে।

→ বীরবাহুর মৃত্যুর পর ইন্দ্রজিৎই ছিলেন ‘রাক্ষস-কুল-ভরসা’। তাঁকে বাদ দিলে লঙ্কা একেবারেই বীরশূন্য। তা ছাড়া বিধিও রাবণের প্রতি বিরূপ | তা না হলে মৃত্যুর পরেও রামচন্দ্র পুনর্জীবন লাভ করতে পারেন না | লঙ্কেশ্বর রাবণ এই সর্বব্যাপী প্রতিকূলতার মধ্যে একমাত্র জীবিত পুত্র ইন্দ্ৰজিৎকে তাই যুদ্ধে পাঠাতে দ্বিধাগ্রস্ত |

১৭ “হায়, বিধি বাম মম প্রতি।”—বক্তার এ কথা বলার কারণ আলোচনা করো।

• অগ্রজ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদে বিচলিত ইন্দ্রজিৎ পিতা রাবণের কাছে আসেন এবং রামচন্দ্রকে ‘সমূলে নির্মূল’ করার জন্য অনুমতি চান। পুত্রশোকে যন্ত্রণায় কাতর রাবণ নতুন করে কোনো শোকের সামনে দাঁড়াতে চান না বলেই এ বিষয়ে নিজের অনীহা প্রকাশ করেন। ‘রাক্ষস-কুল-শেখর’ এবং ‘রাক্ষস-কুল-ভরসা’ ইন্দ্রজিৎকে তিনি বলেন—“এ কাল সমরে,/নাহি চাহে প্রাণ মম পাঠাইতে তোমা/বারংবার।” ইন্দ্রজিতের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত রামচন্দ্রের পুনর্জীবন লাভ তাঁকে হতাশ করে। নিয়তির বিরূপতাকেই সমস্ত ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে তিনি লক্ষ করেন।

“...এ কলঙ্ক, পিতঃ, ঘুষিবে জগতে।”—বক্তার এই মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

→ লঙ্কার রাজপুরীতে রামচন্দ্রের আক্রমণ এবং বীরবাহুর মৃত্যু ইত্যাদি ঘটনায় রাক্ষস রাজবংশের মর্যাদার হানি হয়েছে বলে ইন্দ্রজিৎ মনে করেছেন। পিতা রাবণকে নিয়তির বিরূপতায় হতাশ দেখালে ইন্দ্রজিৎ তা দূর করার দায়িত্ব নেন। তিনি তুচ্ছ ‘নর’ রামচন্দ্রকে ভয় পেতে নিষেধ করেন এবং নিজে সেনাপতির দায়িত্ব নিতে চান। দু-বার যে রামচন্দ্রকে পরাজিত করেছেন, তাকে তৃতীয়বার পরাজিত করার জন্য ইন্দ্রজিৎ রাবণের অনুমতি চান |

“দেখিব এবার বীর বাঁচে কি ঔষধে।”—‘এবার’ শব্দটি ব্যবহারের তাৎপর্য কী? বক্তার এমন আত্মবিশ্বাসের কারণই বা কী?

● ইতিপূর্বে ইন্দ্ৰজিৎ দুবার রামচন্দ্রকে যুদ্ধে হারিয়েছেন| ‘এবার’ বলতে তৃতীয়বারের কথা বলেছেন।

● দ্বিতীয়বার যুদ্ধে ইন্দ্রজিৎ মেঘের আড়াল থেকে যুদ্ধ করে রামচন্দ্রকে বধ করেন | কিন্তু মায়াবলে বলীয়ান রামচন্দ্র মৃত্যুর পরও বেঁচে উঠেছেন।ইন্দ্ৰজিৎ একথা জেনেও আত্মপ্রত্যয়ী | তৃতীয়বারেও তিনি রামচন্দ্রকে নাশ করবেন বলে বদ্ধপরিকর | তবু রাবণ তাঁকে যুদ্ধে পাঠাতে দ্বিধাগ্রস্ত | পিতার এই দুর্বল চিত্তে সাহসের সঞ্চার করতে ইন্দ্রজিৎ নিজের আত্মবিশ্বাসকে তুলে ধরেছেন।

“তায় জাগানু অকালে ভয়ে।”—কে, কাকে জাগিয়েছিলেন? তাঁকে কেন জাগিয়ে তোলা হয়েছিল?

কুম্ভকর্ণকে জাগানোর প্রয়োজন হয়েছিল। → লঙ্কেশ্বর রাবণ তাঁর মধ্যম ভ্রাতা কুম্ভকর্ণকে জাগিয়েছিলেন | ● ব্রহ্মার বরে কুম্ভকর্ণ ছ-মাস ঘুমোনোর পর একদিন জাগতেন এবং ওইদিন প্রচুর পরিমাণে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করতেন। এই কুম্ভকর্ণ অমিতবলশালী ছিলেন। ‘মেঘনাদবধ' কাব্যে তাঁকে ‘শূলিশম্ভুনিভ’ বলা হয়েছে। রামের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রার প্রয়োজনে রাবণ অনুচর পাঠিয়ে কুম্ভকর্ণের নিদ্রাভঙ্গ করেন। সুসংগঠিত যুদ্ধপ্রস্তুতি এবং প্রবল প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার জন্য

“আগে পূজ ইষ্টদেবে।”—ইষ্টদেব’ কে? তাঁকে পুজো করার কথা বলা হয়েছে কেন?

→ ইন্দ্রজিতের ইষ্টদেব হলেন ● রাবণ ক্ষত্রিয় বীর এবং ধার্মিক। তিনি মনে করেন ইষ্টদেবকে সন্তুষ্ট করতে পারলে তাঁর মনোবাসনা পূর্ণ হবে। ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধে যাবেন। তাঁকে বিরত করা রাবণের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ ভ্রাতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে ইন্দ্রজিৎ বদ্ধপরিকর। তাই নিতান্তই যখন মেঘনাদ যুদ্ধে যাবেন, তখন ইষ্টদেবের পুজো করা একান্ত আবশ্যক | এর ফলে ইন্দ্রজিতের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবে না।

We are very glad that you want to share.
Thanks for sharing this.